Search

Search

কলমাকান্দায় ইউপি চেয়ারম্যানকে বরখাস্তের পর এবার ইউএনওকে বদলি

নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মাসুদুর রহমান | ছবি: স্টার নিউজ
নেত্রকোনার কলমাকান্দায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে বাগ্‌বিতণ্ডার পর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মাসুদুর রহমানকে অন্যত্র বদলি করা হয়েছে। এর প্রতিবাদে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন স্থানীয় সচেতন নাগরিক সমাজ।

বুধবার (২১ জানুয়ারি) সকাল ১১টার দিকে কলমাকান্দা উপজেলা মোড় এলাকায় আয়োজিত এই মানববন্ধনে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।

এ কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখেন ব্যবসায়ী আবুল কালাম কালামিয়া, ছাত্রনেতা আবু কাওসার, বোরহান উদ্দিন, আল মামুন ও শাহপরান। বক্তারা বলেন, ‘ইউএনও মাসুদুর রহমান সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। জনস্বার্থে ভূমিকা রাখা একজন কর্মকর্তাকে এভাবে হঠাৎ বদলি করা অনভিপ্রেত ও হতাশাজনক।’

তারা অবিলম্বে মাসুদুর রহমানের বদলির আদেশ প্রত্যাহারের দাবি জানান।

এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন গণঅধিকার পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হাসান আল মামুন। তিনি নিজের ফেসবুক আইডিতে ইউএনওর বদলির প্রজ্ঞাপনের কপি সংযুক্ত করে লেখেন— ‘ন্যায় যখন পরাজিত হয়, তখন অন্যায় আরও শক্তিশালী হয়ে ওঠে।’

এছাড়া এনপিসির কেন্দ্রীয় সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) প্রীতম সোহাগও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানান। উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানকে উদ্দেশ করে তিনি লেখেন, ‘রাষ্ট্র পরিচালনায় প্রশাসন ও রাজনীতির এমন অহি–নকূল সম্পর্ক আমরা চাই না। আমলাতন্ত্র ও রাজনৈতিক ক্ষমতার দাপট নয়, আমরা চাই পারস্পরিক সম্মান ও জবাবদিহিমূলক প্রশাসন।’

উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব সামিউল আমিন স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে ইউএনও মাসুদুর রহমানকে কলমাকান্দা থেকে বদলি করে পিরোজপুর জেলার ভান্ডারিয়া উপজেলার ইউএনও হিসেবে পদায়ন করা হয়। বুধবার সকালে ইউএনও নিজেই বদলির বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

জানা গেছে, গত শনিবার বিকেলে কলমাকান্দা উপজেলার লেংগুড়া রাজাপাড়ায় সরকারি জমি দখল করে ঘর নির্মাণের চেষ্টা করেন সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমানের ভাই পারভেজসহ কয়েকজন। স্থানীয়দের অভিযোগের ভিত্তিতে ইউএনও ঘটনাস্থলে গিয়ে সত্যতা পেয়ে পারভেজকে আটক করেন এবং ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন।

এ সময় ইউপি চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে ইউএনওকে শাসিয়ে বলেন, তার অনুমতি ছাড়া ইউনিয়নে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা যাবে না। ইউএনও এ দাবির আইনি ভিত্তি জানতে চাইলে চেয়ারম্যান ইউনিয়ন পরিষদ আইনের কথা উল্লেখ করেন।

ঘটনার একটি ভিডিও তাৎক্ষণিকভাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং পরে গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে দেশজুড়ে সমালোচনার সৃষ্টি হয়। এর পরদিনই (১৮ জানুয়ারি) স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় লেংগুড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান ভূঁইয়াকে সাময়িক বরখাস্ত করে।

এর ঠিক একদিন পর ইউএনও মাসুদুর রহমানের বদলির প্রজ্ঞাপন জারি হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে এলাকায় নতুন করে আলোচনা ও প্রতিবাদের সৃষ্টি হয়েছে।

সম্পর্কিত খবর :