কেন ইসলামাবাদ বিমানবন্দর ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব থেকে সরে এলো আমিরাত?
পাকিস্তানের ইসলামাবাদ বিমানবন্দর ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব নেওয়ার কথা ছিল সংযুক্ত আরব আমিরাতের। তবে শুক্রবার পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম এক্সপ্রেস ট্রিবিউন জানায়, সেই চুক্তি থেকে আমিরাত সরে এসেছে। আর্থিক সংকটে থাকা পাকিস্তানের সঙ্গে এ নিয়ে ২০২৫ সালের আগস্টে একটি ফ্রেমওয়ার্কে একমত হয়েছিল আমিরাত। তবে প্রতিবেদনে বলা হয়, আমিরাত প্রজেক্টে আগ্রহ হারিয়ে ফেলায় আলোচনা ভেস্তে গেছে। এছাড়া আউটসোর্সিংয়ের জন্য স্থানীয় পার্টনারও নাকি পাচ্ছিল না আমিরাত।
তবে বিশ্লেষকদের ধারণা, দক্ষিণ এশিয়ায় নিজেদের আধিপত্য বিস্তার নিয়ে সৌদি আরব ও আমিরাতের টানাটানির জেরে এমন ঘটনা ঘটেছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর দিকে ঝুঁকেছে সৌদি। বিপরীতে পাকিস্তানের চিরশত্রু ভারতের সঙ্গে নতুন প্রতিরক্ষা চুক্তি করে নয়াদিল্লিকে কাছে টানছে আমিরাত।
ঐতিহাসিকভাবে উপসাগরীয় দেশগুলো বিশেষ করে সৌদির সঙ্গে পাকিস্তানের বিশেষ অর্থনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে। তবে গেল বছরের সেপ্টেম্বরে সেই সম্পর্ক আরও এক ধাপ এগিয়ে নেয় ইসলামাবাদ। সৌদি-পাকিস্তান একটি দ্বিপাক্ষিক প্রতিরক্ষা চুক্তি করে। ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের ১২ দিনের যুদ্ধের পর ওই চুক্তিকে গেম চেঞ্জারই বলা যায়। কেননা পারমাণবিক শক্তিধর পাকিস্তানের সঙ্গে চুক্তি করতে এখন তুরস্কও উঠে পড়ে লেগেছে।
আমিরাতের সঙ্গেও পাকিস্তানের বিভিন্ন খাতে সহযোগিতার ইতিহাস রয়েছে। বিশেষ করে বাণিজ্যিক বিমান চলাচল খাতে দুই দেশের কুসুম কুসুম প্রেমের সম্পর্ক ছিল। ১৯৮০’র দশকে আমিরাতের এমিরেটস এয়ারলাইন্সের ভিত্তি শক্ত করার পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছিল পাকিস্তান। আমিরাতকে তখন কারিগরি সহায়তা ও লোকবল দিয়ে সহযোগিতা করেছিল ইসলামাবাদ। এমনকি পাকিস্তানের কাছ থেকেই এমিরেটস দুটি বিমান লিজ নিয়েছিল। সেগুলোরই একটি উদ্বোধনী ফ্লাইটে দুবাই থেকে করাচি এসেছিল।
আমিরাতের বিমান সংস্থাকে এভাবে তুলতে গিয়ে শেষ পর্যন্ত পাকিস্তানের জাতীয় বিমান সংস্থার বারোটা বেজে যায়। এমন পরিস্থিতিতে পাকিস্তানকে উদ্ধার করতে পারত আমিরাত। কেননা আমিরাতের জিএএসি কোম্পানির আফগানিস্তানের কাবুল, হেরাত ও কান্দাহার বিমানবন্দরে গ্রাউন্ড সার্ভিস দেওয়ার লাইসেন্স রয়েছে। কিন্তু সেই পথে আগায়নি আমিরাত।
এদিকে বিমানবন্দর ব্যবস্থাপনা নিয়ে পাকিস্তানের সঙ্গে আমিরাতের আলোচনায় গতি না থাকলেও মিশরের ক্ষেত্রে চিত্রটা ছিল ভিন্ন। আব্দেল ফাত্তাহ আল-সিসির নেতৃত্বাধীন সরকারকে আর্থিক সহায়তা দিতে বিন্দুমাত্র দেরি করেনি আমিরাত। তাই ২০২৪ সালে মিশরের ভূমধ্যসাগরীয় একটি উপকূলের উন্নয়নে ৩৫ বিলিয়ন ডলার ব্যয় করে আবুধাবি।
কিন্তু পাকিস্তানের বিমানবন্দর ব্যবস্থাপনায় ভারত হয়ে ওঠে একটি বড় ফ্যাক্টর। ইসলামাবাদের সঙ্গে রিয়াদ প্রতিরক্ষা চুক্তির পর পরই ভারতও আমিরাতের কাছে ঘেঁষার জন্য উঠে পড়ে লাগে। এরই অংশ হিসেবে নয়াদিল্লি-আবুধাবি সম্প্রতি প্রতিরক্ষা ও বাণিজ্য সম্পর্ক জোরদারে চুক্তি সই করে। একদিকে মধ্যপ্রাচ্যে সৌদির সঙ্গে আমিরাতের ক্ষমতার দ্বন্দ্ব, অন্যদিকে ভারতের সম্পর্ক জোরদার, সবমিলিয়ে পাকিস্তানকে ঘোল খাইয়ে দিল আবুধাবি।