পঞ্চগড়ে চতুর্থ শ্রেণি সরকারি কর্মচারীদের বিক্ষোভে সারজিস
জাতীয় বেতন কমিশন ২০২৫-এর সুপারিশকৃত নবম পে স্কেল ও গেজেট প্রকাশের দাবিতে পঞ্চগড়ে অবস্থান ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছে চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীরা। এসময় কর্মসূচিতে যোগ দিয়ে একমত পোষণ করেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলীয় মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম।
মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টার দিকে বাংলাদেশ চতুর্থ শ্রেণি সরকারি কর্মচারী সমিতি পঞ্চগড় জেলা শাখার ব্যানারে পঞ্চগড় জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। পরে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে পঞ্চগড় চৌরঙ্গী মোড়ে পঞ্চগড়-ঢাকা জাতীয় মহাসড়কে অবস্থান কর্মসূচি ও বিক্ষোভ মিছিল পালন করেন তারা।
এসময় বক্তারা বলেন, আমরা দীর্ঘদিন ধরে অনেক কষ্টে দিন পার করছি। অল্প বেতনে পরিবার নিয়ে চলি। আমাদের নবম পে স্কেল দ্রুত বাস্তবায়ন করা হোক। দাবি মানা না হলে কঠোর আন্দোলনে হুঁশিয়ারি দেন বক্তারা।
এসময় বাংলাদেশ চতুর্থ শ্রেণির সরকারি কর্মচারী সমিতি পঞ্চগড় জেলা শাখার সভাপতি নূরে আলম সাধারণ সম্পাদক রবিউল ইসলাম ও সাংগঠনিক সম্পাদক আমিনুর রহমানসহ চতুর্থ শ্রেণি সরকারি কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে নির্বাচনের আগে পে-স্কেল ও গ্রেজেট প্রকাশের দাবি জানিয়ে সারজিস আলম বলেন, ২০২৪ সালের অভ্যুত্থানের সে শব্দটি গুরুত্বপূর্ণ ছিল— তা হলো সংস্কার। যদি দেশটাকে ঠিক দিকে নিয়ে যেতে চাই, সংস্কার করতে চাই। তাহলে সবার আগে আমাদের পলিসিকে সংস্কার করতে হবে। আমরা চাই, যারা সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী আছেন তারা তাদের জায়গা থেকে সৎ থাকুক। কাজে মনোযোগ দিক।
তিনি বলেন, চাকুরিজীবিদের জীবন-যাপন, পরিবার নিয়ে চলা, সন্তান লালন পালনের জন্য ন্যূনতম যতটুকু খরচ প্রয়োজন— আমরা যদি নিশ্চিত করতে না পারি তখনই তাদের অন্য পথ বেছে নিতে হয়। তখনই একজন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে অন্যান্য অনেক বিষয় চিন্তা করতে হয়।
এনসিপির এই নেতা বলেন, স্বাধীনতার পরে যে ধরনের পে স্কেল ছিল আজকে ২৬ সালে দাঁড়িয়ে যে ধরনের পে স্কেল ও বেতন কাঠামো— এটা দিয়ে বাংলাদেশের কোনো মানুষ সুস্থ স্বাভাবিকভাবে জীবনযাপন করতে পারে না। আমরা যদি সিস্টেমটার সংস্কার করতে চাই। আমরা যদি আমাদের জায়গা থেকে এই মানুষগুলোকে দেশের সেবায় সর্বোচ্চ নিয়োজিত হিসেবে দেখতে চাই। তাহলে একজন মানুষের জীবনযাপনের জন্য স্ট্যান্ডার্ড কতটুকু বেতন দরকার সেটুকু নির্ধারণ করে পে স্কেল বাস্তবায়ন করা উচিত।