Search

Search

শিশুর বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলবেন যেভাবে

শিশুর বই পড়া | সংগৃহীত
একটা সময় ছিল যখন শিশুর ঘুমপাড়ানি মানেই মায়ের কণ্ঠের গুণগুণ গান আর বইয়ের পাতার রূপকথা, উপকথার গল্প। এখন সেই জায়গা অনেকটাই দখল করে নিয়েছে মোবাইল স্ক্রিন আর কার্টুন ভিডিও। ফলে ধীরে ধীরে বইয়ের গল্প যেন শিশুদের জীবন থেকে হারিয়ে যেতে বসেছে। অথচ একটি বই শুধু গল্প বলে না, শিশু মনে চিন্তা করতে শেখায়, কল্পনাকে ডানা দেয়, শব্দের সঙ্গে বন্ধুত্ব গড়ে তোলে।

ছোটবেলা থেকেই যদি বইয়ের সঙ্গে বন্ধুত্ব তৈরি করা যায়, তবে সেই অভ্যাস আজীবনের সঙ্গী হয়ে থাকে। তাই প্রশ্ন একটাই—এই স্ক্রিনমুখী সময়েও কীভাবে শিশুর হাতে আবার তুলে দেওয়া যায় বইয়ের পাতার জাদু? সহজ কিছু উপায়েই গড়ে তোলা সম্ভব শিশুর বই পড়ার অভ্যাস।

বইয়ের সঙ্গে পরিচয় হোক আনন্দের মাধ্যমে

শিশুকে বই পড়তে বাধ্য না করে বইয়ের সঙ্গে আনন্দের সম্পর্ক গড়ে তোলা জরুরি। রঙিন ছবি, বড় অক্ষর আর সহজ ভাষার বই শিশুর কাছে বেশি আকর্ষণীয় হয়। শুরুতে গল্পের বই, ছড়া বা ছবির বই দিয়ে আগ্রহ তৈরি করুন। বই মানেই যে পড়াশোনার চাপ এই ধারণা ভাঙতে পারলে শিশুরা নিজে থেকেই বইয়ের দিকে ঝুঁকবে।

বাবা-মায়ের উদাহরণই সবচেয়ে বড় প্রেরণা

শিশুরা সবচেয়ে বেশি শেখে দেখে দেখে। ঘরে যদি বাবা-মা বই পড়েন, পত্রিকা বা গল্পের বইয়ের সঙ্গে সময় কাটান, শিশুও সেটিকে স্বাভাবিক অভ্যাস হিসেবে গ্রহণ করবে। দিনে কিছু সময় পরিবারের সবাই মিলে বই পড়ার পরিবেশ তৈরি করা যেতে পারে। এতে বই পড়া শিশুর কাছে একটি পারিবারিক আনন্দে পরিণত হয়।

নির্দিষ্ট সময় ও রুটিন গড়ে তুলুন

প্রতিদিন নির্দিষ্ট একটি সময় বই পড়ার জন্য ঠিক করে দিন। যেমন, ঘুমানোর আগে ১৫–২০ মিনিট গল্প পড়া। নিয়মিত এই অভ্যাস গড়ে উঠলে শিশুর মনে বই পড়া দৈনন্দিন জীবনের অংশ হয়ে যাবে। শুরুতে সময় কম হলেও ধীরে ধীরে তা বাড়ানো যেতে পারে।

শিশুকে নিজের পছন্দের বই বেছে নিতে দিন

বই বাছাইয়ের ক্ষেত্রে শিশুর মতামতকে গুরুত্ব দিন। কেউ হয়তো রূপকথা পছন্দ করে, কেউ আবার পশুপাখি বা বিজ্ঞান বিষয়ক বইয়ে আগ্রহী। নিজের পছন্দের বই পড়তে পারলে শিশুর আগ্রহ অনেকগুণ বেড়ে যায়। লাইব্রেরি বা বইমেলায় শিশুকে সঙ্গে নিয়ে গেলে এই সুযোগ আরও বাড়ে।

গল্প শোনানো থেকে পড়ার দিকে নিয়ে যান

শিশু যখন ছোট, তখন তাকে গল্প পড়ে শোনান। গল্পের মাঝে প্রশ্ন করুন, চরিত্র নিয়ে কথা বলুন। ধীরে ধীরে শিশুকে নিজে পড়তে উৎসাহ দিন। এক পৃষ্ঠা আপনি পড়ুন, এক পৃষ্ঠা সে। এতে পড়ার ভয় কেটে গিয়ে আত্মবিশ্বাস তৈরি হয়।

ডিজিটাল ডিভাইসের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করুন

মোবাইল, ট্যাব বা টিভির অতিরিক্ত ব্যবহার বই পড়ার আগ্রহ কমিয়ে দেয়। তাই নির্দিষ্ট সময়ের বাইরে স্ক্রিন ব্যবহার সীমিত রাখা প্রয়োজন। স্ক্রিনের বিকল্প হিসেবে বইকে আকর্ষণীয় করে তুলতে হবে। শাস্তির মাধ্যমে নয়, বরং ভালোবাসা ও বোঝানোর মাধ্যমে করুন।

পড়ার প্রশংসা ও উৎসাহ দিন

শিশু যখন কোন বই শেষ করে, তখন তাকে প্রশংসা করুন। ছোট পুরস্কার বা উৎসাহমূলক কথা শিশুকে আরও পড়তে অনুপ্রাণিত করে। তবে তুলনা বা অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করা থেকে বিরত থাকাই ভালো।

শিশুর বই পড়ার অভ্যাস এক দিনে তৈরি হয় না। ধৈর্য, সময় আর ভালোবাসার মাধ্যমে ধীরে ধীরে এই অভ্যাস গড়ে তুলতে হয়। আজ যে শিশুটি বইয়ের পাতায় ডুবে থাকে, আগামী দিনে সে-ই হয়ে উঠবে চিন্তাশীল, কল্পনাশক্তিতে সমৃদ্ধ একজন মানুষ।

সম্পর্কিত খবর :