Search

Search

এক্সক্লুসিভ ও ব্রেকিং খবর পেতে আপনার মোবাইল নম্বরটি দিন

স্টার পরিবারে আপনাকে স্বাগতম। নিশ্চিন্ত থাকুন, আমরা স্প্যাম করি না।

শীতে চুলের খুশকি দূর করবেন যেভাবে

শুষ্ক আবহাওয়া আর কম আর্দ্রতায় মাথার ত্বকে খুশকি হয় | সংগৃহীত

শীত এলেই ত্বকের মতো চুলের সমস্যাও বেড়ে যায়। ঠাণ্ডা বাতাস, শুষ্ক আবহাওয়া আর কম আর্দ্রতার কারণে মাথার ত্বক রুক্ষ হয়ে পড়ে, যার ফলেই খুশকি দেখা দেয়। অনেকের ক্ষেত্রে এই খুশকি শুধু চুলে সাদা গুঁড়োর মতোই নয়, সঙ্গে চুলকানি, জ্বালা ও চুল পড়ার সমস্যাও তৈরি করে। তবে একটু যত্ন আর সচেতন অভ্যাস গড়ে তুললে শীতকালেও খুশকি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।

শীতে খুশকি কেন বাড়ে

শীতকালে আমাদের মাথার ত্বক স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি শুষ্ক হয়ে যায়। ঠাণ্ডা পানিতে গোসল, গরম পানির অতিরিক্ত ব্যবহার এবং শ্যাম্পু বেশি করে ব্যবহার করলেও ত্বকের প্রাকৃতিক তেল নষ্ট হয়। ফলে স্ক্যাল্পে শুষ্কতা বাড়ে এবং মৃত কোষ জমে খুশকির সৃষ্টি হয়। আবার অনেক সময় শীতে মাথা ঢেকে রাখার কারণে ঘাম ও ধুলো জমে ফাঙ্গাল সংক্রমণও খুশকি বাড়াতে পারে।

সঠিক তেল ব্যবহার করুন

শীতে নিয়মিত তেল ব্যবহার খুশকি কমানোর অন্যতম সহজ উপায়। নারকেল তেল, অলিভ অয়েল বা বাদাম তেল স্ক্যাল্পে ভালোভাবে ম্যাসাজ করলে মাথার ত্বক আর্দ্র থাকে। সপ্তাহে অন্তত দুই দিন হালকা গরম তেল আঙুলের ডগা দিয়ে স্ক্যাল্পে লাগিয়ে ৩০ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলুন। এতে শুষ্কতা কমে এবং খুশকি ধীরে ধীরে হ্রাস পায়।

ঘরোয়া প্যাক ও প্রাকৃতিক উপাদান

খুশকি দূর করতে ঘরোয়া উপায় বেশ কার্যকর। টক দইয়ের সঙ্গে কয়েক ফোঁটা লেবুর রস মিশিয়ে স্ক্যাল্পে লাগালে ফাঙ্গাল সমস্যা কমে। আবার অ্যালোভেরা জেল সরাসরি মাথার ত্বকে লাগিয়ে ২০ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেললেও আরাম পাওয়া যায়। মেথি ভেজানো পানি বা পেস্ট সপ্তাহে একবার ব্যবহার করলে খুশকি নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং চুল নরম হয়।

সঠিক শ্যাম্পু ও ধোয়ার নিয়ম

শীতে প্রতিদিন চুল ধোয়া একেবারেই ঠিক নয়। এতে স্ক্যাল্প আরও শুষ্ক হয়ে যায়। সপ্তাহে দুই থেকে তিন দিন হালকা, সালফেটমুক্ত অ্যান্টি-ড্যানড্রাফ শ্যাম্পু ব্যবহার করুন। খুব গরম পানি নয়, হালকা কুসুম গরম পানিতে চুল ধোয়া ভালো। শ্যাম্পুর পর অবশ্যই কন্ডিশনার ব্যবহার করুন, তবে তা যেন সরাসরি স্ক্যাল্পে না লাগে।

খাদ্যাভ্যাস ও পানি পান

খুশকি শুধু বাহ্যিক সমস্যা নয়, এর জন্য ভেতরের যত্নও জরুরি। শীতে অনেকেই পানি কম পান করেন, যা ত্বক ও চুলের শুষ্কতা বাড়ায়। প্রতিদিন পর্যাপ্ত পানি পান করুন। খাদ্যতালিকায় শাকসবজি, ফল, ডিম, বাদাম, ওমেগা-৩ সমৃদ্ধ খাবার রাখুন। ভিটামিন বি ও জিঙ্কের অভাব খুশকি বাড়াতে পারে, তাই সুষম খাবার খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

জীবনযাপনে সচেতনতা

চুল ভেজা অবস্থায় বাইরে যাওয়া বা দীর্ঘ সময় মাথা ঢেকে রাখা এড়িয়ে চলুন। নিয়মিত চিরুনি পরিষ্কার করুন এবং কারও সঙ্গে চিরুনি শেয়ার করবেন না। অতিরিক্ত হেয়ার স্প্রে, জেল বা কেমিক্যালযুক্ত প্রোডাক্ট ব্যবহার কমিয়ে দিন।

শীতের খুশকি কোন জটিল সমস্যা নয়। নিয়মিত যত্ন, সঠিক অভ্যাস আর প্রাকৃতিক উপায়ের মাধ্যমে সহজেই এই সমস্যা নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়। একটু সচেতন হলেই শীতকালেও থাকবে সুস্থ স্ক্যাল্প আর ঝরঝরে, সুন্দর চুল।

সম্পর্কিত খবর :