জেমকন গ্রুপের পরিচালকসহ ৪ জনের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা
দুর্নীতির মামলায় জেমকন গ্রুপের পরিচালক কাজী ইনাম আহমেদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে আদালত। এদিকে দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধানাধীন থাকায় ইউনাইটেড গ্রুপ ও নেপচুন হাউজিং লিমিটেডের প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক চেয়ারম্যান হাসান মাহমুদ রাজা, চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মঈন উদ্দিন হাসান রশিদ এবং নেপচুন হাউজিং লিমিটেডের সাবেক ব্যবস্থাপনার পরিচালক আবুল কালাম আজাদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে।
দুদকের পৃথক দুই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে রোববার (১৮ জানুয়ারি) ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ সাব্বির ফয়েজ এ আদেশ দেন।
দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা উপপরিচালক আখতারুর ইসলাম এ তথ্য জানান।
ইনাম আহমেদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের সহকারী পরিচালক এ কে এম মর্তুজা আলী সাগর।
আবেদনে বলা হয়, ইনাম আহমেদের বিরুদ্ধে অবৈধ উপায়ে জ্ঞাত আয়ের উৎসের সাথে সঙ্গতিবিহীন ৩২ কোটি ৬৬ লাখ ১৬ হাজার ২৪৪ টাকার সম্পদ অর্জন করে নিজ ভোগদখলে রাখার অপরাধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ এর ২৭(১) ধারা এবং এবং তার নিজ নামে বিভিন্ন ব্যাংকে পরিচালিত মোট ১৪টি হিসাবে মোট ৭৪ কোটি ৭৮ লাখ ৭৮ হাজার ১২৭ টাকার অস্বাভাবিক ও সন্দেহজনক লেনদেনের মাধ্যমে হস্তান্তর, স্থানান্তরের ও রুপান্তরের মাধ্যমে মানিলন্ডারিং করায় মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন ২০১২, এর ৪(২) ও ৪(৩) ধারায় শান্তিযোগ্য অপরাধ করায় দুর্নীতি দমন কমিশন, সমন্বিত জেলা কার্যালয় ঢাকা-১ এ গত বছরের ১৬ সেপ্টেম্বর মামলা দায়ের করা হয়।
মামলাটি তদন্তাধীন। তদন্তকালে ইনাম আহমেদের নামে অবৈধভাবে অর্জিত সম্পত্তি হস্তান্তর করে বিদেশে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন মর্মে বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায়। বিদেশে পালিয়ে গেলে তদন্ত কার্যক্রম দীর্ঘায়িত বা ব্যাহত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। মামলার ইনাম আহমেদের বিদেশ গমনে নিষেধাজ্ঞা প্রদান করা একান্ত প্রয়োজন।
হাসান মাহমুদ রাজাসহ তিন জনের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আবেদন করেন অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা দুদকের উপপরিচালক জাহাঙ্গীর আলম। আবেদনে বলা হয়, ইনাম আহমেদসহ ১২ জনের বিরুদ্ধে পরস্পর যোগসাজশে জাল দলিলের মাধ্যমে সরকারি অর্পিত সম্পত্তি দখলসহ অবৈধ সম্পদ অর্জন, বিদেশে অর্থ পাচার এবং ইউনাইটেড পাওয়ার জেনারেশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লি.'কে অনিয়মের মাধ্যমে আইপিপি রেটে গ্যাস সরবরাহ সংক্রান্ত অভিযোগের অনুসন্ধান চলছে।
অনুসন্ধানকালে বিশ্বস্তসূত্রে জানা যায়, অভিযোগ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্যে হাসান মাহমুদ রাজা, মঈন উদ্দিন হাসান রশিদ এবং আবুল কালাম আজাদ বিদেশে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। অভিযোগের সুষ্ঠু অনুসন্ধান ও ন্যায় বিচারের স্বার্থে তারা যেন বিদেশে পালিয়ে যেতে না পারে সেজন্য দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা প্রয়োজন।