শীতে হাত-পায়ের যত্ন
দেশজুড়ে চলমান শৈত্যপ্রবাহে শীত যেন এবার আরও কড়া রূপ নিয়েছে। কনকনে ঠাণ্ডা বাতাস, ঘন কুয়াশা আর হিমেল আবহাওয়ার সরাসরি প্রভাব পড়ছে আমাদের ত্বকে, বিশেষ করে হাত ও পায়ে। অনেকেরই হাত-পাঅতিরিক্ত শুষ্ক হয়ে যাচ্ছে, ফেটে রক্ত বের হচ্ছে, আবার কারও হচ্ছে চুলকানি ও জ্বালা-পোড়া। এই সময়টায় হাত-পায়ের নিয়মিত যত্ন না নিলে সমস্যা আরও বাড়তে পারে।
শীতকালে ত্বকের প্রাকৃতিক তেল দ্রুত কমে যায়। তাই প্রথম ও সবচেয়ে জরুরি ধাপ হলো পরিষ্কার রাখার পরই ময়েশ্চারাইজিং। হাত ধোয়ার পর বা পা পরিষ্কার করার পর সঙ্গে সঙ্গে ভালো মানের ময়েশ্চারাইজার ব্যবহারকরুন। শিয়া বাটার, গ্লিসারিন, অ্যালোভেরা বা নারকেল তেলযুক্ত ক্রিম শীতে বেশ কার্যকর। দিনে অন্তত দুই থেকে তিনবার হাত-পায়ে ময়েশ্চারাইজার লাগানোর অভ্যাস গড়ে তুলুন।
হাতের যত্ন
হাতের ত্বক রক্ষা করতে বাইরে বের হলে দস্তানা ব্যবহার খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ঠাণ্ডা বাতাস সরাসরি লাগলে হাত দ্রুত শুষ্ক হয়ে যায়। রান্না বা বাসন ধোয়ার সময় কেমিক্যালযুক্ত ডিটারজেন্ট হাতের ত্বকের ক্ষতি করে, তাইপ্রয়োজনে রাবার গ্লাভস ব্যবহার করুন। আর রাতে ঘুমানোর আগে হাত ভালো করে ধুয়ে ঘন ক্রিম লাগিয়ে তুলার দস্তানা পরে নিলে সকালে হাত থাকবে অনেক বেশি নরম।
পায়ের যত্ন
পায়ের যত্নেও চাই বাড়তি মনোযোগ। শীতে অনেকেই পা ঢাকা রাখেন বলে যত্ন নেওয়ার কথা ভুলে যান। সপ্তাহে অন্তত একদিন কুসুম গরম পানিতে ১০- ১৫ মিনিট পা ভিজিয়ে রাখুন। এতে পায়ে জমে থাকা ময়লা ও মৃতকোষ নরম হবে। এরপর পিউমিক স্টোন বা ফুট স্ক্রাব দিয়ে আলতো করে ঘষে নিন। তারপর ঘন ফুট ক্রিম বা ভ্যাসলিন লাগিয়ে নিন। ফাটা গোড়ালি কমাতে এই পদ্ধতি বেশ কার্যকর।
এছাড়া, ফাটা গোড়ালির জন্য ভ্যাসলিন ও লেবুর রস খুবই উপকারী। এক চামচ ভ্যাসলিনের সঙ্গে কয়েক ফোঁটা লেবুর রস মিশিয়ে রাতে গোড়ালিতে লাগান। তারপর মোটা মোজা পরে ঘুমান। নিয়মিত ব্যবহার করলেগোড়ালির ফাটল ধীরে ধীরে কমে আসে। চাইলে ভ্যাসলিনের বদলে সরিষার তেল বা নারকেল তেলও ব্যবহার করতে পারেন।
পায়ের ত্বক নরম ও উজ্জ্বল রাখতে দই, মধু ও চালের গুঁড়ার প্যাক ব্যবহার করা যায়। দুই চামচ দই, এক চামচ মধু ও এক চামচ চালের গুঁড়া মিশিয়ে পায়ে লাগান। ১৫–২০ মিনিট পর হালকা হাতে ঘষে ধুয়ে ফেলুন। এটিত্বকের শুষ্কতা কমায় এবং মৃত কোষ দূর করে।
শীতে গরম পানি ব্যবহার সীমিত রাখা জরুরি। খুব গরম পানি ত্বকের প্রাকৃতিক আর্দ্রতা নষ্ট করে দেয়। তাই, হাত-পা ধোয়ার সময় হালকা গরম বা স্বাভাবিক তাপমাত্রার পানি ব্যবহার করাই ভালো।
বাইরের যত্নের পাশাপাশি ভেতর থেকেও ত্বককে সুস্থ রাখতে হবে। পর্যাপ্ত পানি পান করুন, যদিও শীতে তৃষ্ণা কম লাগে। শাকসবজি, ফলমূল ও ওমেগা-থ্রি সমৃদ্ধ খাবার ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখতে সাহায্য করে।
শীতের রুক্ষতা হাত-পায়ের সৌন্দর্য নষ্ট করতেই পারে, তবে নিয়মিত ও সঠিক যত্নে তা সহজেই এড়ানো সম্ভব।