শীতে ত্বকের ঘরোয়া যত্ন
শীত এলেই ত্বকে রুক্ষতা, টানটান ভাব, ঠোঁট ফাটা কিংবা চুলকানি হয়। ঠান্ডা বাতাস আর কম আর্দ্রতা ত্বকের স্বাভাবিক তেল কেড়ে নেয়। ফলে দামি স্কিনকেয়ার প্রোডাক্ট ব্যবহার করেও অনেক সময় কাঙ্ক্ষিত ফল মেলে না। অথচ আমাদের ঘরেই লুকিয়ে আছে শীতের ত্বক সমাধান। নিয়মিত ও সঠিকভাবে ব্যবহার করলে ঘরোয়া যত্নেই ত্বক হয়ে উঠতে পারে নরম, উজ্জ্বল ও প্রাণবন্ত।
শীতে ত্বক
কেন
বেশি
শুষ্ক
হয়?
শীতকালে
ঘাম কম হয়, বাতাসে
আর্দ্রতা থাকে কম। এর
ফলে ত্বকের উপরের স্তর দ্রুত পানি
হারায়। অতিরিক্ত গরম পানি দিয়ে
গোসল, সাবান বেশি ব্যবহার সব
মিলিয়ে ত্বক আরও শুষ্ক
হয়ে পড়ে।
ত্বকের ঘরোয়া যত্ন
মধু
ও দুধ: এটি
শীতে প্রাকৃতিক ময়েশ্চারাইজারের
কাজ করে ।মধু ত্বকে আর্দ্রতা ধরে রাখতে সাহায্য
করে, আর দুধ ত্বক
নরম করে।
ব্যবহার:এক চামচ কাঁচা
দুধের সঙ্গে এক চামচ মধু
মিশিয়ে মুখে লাগান। ১৫
মিনিট পর কুসুম গরম
পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।
সপ্তাহে ২–৩ দিন
ব্যবহার করলেই পার্থক্য বুঝবেন।
নারিকেল
তেল: শীতে ত্বকের জন্য
এটি সবচেয়ে নিরাপদ
ও কার্যকর।
ব্যবহার:গোসলের পর হালকা ভেজা
ত্বকে অল্প নারিকেল তেল
ম্যাসাজ করুন। এটি ত্বকের ভেতর
আর্দ্রতা আটকে রাখে। রাতে
ঘুমানোর আগে ব্যবহার করলে
ফল আরও ভালো।
চালের
গুঁড়া ও দই: শীতে
মৃত কোষ জমে ত্বক
মলিন দেখায়।চালের গুঁড়া ও দই ঘরোয়া স্ক্রাবের
কাজ করে ।
ব্যবহার:এক চামচ চালের
গুঁড়া, এক চামচ দই
ও কয়েক ফোঁটা মধু
মিশিয়ে হালকা হাতে মুখে স্ক্রাব
করুন। সপ্তাহে একবারই যথেষ্ট।
অ্যালোভেরা জেল: এটি সংবেদনশীল
ত্বকের সুরক্ষা করে । ত্বককে শান্ত করে এবং জ্বালাপোড়া কমায়।
ব্যবহার:ফ্রেশ অ্যালোভেরা জেল মুখে লাগিয়ে ২০ মিনিট রেখে
ধুয়ে ফেলুন। এটি সব ধরনের ত্বকের জন্য উপযোগী।
ঠোঁটের যত্নে
ঘি
ও
মধু
শীতে
ঠোঁট ফাটা খুব সাধারণ
সমস্যা।
ব্যবহার:
রাতে ঘুমানোর আগে ঠোঁটে সামান্য
ঘি বা মধু লাগান।
নিয়মিত করলে ঠোঁট নরম
ও গোলাপি থাকবে।
শীতে ত্বকের
যত্নে
খাদ্যাভ্যাস
শুধু
বাহ্যিক যত্ন নয়, ভেতর
থেকেও ত্বককে যত্ন নিতে হবে।
এজন্য বেশি করে পানি পান
করুন ।কমলা, গাজর, টমেটোর মতো ভিটামিন সমৃদ্ধ খাবার
খান ।বাদাম ও তিল ত্বকে
প্রাকৃতিক তেল যোগায় ।