‘আমি ভেনেজুয়েলার বৈধ প্রেসিডেন্ট, বাড়ি থেকে তুলে আনা হয়েছে’
নিজেকে ভেনেজুয়েলার বৈধ প্রেসিডেন্ট দাবি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের কাছে আটক দেশটির ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো। নিউইয়র্কের আদালতে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন তিনি।
স্থানীয় সময় সোমবার মাদুরো ও তাঁর স্ত্রীর বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানি শুরু হয়ে তা শেষ হয়।
এদিন আদালতকক্ষে প্রবেশের আগে মাদুরোর পায়ে পরানো শিকলের শব্দ শোনা যায়। শুনানির শেষ দিকে দর্শকসারিতে থাকা এক ব্যক্তি স্প্যানিশ ভাষায় চিৎকার করে মাদুরোকে বলেন, তিনি তার কৃতকর্মের ‘মূল্য দিতে বাধ্য হবেন’। এর জবাবে মাদুরো ওই ব্যক্তির দিকে ফিরে স্প্যানিশ ভাষায় বলেন, তিনি একজন ‘অপহৃত প্রেসিডেন্ট’ এবং একজন ‘যুদ্ধবন্দি’।
৪০ মিনিটের শুনানির সময় একাধিকবার নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন নিকোলাস মাদুরো। শুনানির শুরুতে বিচারক তাকে নিশ্চিত করতে বলেন, তিনি সত্যিই মাদুরো কিনা। মাদুরো তখন আদালতকে জানান, তিনি ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট, তাকে অপহরণ করা হয়েছে।
স্প্যানিশ ভাষায় শান্ত কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘আমাকে ভেনেজুয়েলার কারাকাসে আমার বাড়ি থেকে তুলে নেওয়া হয়েছে।’
আদালতে দাখিল করা অভিযোগপত্রে মোট চারটি অভিযোগের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে মাদক-সন্ত্রাসবাদে ষড়যন্ত্র এবং মেশিনগান ও ধ্বংসাত্মক অস্ত্রের অবৈধ দখল সংক্রান্ত অভিযোগ।
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর আইনগত প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের খ্যাতনামা আইনজীবী ব্যারি জোয়েল পোলাক।
ফেডারেল আদালতের নথির বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে বিবিসি। পোলাক এর আগে উইকিলিকসের প্রতিষ্ঠাতা জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জের পক্ষে আইনজীবী হিসেবে কাজ করে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেন।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ সামরিক অভিযানের সময় মাদুরোর স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেস মুখে আঘাত পান বলে জানা গেছে। নিউইয়র্কের আদালতে শুনানির সময় তার মুখে কয়েকটি চিহ্ন দেখা গেছে।
আইনজীবী জানিয়েছেন, এসব আঘাত তাদের আটক করার সময় লেগেছে। শুনানির সময় আদালতের ভেতরে উপস্থিত সাংবাদিকরা লক্ষ্য করেন, ফ্লোরেসের মাথা ও চোখের পাতা ব্যান্ডেজ করা।
বিচারক প্রসিকিউটরদের নির্দেশ দেন, তাকে সঠিক চিকিৎসা প্রদান নিশ্চিত করতে হবে।