Search

Search

মাদকে অভিযুক্ত চবি ছাত্রদলকর্মী অবৈধভাবে থাকছেন হলে

মাদকে অভিযুক্ত চবি ছাত্রদলকর্মী | সংগৃহীত
মাদকে অভিযুক্ত চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের ২০২৩-২৪ সেশনের শিক্ষার্থী ও শাখা ছাত্রদলকর্মী মো. আব্দুস সালাম সালমান অবৈধভাবে থাকছেন হলে। হল কর্তৃপক্ষের একাধিকবার হলত্যাগের নোটিশের তোয়াক্কা না করেই হলে থাকছেন তিনি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ ফরহাদ হোসেন হলে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে অবস্থান করছেন সালমান। হল কর্তৃপক্ষ তাকে দু’বার হলত্যাগের নোটিশ দিলেও পরে এ নিয়ে কোনো পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়নি।

গতবছরের ২৩ অক্টোবরে হল প্রশাসন ও প্রক্টরিয়াল বডির পরিচালিত কক্ষ উদ্ধার ও মাদকনির্মূল অভিযানে ‘এ’-ব্লকের ১০২ নম্বর কক্ষে দুজন শিক্ষার্থীর হলে অবৈধভাবে অবস্থান শনাক্ত করা হয়। তারা হলেন- আব্দুস সালাম সালমান ও সাখাওয়াত হোসেন শুভ। তারা উভয়েই ২০২৩-২৪ সেশনের যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী। এরমধ্যে হল প্রভোস্টের নোটিশের পরে শুভ হল ছাড়লেও সালমান এখনো হলে অবস্থান করছেন।

সেসময় অভিযানে তাদের এ কক্ষটিতে মাদক সেবনের বিভিন্ন আলামত পাওয়া গেছে।

এর আগে, সালমান তার দুই বন্ধুর সঙ্গে আসর জমিয়ে মদ পান করার একটি ছবি নিজ ফেসবুক আইডিতে শেয়ার দেন, যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তখন ছড়িয়ে পড়ে।

সালমান শাখা ছাত্রদলকর্মী। দলটির একাধিক নেতার সঙ্গে তার ছবি পাওয়া গেছে। ছাত্রদলের বিভিন্ন কর্মসূচিতেও তার উপস্থিতি দেখা গেছে। এদিকে, জাতীয় নির্বাচনে দিনাজপুর-২ আসনে বিএনপি প্রার্থীর আসনভিত্তিক সমন্বয় কমিটিতে রয়েছেন সালমান। সেখানে চবি ছাত্রদলের সদস্য হিসেবে তার পদবি যুক্ত করা হয়েছে।

এ বিষয়ে শহীদ ফরহাদ হোসেন হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. এইচএস ফারুক আলম স্টার নিউজকে বলেন, 'তাদের ঘটনাটি আগের প্রভোস্টের সময় হয়েছিল। আমি নভেম্বরে দায়িত্ব গ্রহণের পর বিষয়টা জেনেছি। পরে ওই রুমে আমরা চেক দিতে গেলে সালমানকে পাওয়া যায়। তখন সে দ্রুত হল ছাড়বে বলে জানায়। এ সময় তার আইডি কার্ড নিয়ে নেওয়া হয়। পরে কয়েকদিন পর আইডি কার্ড নিতে এসে এক হাউজ টিউটরের কাছে লিখিত দেয় যে সে আর হলে নেই। এখন আপনার মাধ্যমে জানছি যে সে এখনো হলে আছে। এটি নিয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেব। সে মাদকের সাথে জড়িত বলে শুনেছি।'

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. হোসেন শহীদ সরওয়ার্দী বলেন, 'হলে অবৈধভাবে থাকার কোনো সুযোগ নেই। বিষয়টি হল প্রশাসন দেখবে। তারা যদি অপারগ হয়, তাহলে প্রক্টর অফিসে চিঠি ইস্যু করবে। পরে প্রক্টরিয়াল টিম সরাসরি তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে।'

হল সংসদের ভিপি শরীফুল ইসলাম বলেন, 'তার বিষয়টা আমাদের অবগত। গত সপ্তাহেও আমরা হল সংসদের পক্ষ থেকে তার বিষয়টা প্রভোস্টকে জানিয়েছি। তিনি বলছিলেন ব্যবস্থা নেবেন। তার মাদকের সঙ্গে জড়িত থাকারও প্রমাণ রয়েছে। হল সংসদ থেকে আমরা আবারো এ নিয়ে হল প্রশাসনের সঙ্গে বসব।'

এ বিষয়ে অভিযুক্ত সালমানকে কল দিলে রিসিভ করে তিনি বলেন, 'বিষয়টা আপনাকে কে বলছে?' পরে তিনি কল কেটে দেন। পরে একাধিকবার কল দিলেও রিসিভ করেননি তিনি।

শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল নোমান বলেন, 'ছেলেটাকে আমি চিনতে পারছি না। তাই মন্তব্য করা যাচ্ছে না। তবে হলে কেউ অবৈধভাবে থাকলে তার বিরুদ্ধে অবশ্যই হল কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থা নিতে হবে।'

সম্পর্কিত খবর :