Search

Search

পুতিনকে চটানোর সাহস করবেন মোদি?

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি | ছবি: সংগৃহীত
দ্বিতীয় মেয়াদে মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার কয়েক মাসের মাথায় পুরো বিশ্বে গোল বাঁধিয়ে দিয়েছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। বিশ্বের প্রায় সব দেশের বিরুদ্ধে সে সময় ‘বাণিজ্য যুদ্ধই’ শুরু করে বসেন তিনি! চাপিয়ে দেন শুল্কের বাড়তি বোঝা। ট্রাম্পের অভিযোগ ছিল, সবাই যুক্তরাষ্ট্রের মাথায় কাঁঠাল ভেঙে খাচ্ছে। তাই শুল্ক চাপিয়ে দেশীয় বাজারকে সুরক্ষিত করতে চেয়েছিলেন ট্রাম্প।

সেই যুদ্ধের আগুনে তখন পুড়তে হয় ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম ঘনিষ্ঠ মিত্র ভারতকেও। দেশটির প্রতিবেশীদের তুলনায় ভারতের ওপর শুল্কের বেশ বড় বোঝা চাপিয়ে দেন ট্রাম্প। এ ঘটনার প্রায় ১০ মাস পর ভারতকে কিছুটা স্বস্তির খবর দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। জানালেন, সমঝোতা হয়েছে দুই দেশের। এখন থেকে আগের চেয়ে কম শুল্ক দিতে হবে ভারতকে।

সোমবার নিজের মালিকানা সোশ্যাল প্লাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প লেখেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বন্ধুত্ব ও পারস্পরিক সম্মানের খাতিরে এবং তার অনুরোধে অবিলম্বে কার্যকর হবে এমন একটি বাণিজ্য চুক্তিতে আমরা সম্মত হয়েছি। এ সময় তিনি জানান, তার আরেকটি দাবি মেনে নিয়েছে ভারত। এখন থেকে ভারত আর রাশিয়ার তেল কিনবে না। এজন্য ভারতের ওপর আরোপ করা শুল্ক ২৫ থেকে নামিয়ে ১৮ শতাংশ করার ঘোষণাও দেন ট্রাম্প।

তবে ঠিক এখানেই বেঁধেছে গোল। রাশিয়ার তেল না কেনা নিয়ে ট্রাম্প যে দাবি করেছেন, তা নিয়ে মুখ বন্ধ রেখেছন মোদি। চুক্তির পর তিনি জানান, ট্রাম্পের সঙ্গে তার ‘দারুণ’ ফোনালাপ হয়েছে। ভারতীয় পণ্যে শুল্ক কমিয়ে আনায় ট্রাম্পকে ধন্যবাদও জানান তিনি। তবে রাশিয়ার কাছ থেকে ভারত তেল কিনবে কি না, এমন কথা এড়িয়ে যান ভারতের প্রধানমন্ত্রী। এই তেল কেনার কারণে ভারতের ওপর যুক্তরাষ্ট্র বাড়তি ২৫ শতাংশ শুল্কারোপ করেছিল।

ভারত বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের তৃতীয় বৃহত্তম ক্রেতা। ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর রাশিয়ার তেলের বৃহত্তম ক্রেতা হয়ে ওঠে ভারত। এ নিয়েই ভারতের ওপর অসন্তুষ্ট ছিলেন ট্রাম্প। ভারতকে বার বার আহ্বান জানিয়েছিলেন, রাশিয়ার কাছ থেকে তেল না কিনতে। কিন্তু তাতে মোটেও কান দেননি মোদি। এবার ট্রাম্পের দাবি, সেই ইস্যুতে জট খুলেছে। যদিও মোদি এ নিয়ে মুখ বন্ধ রাখায় জট খোলার বদলে আরও পাকিয়ে গেছে।

এর আগে গেল জানুয়ারিতে ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনে এমন দেশগুলোর ওপর সর্বোচ্চ ৫০০ শতাংশ শুল্কারোপ করা হবে। এজন্য ‘রাশিয়ান স্যাংশনস বিল’ নামে একটি বিলও অনুমোদন দিয়েছিলেন ট্রাম্প। এর উদ্দেশ্য ছিল ভারত ও চীনের মতো দেশগুলোকে রাশিয়ার কাছ থেকে সস্তায় তেল কেনা থেকে বিরত রাখা।

২০২২ সালে ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই কম দামে রাশিয়ার অপরিশোধিত তেল কেনা বাড়িয়ে দেয় ভারত। গেল সপ্তাহে বেশ কয়েকটি সূত্র জানায়, রাশিয়ার কাছ থেকে তেল আমদানি কমিয়ে দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে নয়াদিল্লি। এর কিছুদিন পরই এখন ট্রাম্প জানালেন, ভারত রাশিয়ার তেল কেনা বন্ধই করে দেবে। শনিবার অবশ্য ট্রাম্প আরেকটি দাবি করেছিলেন, জানিয়েছিলেন ভেনেজুয়েলার তেল কিনবে ভারত। কিন্তু বিশ্লেষকরা বলছেন, এটা চাইলেও ভারতের পক্ষে সম্ভব হবে না।

সম্পর্কিত খবর :