Search

Search

এক্সক্লুসিভ ও ব্রেকিং খবর পেতে আপনার মোবাইল নম্বরটি দিন

স্টার পরিবারে আপনাকে স্বাগতম। নিশ্চিন্ত থাকুন, আমরা স্প্যাম করি না।

নবদম্পতিদের ঘর সাজাবেন যেভাবে

নবদম্পতিদের ঘর হোক ভালোবাসাময় | সংগৃহীত
বিয়ের পর নতুন ঘরে ওঠা মানে শুধু একটি বাসা বদল নয়, এটি দু’জন মানুষের একসঙ্গে নতুন জীবন শুরু করার প্রথম অধ্যায়। এই ঘরেই তৈরি হবে ভালোবাসার স্মৃতি, মান-অভিমান, আবার মিলেমিশে থাকার গল্প। তাই নবদম্পতিদের ঘর সাজানো হওয়া উচিত সুন্দর, আরামদায়ক এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

শুরু হোক দু’জনের পছন্দ জানার মধ্য দিয়ে
ঘর সাজানোর আগে প্রথম কাজ হলো পরস্পরের পছন্দ-অপছন্দ জানা। একজন হয়তো হালকা রঙ পছন্দ করেন, অন্যজন গাঢ়। কেউ মিনিমাল লুক ভালোবাসেন, কেউ আবার সাজানো-গোছানো ভরা ঘর। তাই দু’জনে বসে ঠিক করে নিন ঘরটা কেমন হতে পারে, কোন জিনিসগুলো জরুরি, আর কোনগুলো ধীরে ধীরে যোগ করা যাবে। এই আলোচনা সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করবে।

রঙ বাছাইয়ে রাখুন প্রশান্তি
নবদম্পতিদের ঘরের জন্য নরম ও শান্ত রঙ সবচেয়ে ভালো। অফ-হোয়াইট, ক্রিম, হালকা বেইজ, প্যাস্টেল পিংক বা নীল রঙ ঘরকে বড় ও শান্ত দেখায়। খুব উজ্জ্বল বা গাঢ় রঙ পুরো দেয়ালে না দিয়ে কুশন, পর্দা বা বেডশিটে ব্যবহার করা যেতে পারে। এতে ঘরে ভারসাম্য থাকবে।

ফার্নিচার হোক কম কিন্তু প্রয়োজনীয়
নতুন দাম্পত্য জীবনে ঘর ভর্তি ফার্নিচারের চেয়ে প্রয়োজনীয় ও কার্যকর আসবাবই ভালো। একটি আরামদায়ক বিছানা, ছোট সাইড টেবিল, ওয়ারড্রোব ও একটি বসার জায়গা, এগুলোই শুরুতে যথেষ্ট। জায়গা বাঁচাতে স্টোরেজযুক্ত বেড বা মাল্টিফাংশনাল ফার্নিচার বেছে নিতে পারেন।

আলোতেই বদলে যায় ঘরের মুড
আলো ঘরের আবহ তৈরি করে। সিলিং লাইটের পাশাপাশি ব্যবহার করতে পারেন টেবিল ল্যাম্প, ফ্লোর ল্যাম্প বা হালকা ইয়েলো টোনের লাইট। বেডরুমে নরম আলো সম্পর্কের উষ্ণতা বাড়ায়। চাইলে ফেয়ারি লাইট ব্যবহার করে ঘরে রোমান্টিক আবহ আনতে পারেন।

পর্দা ও কাপড়ে আনুন কোমলতা
পর্দা, বেডশিট, কুশন কভার-এই ছোট জিনিসগুলোই ঘরের সাজে বড় ভূমিকা রাখে। হালকা সুতি বা লিনেন কাপড় ঘরকে বাতাস চলাচলের উপযোগী রাখে। রঙ ও ডিজাইনে মিল রেখে কিনলে ঘর দেখাবে গুছানো ও পরিপাটি।

দেয়ালে থাকুক আপনাদের গল্প
ঘরের দেয়াল একঘেয়ে না রেখে সেখানে জায়গা দিন আপনাদের গল্প। বিয়ের ছবি, ট্রাভেল ফটো, হাতে লেখা কোনো উক্তি বা ফ্রেমে বাঁধানো প্রিয় কবিতার লাইন এইসব মিলিয়ে দেয়াল হয়ে উঠুক স্মৃতির ক্যানভাস। এতে ঘরে ঢুকলেই নিজের ঘর বলে অনুভূত হবে।

গাছপালায় জীবনের ছোঁয়া
একটি বা দুটি ইনডোর গাছ ঘরের পরিবেশ বদলে দেয়। মানি প্ল্যান্ট, স্নেক প্ল্যান্ট বা এরেকা পাম এই গাছগুলোতে যত্ন কম লাগে, কিন্তু ঘরে এনে দেয় সতেজতা। নবদম্পতিদের জীবনের মতোই গাছগুলোও ধীরে ধীরে বেড়ে উঠবে।

ব্যক্তিগত স্পেসের গুরুত্ব ভুলবেন না
একসঙ্গে থাকার অর্থ এই নয় যে ব্যক্তিগত স্পেস থাকবে না। ঘরের কোন কোণে একটি ছোট পড়ার জায়গা, কাজের টেবিল বা নিজের মতো সময় কাটানোর স্পট রাখুন। এতে সম্পর্ক আরও স্বাস্থ্যকর হয়।

সময়ের সাথে সাজ বদলাতে দিন
সবকিছু একসঙ্গে কিনতে বা সাজাতে হবে এমন কোন বাধ্যবাধকতা নেই। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে, অভিজ্ঞতার আলোকে ঘরের সাজও বদলাবে। এই বদলই আপনাদের দাম্পত্য জীবনের প্রতিচ্ছবি হয়ে উঠবে।

নবদম্পতিদের ঘর তাই নিখুঁত হওয়ার চেয়ে হোক ভালোবাসায় ভরা, স্বাচ্ছন্দ্যে মোড়া এবং দু’জনের মিলিত স্বপ্নের প্রতিফলন। এই ঘরেই তো শুরু হবে সারাজীবনের গল্প।

সম্পর্কিত খবর :