কঙ্গোতে কোলটান খনি ধসে নিহত দুই শতাধিক
গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রের (ডিআর কঙ্গো) রুবায়া কোলটান খনি ধসে দুই শতাধিক মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ২০ জন। তাদেরকে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) দেশটির নর্থ কিভু প্রদেশে বিদ্রোহীদের নিয়োগ করা গভর্নরের মুখপাত্র লুমুম্বা কাম্বেরে মুইসা এ তথ্য জানিয়েছেন বলে বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
এতে বলা হয়, গোমা শহর থেকে প্রায় ৬০ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত কোলটান খনিটি গত বুধবার ধসে পড়ে। শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত হতাহতের সঠিক সংখ্যা নিশ্চিত করা যায়নি।
মুইসা বলেন, ‘ভূমিধসে খনিশ্রমিক, শিশু ও বাজারে কাজ করা নারীসহ ২০০ জনের বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। কিছু মানুষকে উদ্ধার করা হয়েছে, তবে তাদের অনেকের অবস্থা গুরুতর। আহত অন্তত ২০ জনকে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।’
এদিকে গভর্নরের এক উপদেষ্টা জানান, মৃতের সংখ্যা অন্তত ২২৭ জন। তবে তিনি গণমাধ্যমকে ব্রিফ করার অনুমতি না থাকায় নাম প্রকাশ না করার শর্তে এ হতাহতের কথা জানান।
এর আগে গত বছরও কোলটান খনিতে ধসের ঘটনা ঘটে। সে সময় নিহত হন ১২ জন।
বিশ্বের মোট কোলটানের প্রায় ১৫ শতাংশ উৎপাদন করে রুবায়া। এই কোলটান প্রক্রিয়াজাত করে ট্যান্টালাম তৈরি করা হয়। এটি মূলত একটি তাপ-সহনশীল একটি ধাতু, যা মোবাইল ফোন, কম্পিউটার, মহাকাশযান উপাদান এবং গ্যাস টারবাইন নির্মাণে ব্যবহৃত হয়।
জানা গেছে, ২০২৪ সালের মাঝামাঝি থেকে কঙ্গোর খনিজসম্পদে ভরপুর এই এলাকাটি এম২৩ বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
জাতিসংঘের অভিযোগ, এএফসি/এম২৩ রুবায়ার খনিজ সম্পদ লুট করে তাদের বিদ্রোহী কর্মকাণ্ডের অর্থায়নে ব্যবহার করেছে, যা প্রতিবেশী রুয়ান্ডা সরকারের সমর্থনে চলছে।