Search

Search

ছোট রান্নাঘর গুছিয়ে রাখার কৌশল

গুছানো রান্নাঘর রান্নার প্রতি আগ্রহ বাড়ায় | সংগৃহীত
শহুরে জীবনে বাসার জায়গা দিন দিন ছোট হচ্ছে। বিশেষ করে ফ্ল্যাটবাড়িতে রান্নাঘর অনেক সময়ই হয় ছোট ও সংকুচিত। অথচ এই ছোট্ট জায়গাতেই প্রতিদিনের খাবার তৈরি, জিনিসপত্র সংরক্ষণ আর পরিষ্কার–পরিচ্ছন্নতার বড় কাজ জড়িত। অল্প জায়গায় বেশি কাজ করতে হলে দরকার বুদ্ধিদীপ্ত পরিকল্পনা ও সঠিকভাবে গুছিয়ে রাখার কৌশল। সামান্য কিছু অভ্যাস বদলালেই ছোট রান্নাঘরও হয়ে উঠতে পারে আরামদায়ক ও ব্যবহার-বান্ধব।

জায়গার সর্বোচ্চ ব্যবহার করুন
ছোট রান্নাঘরে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ জায়গার অভাব। তাই দেয়ালের উল্লম্ব জায়গা কাজে লাগান। দেয়ালে হুক লাগিয়ে খুন্তি, খুপরি, ঝাঁঝরি ঝুলিয়ে রাখা যায়। ওপরে দেয়াল ঘেঁষে তাক বসালে কম ব্যবহার হওয়া জিনিস রাখা সুবিধাজনক। ক্যাবিনেটের ভেতরে স্তরভিত্তিক শেলফ বা স্ট্যান্ড ব্যবহার করলে এক জায়গায় বেশি জিনিস রাখা যায়, আবার খুঁজে পেতেও সহজ হয়।

অপ্রয়োজনীয় জিনিস সরিয়ে ফেলুন
রান্নাঘরে এমন অনেক বাসন বা যন্ত্র থাকে, যেগুলো মাসের পর মাস ব্যবহারই হয় না। অপ্রয়োজনীয় বা কম ব্যবহৃত জিনিস আলাদা করে রেখে দিন। প্রয়োজন হলে অন্য জায়গায় সংরক্ষণ করুন। এতে রান্নাঘরের মূল জায়গা হালকা থাকবে এবং কাজ করতে সুবিধা হবে। নিয়মিত তিন-চার মাস পরপর কিচেন রিভিউ করার অভ্যাস গড়ে তুলুন।

স্মার্ট স্টোরেজ সমাধান
ছোট জায়গায় স্মার্ট স্টোরেজ খুব জরুরি। ক্যাবিনেটের দরজার ভেতরের অংশে ছোট ঝুলন্ত ঝুড়ি লাগিয়ে মশলার প্যাকেট বা ছোট বোতল রাখা যায়। সিঙ্কের নিচের জায়গায় টানেল বা ড্রয়ার টাইপ স্টোরেজ বসালে পরিষ্কারক সামগ্রী ও অতিরিক্ত জিনিস রাখা যায়। ট্রলির মতো চলমান স্টোরেজ থাকলে প্রয়োজনে সরিয়ে নেওয়া যায়।

জিনিসের নির্দিষ্ট জায়গা নির্ধারণ করুন
প্রতিটি জিনিসের আলাদা জায়গা থাকলে রান্নাঘর স্বয়ংক্রিয়ভাবেই গুছানো থাকে। যেমন—মশলা থাকবে এক জায়গায়, কাঁটা-চামচ থাকবে আলাদা ড্রয়ারে, রান্নার হাঁড়ি-পাতিল থাকবে নির্দিষ্ট তাকেই। কাজ শেষে যে জিনিস যেখান থেকে নেওয়া হয়েছে, সেখানেই গুছিয়ে রাখার অভ্যাস গড়ে তুলুন। এতে সময় বাঁচে, বিরক্তিও কমে।

আলো ও রঙে বাড়ান প্রশস্ততার অনুভূতি
ছোট রান্নাঘরে হালকা রঙ ব্যবহার করলে জায়গা তুলনামূলক বড় দেখায়। দেয়াল ও ক্যাবিনেটে সাদা, হালকা ধূসর বা প্যাস্টেল রঙ ব্যবহার করা যেতে পারে। পর্যাপ্ত আলো থাকলে রান্নাঘর খোলামেলা লাগে। সম্ভব হলে প্রাকৃতিক আলো ঢোকার ব্যবস্থা রাখুন। এলইডি আন্ডার-ক্যাবিনেট লাইট ব্যবহার করলে কাজের জায়গা পরিষ্কারভাবে দেখা যায়।

নিয়মিত পরিষ্কার ও রুটিন তৈরি করুন
গুছিয়ে রাখার সবচেয়ে বড় চাবিকাঠি হল নিয়মিত পরিষ্কার। প্রতিদিন রান্নার পর চুলা, কাউন্টারটপ ও সিঙ্ক পরিষ্কার করার অভ্যাস করুন। সপ্তাহে একদিন ক্যাবিনেটের ভেতর ঝাড়ু বা কাপড় দিয়ে মুছে নিন। মাসে একবার পুরো রান্নাঘর গোছানোর দিন নির্ধারণ করলে অগোছালো হওয়ার সুযোগ কমে যায়।

মিনিমালিজম মেনে চলুন
ছোট রান্নাঘরের জন্য কম জিনিস, বেশি কাজ নীতি সবচেয়ে কার্যকর। মাল্টিফাংশনাল বাসনপত্র ব্যবহার করুন, যেগুলো একাধিক কাজে লাগে। অপ্রয়োজনীয় ডেকোর বা অতিরিক্ত সামগ্রী কমিয়ে দিন। এতে জায়গা যেমন বাঁচবে, তেমনি রান্নাঘর পরিষ্কার ও ঝরঝরে থাকবে।

অভ্যাস বদলান, অভিজ্ঞতা সুন্দর করুন
গুছিয়ে রাখা কেবল সাজসজ্জা নয়, এটি এক ধরনের অভ্যাস। প্রতিদিনের ছোট ছোট সচেতনতা ছোট রান্নাঘরকে করে তুলতে পারে কাজের জন্য আরামদায়ক। একটি গুছানো রান্নাঘর মানেই শুধু জায়গার সঠিক ব্যবহার নয়; এটি মানসিক প্রশান্তিও এনে দেয়। কাজ করতে ভালো লাগে, রান্নার প্রতি আগ্রহ বাড়ে, আর দৈনন্দিন জীবন হয়ে ওঠে একটু সহজ, একটু সুন্দর।

সম্পর্কিত খবর :