Search

Search

জলকামান অভিবাদন কী? কেন দেওয়া হয়?

করাচির জিন্নাহ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিমান বাংলাদেশের ফ্লাইটকে জলকামান অভিবাদন | ছবি: সংগৃহীত

১৪ বছর বন্ধ থাকার পর সম্প্রতি বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে সরাসরি ফ্লাইট চালু হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বিমান বাংলাদেশের একটি ফ্লাইট করাচির উদ্দেশে ছেড়ে যায়। ১৩৮ যাত্রী নিয়ে ওই ফ্লাইটটি করাচির জিন্নাহ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করলে, সেই বিমানকে ওয়াটার ক্যানন স্যালুট বা জলকামান অভিবাদন দেওয়া হয়। কিন্তু কী এই জলকামান অভিবাদন? আর কেনইবা বিমানকে এ ধরনের অভিবাদন জানানো হয়?

জলকামান অভিবাদন কী?

কোনো একটি বিমানকে আনুষ্ঠানিক সম্মান জানানোর জন্য জলকামান দিয়ে যে অভ্যর্থনা জানানো হয়, তাকে ওয়াটার ক্যানন স্যালুট বা জলকামান অভিবাদন বলে। বিশেষ মুহূর্ত বোঝাতে ঐতিহ্যবাহী এমন অভ্যর্থনা দেওয়া হয়। দুই পাশে দমকল বাহিনীর দুটি ফায়ার ট্রাক দাঁড় করিয়ে মাঝে রাস্তা রাখা হয়। সেই রাস্তা দিয়ে বিমান যাওয়ার সময় দু’পাশ থেকে জলকামান থেকে পানি ছোড়া হয়।

এটা সম্মান, উদযাপন আর শুভকামনার একটি প্রতীকী প্রদর্শন। অনেকটা আনুষ্ঠানিক স্ট্যান্ডিং ওভেশন বা দাঁড়িয়ে অভিবাদন জানানোর মতো। পার্থক্য শুধু এটুকুই, এই অভিবাদন দেওয়া হয় পানি ছুড়ে।

তবে এভাবে তীব্র গতিতে পানি ছুড়লেও এতে বিমানের কোনো ক্ষতি হয় না। কারণ বিমান যখন আকাশে থাকে তখন এর চেয়ে বেশি বৃষ্টির মধ্যেই চলাচল করতে হয়। এ ধরনের অভিবাদন বিমানের যাত্রী ও দর্শকদের জন্য খুবই উত্তেজনাকর একটি মুহূর্ত হয়ে উঠতে পারে।

কবে থেকে এর প্রচলন শুরু?

বিমানকে জলকামান অভিবাদন দেওয়া হলেও এর সূচনার সঙ্গে কিন্তু বিমান চলাচলের সম্পর্কই ছিল না। মেরিটাইম ইন্ডাস্ট্রিতে কোনো জাহাজ যখন প্রথমবার যাত্রা করত, তখন এভাবে অভিবাদন জানানো হতো। দু’পাশ থেকে দুটি ফায়ার বোট থেকে ওই জাহাজ লক্ষ্য করে পানি ছোড়া হতো। এভাবে অভিবাদন জানানোর প্রচলন শুরু হয় ১৯ শতকে। পরবর্তীতে বিমান সংস্থাগুলোও এই ঐতিহ্যকে ধারণ করে।

১৯৯০-র দশকে বিমান সংস্থাগুলো জলকামানের মাধ্যমে অভিবাদন জানানো শুরু করে। যুক্তরাষ্ট্রের সল্ট লেক সিটি ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট তাদের বিদায়ী পাইলটদের সম্মান জানাতে শুরু করে এই জলকামান অভিবাদন। ধীরে ধীরে এই প্রচলন জনপ্রিয়তা পায়। ফলে বিশ্বের অনেক বিমানবন্দর ও বিমান সংস্থাও এই ধারার অনুকরণ করতে থাকে।


কেন দেওয়া হয়?

সাধারণত নতুন বিমান বা নতুন রুট চালু হলে কিংবা বিদায়ী পাইলটের শেষ ফ্লাইটকে জলকামান অভিবাদন দেওয়া হয়। এছাড়া সামরিক বিমান দেশে ফিরলে, ভিআইপি বা বিশেষ অতিথি এলে অথবা বন্ধ হয়ে যাওয়ার আগে কোনো এয়ারলাইন্সের শেষ ফ্লাইটকেও এভাবে সম্মান জানানো হয়।


> বিশেষ অর্জন

বিশেষ কোনো অর্জন হলে সেটা উদযাপনে জলকামান অভিবাদন খুব স্বাভাবিক চর্চা। উদাহরণস্বরূপ বলা যেতে পারে, কোনো একটি এয়ারলাইন নতুন রুটে চলাচল শুরু করলে জলকামান অভিবাদন দেওয়া হয়। আবার দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা রুটে নতুন করে বিমান চালাচল শুরু হলেও এ ধরনের ঐতিহ্যের নজির দেখা যায়। চোখের সামনে থাকা, তেমনই এক নজির হচ্ছে ঢাকা-করাচির বৃহস্পতিবারের ওই ফ্লাইট।

> বিমানের অবসর

কোনো একটি বিমানের বিদায়ী ফ্লাইট বা সেটিকে অবসরে পাঠানোর সময়ও এয়ারলাইন কোম্পানি জলাকামান অভিবাদন দিয়ে থাকে। কোনো বিমান চালানোর খরচ যদি বেশি হয় বা দীর্ঘদিন ধরে চলেছে বা সেটিকে অবসরে পাঠানো হবে, তখনও এমন ঐতিহ্য অনুসরণ করা হয়।

> পাইলটের বিদায়

বিমান সংস্থার বিদায়ী পাইলট, যিনি দীর্ঘ সময় সেবা দিয়েছেন, তাকে এভাবে জলকামান অভিবাদন দেওয়া হয়। আবার কর্মক্ষেত্রে সফল উদ্ধার অভিযান বা কারও জীবন বাঁচালেও জলকামান অভিবাদন দিয়ে সম্মান জানানো হয়ে থাকে।

দুটি আলোচিত জলকামান অভিবাদন

২০০৩ সালের ৩১ মে এয়ার ফ্রান্সের সুপারসনিক কনকর্ড বিমান নিউইয়র্কের জেএফকে এয়ারপোর্ট থেকে শেষবারের মতো উড্ডয়ন করে। বিমানটির ওই ঐতিহাসিক ফ্লাইটের প্রতি সম্মান জানাতে তিনটি ফায়ার ট্রাক থেকে লাল, সাদা ও নীল পানি ছোড়া হয়।

ভারতের ক্রিকেট দল ২০২৪ সালে টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপ জিতে মুম্বাই পৌঁছানোর পর, তাদের বহনকারী বিমানকে এভাবে অভিবাদন জানানো হয়। দলের এমন অর্জনে জলকামান অভিবাদন দিয়ে জাতির গৌরব ও আনন্দ ফুটিয়ে তোলা হয়।

বাংলাদেশ কখনও কোনো ফ্লাইটকে জলকামান অভিবাদন দিয়েছে?

বিশ্বের অন্য দেশের মতো বাংলাদেশেরও জলকামান অভিবাদন জানানোর নজির রয়েছে। ঢাকায় অবতরণকারী অন্তত দুটি বিমানকে এভাবে সম্মান জানায় বাংলাদেশ। ২০২১ সালে ২৭ অক্টোবর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এমিরেটসের একটি ফ্লাইটকে জলকামান অভিবাদন দেওয়া হয়। বাংলাদেশ-আমিরাত রুটে এমিরেটসের ৩৫ বছরের ফ্লাইট পরিচালনার পূর্তি হয় এদিন।


ইথিওপিয়ান এয়ারলাইন্স ২০২৪ সালের ৩ নভেম্বর আদ্দিস আবাবা থেকে ঢাকায় সরাসরি ফ্লাইট চালু করে। উদ্বোধনী ফ্লাইট 787-900 ড্রিমলাইনার এদিন সকাল পৌনে ৯টায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। এসময় ওই ফ্লাইটকে জলকামান দিয়ে অভিবাদন জানানো হয়।

সম্পর্কিত খবর :