Search

Search

এক্সক্লুসিভ ও ব্রেকিং খবর পেতে আপনার মোবাইল নম্বরটি দিন

স্টার পরিবারে আপনাকে স্বাগতম। নিশ্চিন্ত থাকুন, আমরা স্প্যাম করি না।

অগোছালো ঘর কি বাড়িয়ে দেয় মানসিক চাপ?

সংগৃহীত
মানুষের মন ও চারপাশের পরিবেশের মধ্যে যে এক অদৃশ্য যোগসূত্র রয়েছে, তা আমরা অনেক সময় গুরুত্ব দিয়ে ভাবি না। অথচ প্রতিদিন যে ঘরে আমরা বসবাস করি, সেই ঘরের গুছানো বা অগোছালো অবস্থাআমাদের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে। ঘর শুধু বিশ্রামের জায়গা নয়—এটি আমাদের চিন্তা, অনুভূতি ও অভ্যাসের প্রতিফলন।

অগোছালো ঘর মানে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা জিনিসপত্র, অপ্রয়োজনীয় সামগ্রীর স্তূপ, এলোমেলো আলমারি বা টেবিল। প্রথমে হয়তো বিষয়টি তেমন গুরুত্ব পায় না, কিন্তু ধীরে ধীরে এই অগোছালো পরিবেশ মনের ওপর
চাপ তৈরি করে। মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, এমন পরিবেশে মস্তিষ্ক একসঙ্গে অনেক তথ্য গ্রহণ করতে বাধ্য হয়। ফলে মনোযোগ কমে যায়, সিদ্ধান্ত নিতে দ্বিধা তৈরি হয় এবং অস্থিরতা বাড়ে।

দীর্ঘদিন অগোছালো পরিবেশে বসবাস করলে উদ্বেগ, মানসিক চাপ ও ক্লান্তি বাড়তে পারে। বিশেষ করে যারা সারাদিন কাজের চাপের মধ্যে থাকেন, তাদের জন্য ঘর হওয়া উচিত মানসিক প্রশান্তির জায়গা। কিন্তু ঘর যদি
নিজেই অগোছালো হয়, তাহলে বিশ্রামের সময়েও মন শান্ত হতে পারে না। ঘরের এলোমেলো জিনিসপত্র মস্তিষ্ককে বারবার মনে করিয়ে দেয়, এখানে অনেক কাজ অসম্পূর্ণ রয়ে গেছে।

অগোছালো ঘর অনেক সময় মানসিক অবস্থারও ইঙ্গিত দেয়। বিষণ্ণতা বা মানসিক অবসাদের সময় মানুষ নিজের চারপাশ গুছিয়ে রাখার আগ্রহ হারিয়ে ফেলে। আবার উল্টো দিক থেকেও বিষয়টি কাজকরে—দীর্ঘদিন অগোছালো পরিবেশে থাকলে মানসিক অবসাদ আরও তীব্র হতে পারে। এভাবে অগোছালো ঘর ও খারাপ মানসিক স্বাস্থ্য একে অপরকে প্রভাবিত করে একটি চক্র তৈরি করে।

অন্যদিকে, পরিপাটি ও গোছানো ঘর মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য ইতিবাচক ভূমিকা রাখে। পরিষ্কার পরিবেশ চোখে আরাম দেয়, মনে তৈরি করে নিয়ন্ত্রণ ও স্থিরতার অনুভূতি। একটি গুছানো ঘরে বসে কাজ করলে মনোযোগবাড়ে, চিন্তাভাবনা পরিষ্কার হয়। অনেকেই লক্ষ্য করেন, ঘর পরিষ্কার বা গুছিয়ে নেওয়ার পর অদ্ভুত এক স্বস্তি অনুভব করেন, যেন মনের ভেতরের বিশৃঙ্খলাও কিছুটা কমে গেছে।

ঘর গোছানোকে তাই অনেক বিশেষজ্ঞ মানসিক থেরাপির সঙ্গে তুলনা করেন। অপ্রয়োজনীয় জিনিস ফেলে দেওয়া মানে শুধু জায়গা খালি করা নয়, মানসিকভাবেও নিজেকে হালকা করা। পুরনো জিনিসের সঙ্গে জড়িয়েথাকা স্মৃতি, অপরাধ-বোধ বা অতীতের ভার অনেক সময় আমাদের অজান্তেই মানসিক চাপ বাড়ায়। সেগুলো সরিয়ে ফেললে নতুনভাবে শুরু করার অনুভূতি তৈরি হয়।

তবে এটাও সত্য, সব ধরনের অগোছালো ঘর মানেই মানসিক সমস্যা, এমন নয়। সৃজনশীল মানুষদের কাজের জায়গা অনেক সময় কিছুটা এলোমেলো হতে পারে। সমস্যা তখনই, যখন এই অগোছালো অবস্থা দৈনন্দিন জীবনে বিরক্তি তৈরি করে, কাজের গতি কমিয়ে দেয় বা মানসিক চাপ বাড়িয়ে তোলে।

মানসিক স্বাস্থ্যের যত্ন নিতে চাইলে তাই ঘরের পরিবেশের দিকেও নজর দেওয়া জরুরি। প্রতিদিন অল্প সময় নিয়ে ঘর গুছিয়ে রাখা, অপ্রয়োজনীয় জিনিস জমতে না দেওয়া, নির্দিষ্ট জায়গায় নির্দিষ্ট জিনিস রাখারঅভ্যাস—এই ছোট ছোট পদক্ষেপই বড় পরিবর্তন আনতে পারে।

সুস্থ মন কেবল নিজের ভেতরের যত্নেই সীমাবদ্ধ নয়, চারপাশের পরিবেশও এর সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। অনেক সময় মানসিক প্রশান্তির পথ শুরু হয় একটি পরিপাটি, শান্ত ও গোছানো ঘর থেকেই।

সম্পর্কিত খবর :