Search

Search

এক্সক্লুসিভ ও ব্রেকিং খবর পেতে আপনার মোবাইল নম্বরটি দিন

স্টার পরিবারে আপনাকে স্বাগতম। নিশ্চিন্ত থাকুন, আমরা স্প্যাম করি না।

বিজয়ের সাজে দেশপ্রেম

মডেল: নির্জনা নুসরাত

১৬ ডিসেম্বর এলেই বাংলাদেশের বাতাসে এক আলাদা অনুভূতি ভেসে বেড়ায়। এই দিনটিতে আমরা শুধু অতীত স্মরণ করি না, বরং নিজেদের পরিচয় নতুন করে তুলে ধরি। বিজয় দিবসে সেই পরিচয়ের সবচেয়ে সুন্দর প্রকাশ ঘটে আমাদের পোশাক, সাজ আর রুচির মাধ্যমে। বয়স বা লিঙ্গভেদনয়- ছেলে, মেয়ে কিংবা শিশু সবার ফ্যাশনেই জায়গা করে নেয় লালসবুজ।বিজয়ের ফ্যাশন মানে শুধু সুন্দর দেখানো নয় , বরং গর্ব করে বলা – এই দেশ আমার , এই বিজয় আমার ।

ছেলেদের ফ্যাশন

বিজয় দিবসে ছেলেদের পোশাকে এখন সরল কিন্তু অর্থবহ স্টাইলই বেশি জনপ্রিয়। সাদা বা অফ-হোয়াইট পাঞ্জাবির সঙ্গে লাল-সবুজের সূক্ষ্ম কাজ অনেকের প্রথম পছন্দ। কেউ কেউ পাঞ্জাবির কলার, বোতাম বা পকেটে ছোট্ট পতাকার মোটিফ রাখছেন।

খাদি বা তাঁতের পাঞ্জাবি এই দিনে আলাদা গুরুত্ব পায়। এগুলো যেমন আরামদায়ক, তেমনি দেশীয় ঐতিহ্যের প্রতীক। নিচে সাদা পায়জামা বা কালো চুরিদার সব মিলিয়ে তৈরি হয় পরিমিত কিন্তু রুচিশীল লুক।

অ্যাকসেসরিজেও দেখা যায় দেশপ্রেমের ছোঁয়া। ছোট লাল-সবুজ ব্যাজ, রিস্টব্যান্ড, পকেট স্কয়ার বা হাতে আঁকা পতাকাএসবই ছেলেদের সাজে বাড়তি অর্থ যোগ করে।

মেয়েদের ফ্যাশন

বিজয় দিবসে মেয়েদের ফ্যাশনে সবচেয়ে বেশি দেখা যায় বৈচিত্র্য। শাড়ি থেকে শুরু করে কুর্তি, থ্রি-পিস বা গাউন সব পোশাকেই লাল-সবুজের উপস্থিতি। অনেকেই বেছে নেন সাদা শাড়িতে লাল পাড়, আবার কেউ জামদানিতে রাখেন সবুজ নকশা।

যাঁরা হালকা সাজ পছন্দ করেন, তাঁরা কুর্তি বা টপের সঙ্গে লাল-সবুজ ওড়না ব্যবহার করেন। আধুনিক মেয়েরা জিন্সের সঙ্গে দেশীয় মোটিফের টপও পরছেন, যা দেশপ্রেমকে নতুনভাবে তুলে ধরে।

গয়নার ক্ষেত্রেও দেশীয় ভাবই প্রাধান্য পায়। রুপার কানের দুল, মাটির গয়না, হাতে বানানো লাল-সবুজ চুড়ি বা কাঠের নেকলেস এসব গয়নাই বিজয় দিবসের সঙ্গে সবচেয়ে মানানসই। ভারী সাজ না হলেও হালকা গয়নাতেই ফুটে ওঠে বিজয়ের দিনের আবেগ।

শিশুদের ফ্যাশন

শিশুদের বিজয় দিবসের পোশাক মানেই আনন্দ আর রঙ। ছোটদের জন্য লাল-সবুজ ফ্রক, পাঞ্জাবি-পায়জামা বা টি-শার্ট এখন খুব জনপ্রিয়। অনেক পোশাকেই লেখা থাকেবাংলাদেশ’, ‘১৬ ডিসেম্বরকিংবা আঁকা থাকে ছোট্ট পতাকা।

মেয়েশিশুরা লাল-সবুজ ফিতা, চুড়ি বা হেয়ারব্যান্ডে সাজে, আর ছেলেশিশুরা ছোট ব্যাজ বা টুপি পরে নেয়। এই ছোট ছোট সাজই শিশুদের মনে দেশের প্রতি ভালোবাসা তৈরি করে।

গয়না ও ছোট সাজে

বিজয় দিবসে গয়না মানে ভারী অলংকার নয়। বরং ছোট, অর্থবহ গয়নাই বেশি মানায়। হাতে বানানো ব্রোচ, কাপড়ের ব্যাজ, লাল-সবুজ পুঁতির নেকলেস বা স্কার্ফ এসবই ফ্যাশনের অংশ।

অনেকেই নেইল আর্টে, মেহেদিতে বা হাতে আলপনায় তুলে ধরেন পতাকা বা মানচিত্র।

ফ্যাশনের বাইরেও ভাবনা

ফ্যাশনে দেশপ্রেম মানে শুধু ভালো দেখা নয়। মানে সচেতন হওয়া ,দেশীয় কাপড় ব্যবহার করা, স্থানীয় কারিগরদের পাশে দাঁড়ানো, অপচয় এড়িয়ে চলা। বিজয় দিবসে এই ছোট সিদ্ধান্তগুলোই বড় অর্থ বহন করে।

লালসবুজ যখন আমরা পরি, তখন মনে রাখতে হয় এই রঙের পেছনে আছে অনেক ত্যাগ আর ইতিহাস। তাই ফ্যাশন হোক হালকা কিন্তু অনুভূতিতে গভীর। কারণ বিজয় দিবসে পোশাক শুধু সাজ নয়, এটি আমাদের দেশপ্রেমের প্রকাশ।

সম্পর্কিত খবর :