Search

Search

ভাষার মাস ফেব্রুয়ারির দিন গণনা শুরু

প্রতীকী ছবি
মহান রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনের স্মৃতির গৌরবমাখা মাস ফেব্রুয়ারির দিন গণনা শুরু হয়েছে। ফেব্রুয়ারির কথা এলেই মনে পড়ে সেই চেনা গানের সুর, ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি/ আমি কি ভুলিতে পারি...।’

মনে পড়ে একুশের প্রথম প্রহর থেকে কালো ব্যানার, পতাকা, ব্যাজ আর গোলাপ, গাঁদা, মল্লিকা, ডালিয়ার সুসজ্জিত স্তবক বা মালা নিয়ে প্রভাতফেরি করে পায়ে-পায়ে শহীদ মিনারের দিকে এগিয়ে যাওয়া। আর রোজ বেলা গড়ানোর পরে দল বেঁধে বাংলা একাডেমির অমর একুশের বইমেলায় যাওয়া। কিন্তু চলতি বছরে চিরচেনা সেই দৃশ্যে কিছুটা ভাটা পড়েছে।

বরাবর ফেব্রুয়ারির প্রথম দিন থেকেই শুরু হয় অমর একুশের বইমেলা। কিন্তু এ বছর সংসদ নির্বাচন হওয়ার কারণে ফেব্রুয়ারির শুরুতে বইমেলা হচ্ছে না।

দীর্ঘ সময়কাল ধরেই শিল্প–সংস্কৃতি, সৃজন–মননের, উদ্‌যাপনের বহুমাত্রিক উদ্যোগ উৎসব ফেব্রুয়ারি মাসজুড়ে চলতে থাকে। বইমেলা, শহীদ মিনারে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, নাট্যোৎসবসহ নানা আয়োজনে মাসটি একটি ভিন্ন রকমের দ্যোতনা নিয়ে আসে বাঙালির জীবনে।

এই ফেব্রুয়ারিতে আবার শীতের কুহেলী কাটিয়ে বাংলা ঋতুচক্রের ঋতুরাজ বসন্তেরও আগমন ঘটে। এই বসন্ত নিয়েও থাকে নানা আয়োজন। তবে ২৪-এর আন্দোলনের পর বাঙালি জাতীয়তাবোধের চেতনায় উদ্ভাসিত ফেব্রুয়ারি মাস কিছু ভিন্নভাবে আসছে। এর প্রধান কারণ দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতা।

বাঙালি জাতির জন্য ফেব্রুয়ারি শুধু একটি মাস নয়, বরং ভাষার প্রতি ভালোবাসার অঙ্গীকার ও আত্মত্যাগের গর্বের স্মারক।

বাংলার দামাল ছেলেদের এই আত্মত্যাগ আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পায় ১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর, যখন ইউনেস্কো ২১ ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ঘোষণা করে। এরপর থেকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে দিনটি মাতৃভাষার অধিকার রক্ষার প্রতীক হিসেবে পালিত হয়ে আসছে।

যে স্বাধিকার আন্দোলনের মধ্য দিয়ে ‘তোমার-আমার ঠিকানা পদ্মা-মেঘনা-যমুনা’ হয়ে উঠেছিল, তার বীজ রোপিত হয়েছিল এই ফেব্রুয়ারিতে বুড়িগঙ্গা তীরে।

মায়ের মুখের ভাষা বাংলাকে আপন মর্যাদায় প্রতিষ্ঠিত করতে বাংলা মায়ের বীর সন্তানরা ১৯৫২ সালের এই মাসে গড়ে তুলেছিলেন এক অগ্নিঝরা আন্দোলন। বুকের তাজা রক্তে রাজপথ রাঙিয়ে দিয়ে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন ভাষার অধিকার।

‘উর্দুই হবে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা’ পাকিস্তান সরকারের এমন ঘোষণার প্রেক্ষাপটে পূর্ব বাংলায় অবস্থানকারী বাংলাভাষী সাধারণ জনগণের মধ্যে গভীর ক্ষোভের জন্ম হয়। জাগে বিরূপ প্রতিক্রিয়া। পূর্ব বাংলার বাংলাভাষী মানুষ আকস্মিক ও অন্যায্য এ সিদ্ধান্তকে মেনে নিতে পারেনি। তাই বাংলাভাষার সমমর্যাদার দাবিতে পূর্ব বাংলায় আন্দোলন দ্রুত দানা বেধে ওঠে। আন্দোলন দমনে পুলিশ ১৪৪ ধারা জারি করে ঢাকা শহরে মিছিল, সমাবেশ নিষিদ্ধ ঘোষণা করে।

১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি এই আদেশ অমান্য করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বহু সংখ্যক ছাত্র ও রাজনৈতিক কর্মী মিলে বিক্ষোভ মিছিল শুরু করেন। মিছিলটি ঢাকা মেডিকেল কলেজের কাছাকাছি এলে পুলিশ ১৪৪ ধারা অবমাননার অজুহাতে আন্দোলনকারীদের ওপর গুলিবর্ষণ করে। রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে সে সময় নিহত হন সালাম, জব্বার, শফিক, বরকত ও রফিকসহ নাম না জানা আরও অনেকে।

সম্পর্কিত খবর :