Search

Search

বালুচিস্তানে অশান্তির বীজ পোতা হয় ৭৮ বছর আগে

একটি চেকপয়েন্টে তল্লাশি চালাচ্ছে পাকিস্তানি বাহিনী | ছবি: সংগৃহীত

বালুচিস্তান। থেকে থেকেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে পাকিস্তানের সবচেয়ে বড় এই প্রদেশ। বিচ্ছিন্নতাবাদী বিভিন্ন গোষ্ঠীর সাথে রক্তাক্ত লড়াই হয় পাক আর্মির। কিন্তু কেন বছরের পর বছর অশান্ত বালুচ? এই অশান্তির বীজ পোতা হয়েছে আজ থেকে ৭৮ বছর আগে।

১৯৪৭ সালের আগে যখন ব্রিটিশরা ভারতীয় উপমহাদেশ শাসন করছিল, তখনও বালুচিস্তানে ব্রিটিশদের তেমন আধিপত্য ছিল না। ওই সময় বালুচিস্তানের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক কেন্দ্র ছিল কালাত রাজ্য।

ব্রিটিশদের সঙ্গে ১৮৭৬ সালে এক চুক্তি করেন কালাতের শাসক মীর আহমদ ইয়ার খান। ওই চুক্তির আওতায় কালাত একটি স্বার্বোভৌম রাজ্য হিসেবে স্বীকৃত ছিল। তাই দেশভাগের সময় কালাত ভারত বা পাকিস্তান কারো সঙ্গেই যুক্ত হয়নি।

১৯৪৬ সালে কালাতের স্বাধীনতায় সমর্থন দেন পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা মুহাম্মাদ আলী জিন্নাহ। পরের বছর দুই পক্ষের মধ্যে একটি স্থগিতাবস্থা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়, যার আওতায় বালুচিস্তানকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয় পাকিস্তান। ১৯৪৭ সালে ১২ আগস্ট নিজেদের স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে ঘোষণা করে কালাত।

কিন্তু এই স্বাধীনতা স্থায়ী হয় মাত্র ২২৭ দিন। কালাতের আশপাশের রাজ্যগুলো পাকিস্তানের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার সিদ্ধান্ত নিলে পাকিস্তান কালাতকেও যুক্ত হতে চাপ দিতে শুরু করে। এক পর্যায়ে পাকিস্তানের চাপে রাজি হয়ে যান কালাতের খান। কিন্তু তার এই সিদ্ধান্ত মেনে নিতে পারেনি কালাত বা আজকের বালুচিস্তানের বাসিন্দারা।

শুরু থেকেই ওই অঞ্চলে ছিল পাক সরকার বিরোধিতা। সময়ে সময়ে যা মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। বালুচদের বিশ্বাস- ওই প্রদেশের ভূ-গর্ভে থাকা বিপুল খণিজ সম্পদের অসম বণ্টন করছে পাকিস্তান সরকার। বঞ্চিত করছে বালুচদের। পাশাপাশি চাকরিখাতেও তারা বঞ্চিত হচ্ছে। পাকিস্তানের পাশাপাশি চীন সরকারও শোষণ করছে বলে অভিযোগ তাদের।

আর এ কারণেই, অঞ্চলটি বিংশ শতাব্দী থেকেই গড়ে উঠতে শুরু করে বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠী। যাদের উদ্দেশ্য- পাকিস্তান, ইরান এবং আফগানিস্তানের বালুচিস্তানের অংশকে অন্তর্ভুক্ত করে বৃহত্তর বালুচিস্তান নামে একটি সার্বভৌম রাষ্ট্র গড়ে তোলা।

এসব সশস্ত্র সংগঠনের মধ্যে সবচেয়ে বড় বালুচিস্তান লিবারেল আর্মি বা বিএলএ। বালুচিস্তানের চলমান অস্থিরতার অন্যতম বড় খেলোয়াড় এই গোষ্ঠীটি। আনুষ্ঠানিকভাবে ২০০0 সালে গঠিত এই গোষ্ঠীর কার্যক্রম পরিচালিত হয় বালুচিস্তানের উত্তরাঞ্চলীয় পাহাড়ি এলাকা থেকে।

পাকিস্তান সরকারের অভিযোগ- বালুচিস্তানে চীনের প্রভাব রোধে আফগানিস্তানের কান্দাহার ও জালালাবাদে ভারতীয় কনস্যুলেটগুলো গোপনে BLA-কে অস্ত্র, আর্থিক সাহায্য এবং প্রশিক্ষণ দিয়ে সহায়তা করে। তবে কিছু বিশ্লেষক মনে করেন, এটা ভারতের স্বার্থের বিরোধী হবে, কারণ ভারতও পাকিস্তানের মতো বালুচিস্তানের তেল ও গ্যাস থেকে লাভ করতে চায়। তাছাড়া গোষ্ঠীটি বালুচ জনগণেরও ব্যাপক সমর্থন পায় বলে মনে করেন অনেক বিশ্লেষক।


সম্পর্কিত খবর :