Search

Search

এপস্টেইনের নথিতে বিশ্বনেতাদের কুকীর্তি ফাঁস

যৌন অপরাধী জেফ্রি এপস্টেইন | ছবি: সংগৃহীত
নতুন নতুন নথি প্রকাশ হচ্ছে, আর স্পষ্ট হচ্ছে জেফ্রি এপস্টেইনের নেটওয়ার্কের জাল কত বিস্তৃত। এপস্টেইন স্ক্যান্ডালে নাম আসেনি এমন দেশের সংখ্যা হাতেগোনা। গেল শুক্রবার এপস্টেইন সংক্রান্ত প্রায় ৩০ লাখ নতুন নথি প্রকাশের পর এ নিয়ে দেশে দেশে শুরু হয়েছে তোলপাড়। ডোনাল্ড ট্রাম্প, ইলন মাস্ক, বিল ক্লিনটন তো বটেই, কুখ্যাত এই যৌন অপরাধীর সঙ্গে সুসম্পর্ক ছিল ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, বিজেপি নেতা হারদিপ সিং, অস্ট্রেলিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী কেভিন রাড থেকে শুরু করে নরওয়ে, স্লোভাকিয়ার মতো দেশগুলোর নেতাদেরও।

ট্রাম্পের মন জয় করতে জেফ্রি এপস্টেইনের পরামর্শে ইসরায়েল গিয়ে নেচেছিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। শুক্রবার এপস্টেইন ফাইলের নতুন নথি প্রকাশের পর থেকেই উপমহাদেশের টক অব দ্য টাউন এই খবর। তবে, শুধু নরেন্দ্র মোদি নন, কুখ্যাত এই যৌন অপরাধীর সাথে সুসম্পর্ক ছিল বিশ্বজুড়ে বহু ক্ষমতাধর ব্যক্তির।

ভারতেরই আরও দুই ব্যক্তির যোগাযোগ ছিল এপস্টেইনের সঙ্গে। যাদের একজন মোদির দলেরই নেতা হারদিপ সিং পুরি, আরেকজন ভারতের নামকরা ধনী পরিবারের সদস্য অনিল আম্বানি। হারদিপ সিং চেষ্টা করেছিলেন ভারতে বিনিয়োগে এপস্টেইনকে আগ্রহী করে তুলতে।

অন্যদিকে ভারতে আসা মার্কিন রাষ্ট্রদূতদের সম্পর্কে তথ্য নেওয়া থেকে শুরু করে মোদির সঙ্গে মার্কিন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের বৈঠক আয়োজনসহ নানা ইস্যুতে এপস্টেইনের সঙ্গে ই-মেইল আদান-প্রদান করেছেন আম্বানি। এই কথোপকথনগুলো হয়েছে ২০০৮ সালের পরে। অর্থাৎ ইতোমধ্যে এপস্টেইন তখন মার্কিন আদালতে যৌন অপরাধী হিসেবে দোষী প্রমাণিত।

এই তালিকায় আছে অস্ট্রেলিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী কেভিন রাড। নথি বলছে, ৮ জুন ২০১৪, স্থানীয় সময় বিকেল সাড়ে ৪টায় ইউএস ভার্জিন আইল্যান্ডে দেখা করেছেন রাড ও এপস্টেইন। তবে এ তথ্যকে মিথ্যা বলতে চাইছেন রাড। তার দাবি, কখনও এপস্টেইনের সঙ্গে দেখাই করেননি।

আগে প্রকাশিত নথিতেও এসেছিল সাবেক ব্রিটিশ মন্ত্রী ও লেবার পার্টির নেতা পিটার ম্যান্ডেলসনের নাম। নতুন নথিতে দেখা গেছে কয়েক দফায় এপস্টেইনের কাছ থেকে ৭৫ হাজার ডলার নিয়েছেন তিনি। অর্থ নেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করলেও লেবার পার্টি থেকে পদত্যাগ করেছেন ম্যান্ডেলসন। গত বছর এপস্টেইনের সঙ্গে সম্পর্কের কারণে যুক্তরাজ্যের মার্কিন রাষ্ট্রদূতের পদ থেকে বরখাস্তও হয়েছিলেন ম্যান্ডেলসন।

মার্কিন বিচার বিভাগ থেকে প্রকাশিত সর্বশেষ নথিতে নরওয়ের ক্রাউন প্রিন্সেস মেটি-মারিটের এপস্টেইন কেলেঙ্কারিতে জড়িত থাকার তথ্য এসেছে। নথিতে দেখা গেছে, এপস্টেইনের সঙ্গে বহু বছর ধরে নিয়মিত যোগাযোগ ছিল তার। এপস্টেইন ফাইলে প্রায় এক হাজার বার মেটি মারিটের নাম এসেছে। তাদের দুজনের মধ্যে রোমান্টিক সম্পর্ক ছিল বলে ধারণা করা হয়। এদিকে নিজের ছেলের জন্য এপস্টেইনের কাছে নগ্ন নারীর ছবি চেয়েছিলেন বলেও সামনে এসেছে।

এপস্টেইনের নতুন নথি প্রকাশের পর স্লোভাকিয়ার জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা মিরোস্লাভ লাজচাকও পদত্যাগ করেছেন। নথিতে থাকা ছবি ও ইমেইল থেকে দেখা গেছে, এপস্টেইনের জেল থেকে মুক্তির কয়েক বছর পর তারা দেখা করেছিলেন। ২০১৮ সালে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্বে থাকাকালীন নারীদের নিয়ে নানা ধরনের টেক্সট বার্তাও আদান-প্রদান করেছিলেন তিনি।

এপস্টেইন যৌন পাচারকারীর বাইরে একজন বড় বিনিয়োগকারী ও ব্যবসায়ী ছিলেন। এ কারণেও অনেকেই তার সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন। অনেকের মতে, এপস্টেইন ফাইলে নাম আসার মানেই এই নয় যে তিনিও এপস্টেইনের অপরাধের সঙ্গী ছিলেন। তবে এপস্টেইনের মতো কুখ্যাত কোনো ব্যক্তির সঙ্গে সুসম্পর্ক রাখা কতটা নৈতিক- এ নিয়ে বিতর্ক চলছেই।

সম্পর্কিত খবর :