ফ্যাক্ট চেক কী, কীভাবে কাজ করে?
ভুয়া খবর, বিভ্রান্তিকর তথ্য ও গুজবের বিস্তার ঠেকাতে বিশ্বজুড়ে গুরুত্ব পাচ্ছে ‘ফ্যাক্ট চেক’ বা তথ্য যাচাই প্রক্রিয়া। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মে তথ্য দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার ফলে সংবাদমাধ্যম ও সাধারণ পাঠকের কাছে ফ্যাক্ট চেক এখন সময়ের দাবি হয়ে উঠেছে।
ফ্যাক্ট চেক হলো কোনো দাবি, বক্তব্য, ছবি, ভিডিও বা পরিসংখ্যানের সত্যতা যাচাই করার পদ্ধতি। রাজনৈতিক বক্তব্য থেকে শুরু করে সামাজিক গুজব— সব ক্ষেত্রেই তথ্যের উৎস, প্রেক্ষাপট ও প্রমাণ মিলিয়ে দেখা হয়। উদ্দেশ্য একটাই— তথ্যটি সত্য, আংশিক সত্য, বিভ্রান্তিকর নাকি পুরোপুরি মিথ্যা, তা নির্ধারণ করা।
যেভাবে কাজ করে ফ্যাক্ট চেক
ফ্যাক্ট চেকিং সাধারণত কয়েকটি ধাপে সম্পন্ন হয়। প্রথমে সন্দেহজনক দাবি বা কনটেন্ট শনাক্ত করা হয়। এরপর ওই দাবির মূল উৎস খোঁজা হয়— কে বলেছেন, কোথায় প্রকাশিত হয়েছে এবং কোন প্রেক্ষাপটে। তৃতীয় ধাপে বিশ্বস্ত নথি, সরকারি তথ্য, গবেষণা প্রতিবেদন ও বিশেষজ্ঞ মতামত মিলিয়ে তথ্য যাচাই করা হয়। ছবি বা ভিডিও হলে রিভার্স ইমেজ সার্চ, মেটাডাটা বিশ্লেষণ ও সময়-স্থান যাচাই করা হয়।
সবশেষে প্রমাণের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত দিয়ে তা প্রকাশ করা হয়।
ফ্যাক্ট চেকাররা সাধারণত সরেজমিন তদন্ত করেন না। এছাড়াও ব্যক্তিবিশেষের মৌখিক সাক্ষ্যকেও তারা সাধারণত প্রমাণ হিসেবে নেন না। জনপরিসরে থাকা কোনো তথ্য সঠিক কি-না, তারা তা যাচাই করেন সেকেন্ডারি ডেটা অর্থাৎ জনপরিসরে থাকা অপরাপর তথ্যের সাপেক্ষে।
কোনো গোপনীয় তদন্ত, সাক্ষ্য, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সূত্রের বরাত— এসব দিয়ে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা চলে, কিন্তু ফ্যাক্টচেকিং নয়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ফ্যাক্ট চেক শুধু সংবাদমাধ্যমের দায়িত্ব নয়; সাধারণ ব্যবহারকারীরও সচেতন থাকা জরুরি। সন্দেহজনক তথ্য শেয়ার করার আগে উৎস যাচাই, শিরোনাম নয়—পুরো লেখা পড়া এবং নির্ভরযোগ্য মাধ্যম অনুসরণ করার পরামর্শ দিচ্ছেন তারা।