অফিস টাইমে স্বাস্থ্যকর খাবার কীভাবে সম্ভব?
সকালের তাড়া, যানজট, মিটিং আর কাজের চাপ সব মিলিয়ে অফিস টাইমে খাবার মানেই অনেকের কাছে ফাস্টফুড কিংবা চা-বিস্কুটে দিন চালানো। অথচ একটু পরিকল্পনা আর সচেতনতা থাকলেই ব্যস্ত অফিসজীবনেও স্বাস্থ্যকর খাবার বজায় রাখা একেবারেই অসম্ভব নয়।অফিসে সুস্থ থাকার প্রথম ধাপ শুরু হয় সকাল থেকেই। সকালের নাশতা বাদ দেওয়া মানেই সারাদিন ক্লান্ত থাকা। ঘরে তৈরি ডিম, ওটস, রুটি-সবজি কিংবা ফল ও দই দিয়ে সহজ একটি নাশতা দিনের শুরুটা ভালো করে দেয়। সময় কম থাকলে আগের রাতেই নাশতার কিছু প্রস্তুতি রাখা যেতে পারে।
দুপুরের খাবার অফিস টাইমের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ। প্রতিদিন বাইরে খাওয়ার বদলে সপ্তাহে অন্তত কয়েক দিন ঘরে রান্না করা খাবার সঙ্গে নেওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। ভাতের সঙ্গে সবজি, ডাল, মাছ বা মুরগির ঝোল এই সাধারণ বাঙালি খাবারই সবচেয়ে স্বাস্থ্যকর। ভাত কমাতে চাইলে রুটি বা লাল চালও ভালো বিকল্প হতে পারে। অতিরিক্ত তেল ও ভাজা খাবার এড়িয়ে চলাই বুদ্ধিমানের কাজ।
অফিসে কাজের ফাঁকে হঠাৎ ক্ষুধা লাগা খুব স্বাভাবিক। এই সময় চিপস বা মিষ্টির বদলে হাতের কাছে রাখা যেতে পারে বাদাম, ছোলা ভাজা, ফল কিংবা ঘরে বানানো হালকা নাশতা। এগুলো শক্তি দেয়, আবার শরীরের ক্ষতিও করে না। পাশাপাশি পর্যাপ্ত পানি পান করাও খুব জরুরি। অনেক সময় পানিশূন্যতার কারণেই অকারণে ক্ষুধা লাগে।
অফিস শেষে বাড়ি ফিরে রাতের খাবারেও ভারসাম্য রাখা প্রয়োজন। খুব দেরিতে বা অতিরিক্ত ভারী খাবার শরীরকে আরও ক্লান্ত করে তোলে। হালকা খাবার, যেমন সবজি, স্যুপ বা রুটি, ভালো ঘুমের সহায়ক।
সবশেষে মনে রাখতে হবে, স্বাস্থ্যকর খাবার মানেই সময়সাপেক্ষ বা ব্যয়বহুল নয়। সচেতন পছন্দ, ঘরে তৈরি খাবারের প্রতি আগ্রহ আর সামান্য পরিকল্পনাই অফিস টাইমে সুস্থ থাকার সবচেয়ে বড় চাবিকাঠি।