মাদুরোকে অপহরণে ‘গোপন অস্ত্র’ ব্যবহার করেছিল যুক্তরাষ্ট্র?
যুক্তরাষ্ট্র গেল ৩ জানুয়ারি দুর্ধর্ষ এক অভিযান চালিয়ে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে অপহরণ করে। সেই অভিযান চালানোর আগে ঘুণাক্ষরেও টের পায়নি ভেনেজুয়েলা। এখন সেই অভিযানের প্রায় তিন সপ্তাহ পর আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের গোপন অস্ত্র। ভেনেজুয়েলার প্রতিরক্ষামন্ত্রী ভ্লাদিমির পাদরিনো লোপেজের অভিযোগ, তার দেশকে একটি অস্ত্রের ল্যাব বানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
তিনি গেল সপ্তাহে অভিযোগ করেন, ভেনেজুয়েলাকে অত্যাধুনিক সামরিক প্রযুক্তির পরীক্ষাগার বানিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নির্ভর সেই অস্ত্র এর আগে আর কখনই ব্যবহার করা হয়নি বলেও দাবি করেছে ভেনেজুয়েলার সংবাদপত্র এল ইউনিভার্সেল।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও স্বীকার করেছেন, ভেনেজুয়েলায় সত্যিই অত্যাধুনিক এক অস্ত্র ব্যবহার করেছে যুক্তরাষ্ট্র। একটি মার্কিন নিউজ চ্যানেলকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ওই অস্ত্রকে ‘দ্য ডিসকম্বোবুলেটর’ হিসেবে বর্ণনা করেন তিনি। ট্রাম্প বলেন, এ বিষয়ে আমার কথা বলার অনুমতি নেই। তবে তিনি জানান, অভিযানের সময় এই অস্ত্রের ব্যবহার সব যন্ত্রপাতির কার্যক্ষমতা নিষ্ক্রিয় করে দিয়েছিল।
মার্কিন সামরিক বাহিনীর ওই অভিযানে ঠিক কিভাবে মাদুরোকে তুলে নিয়ে আসা হয়েছিল, তা এখনও প্রকাশ করেনি ওয়াশিংটন। তবে অভিযানে গিয়ে সৈন্য, অস্ত্র এবং সামরিক অবকাঠামোকে নিষ্ক্রিয় করে দেওয়ার মতো অতীত নজির রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের।
ভেনেজুয়েলার প্রতিরক্ষামন্ত্রী ঠিক কী বলেছেন?
গেল ১৬ জানুয়ারি পাদরিনো লোপেজ বলেন, কারাকাসে মার্কিন হামলার সময় ভেনেজুয়েলার ৪৭ জন সৈন্য নিহত হয়েছিলেন। এসময় ৩২ জন কিউবান সেনাও নিহত হন। তারা মাদুরোকে নিরাপত্তা দিচ্ছিলেন বলে জানান পাদরিনো লোপেজ। এরপর গেল সপ্তাহে তিনি ভেনেজুয়েলাকে অস্ত্রের পরীক্ষাগার বানানোর অভিযোগ তোলেন। তার সেই বক্তব্যকে উদ্ধৃতি করে খবর প্রকাশ করে এল ইউনিভার্সেল।
পাদরিনো লোপেজ বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট স্বীকার করেছেন ভেনেজুয়েলায় অভিযানে যে অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে, তা এর আগে কখনও কোনো যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়নি। আর সেই অস্ত্র বিশ্বের আর কোনো দেশের কাছে নেই বলেও জানিয়েছিলেন তিনি। ৩ জানুয়ারি ভেনেজুয়েলার জনগণের বিরুদ্ধে সেই প্রযুক্তিরই প্রয়োগ ঘটায় যুক্তরাষ্ট্র। এর আগে ট্রাম্প মার্কিন নিউজ চ্যানেল নিউজন্যাশনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দাবি করেছিলেন, একটি ‘সনিক অস্ত্র’ ব্যবহার করা হয়েছে।
ট্রাম্প যে গোপন অস্ত্রের কথা বলেছেন, সেটি আসলে কী?
মাদুরোকে অপহরণের কিছুদিন পর ভেনেজুয়েলার একজন নিরাপত্তারক্ষী এক্সে একটি পোস্ট করেন। পরে সেটি রিপোস্ট করেন হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট। পোস্টে ভেনেজুয়েলার ওই নিরাপত্তারক্ষী দাবি করেছিলেন, অভিযানের সময় মার্কিন বাহিনী কিছু একটা ব্যবহার করেছিল, যা তীব্র শব্দ তরঙ্গের মতো ছিল।
‘হঠাৎ মনে হলো, আমার মাথা যেন ভেতর থেকে বিস্ফোরিত হচ্ছে। আমাদের নাক দিয়ে রক্ত ঝরতে থাকে। কেউ কেউ রক্তবমি করেন। আমরা মাটিতে পড়ে যাই, তখন নড়াচড়াও করতে পারছিলাম না।’ আল জাজিরা অবশ্য ওই অ্যাকাউন্টের সত্যতা যাচাই করতে পারেনি।
নিউজন্যাশনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেছিলেন, মাদুরোর কিউবান দেহরক্ষীদের ধরাশায়ী করতে ওই ‘সনিক অস্ত্র’ ব্যবহার করা হয়েছিল। আর কারও কাছে এই অস্ত্র নেই। এই অস্ত্র সম্পর্কে কেউ কিছু জানেও না। আর আমি মনে করি, হয়ত এটা নিয়ে কথা না বলাই ভালো। আমাদের কাছে দারুণ কিছু অস্ত্র রয়েছে। এটা একটা অবিশ্বাস্য হামলা ছিল। এটা মনে রাখতে হবে বাড়িটি একটি দুর্গ ও সামরিক ঘাঁটি ঠিক মাঝখানে ছিল।
এরপর রোববার ট্রাম্পকে উদ্ধৃত করে নিউইয়র্ক পোস্ট প্রতিবেদন প্রকাশ করে। তাতে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের হাতে থাকা এই অস্ত্র প্রতিরক্ষা যন্ত্রপাতিকে নিষ্ক্রিয় করে দিতে পারে।
অতীতে শত্রুর প্রতিরক্ষা ব্যুহ ভাঙতে কী ধরনের অস্ত্র ব্যবহার করেছিল যুক্তরাষ্ট্র?
ব্রাসেলস ভিত্তিক সামরিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক এলিজাহ মাগনিয়ের আল জাজিরাকে বলেন, এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবহার করা সবচেয়ে শক্তিশালী ‘সনিক’ ব্যবস্থার নাম লং রেঞ্চ অ্যাকুয়াস্টিক ডিভাইস (এলআরএডি)। এগুলো প্রচলিত অস্ত্র নয়। বরং শক্তিশালী এই অস্ত্রগুলো হচ্ছে ফোকাসড সাউন্ড প্রজেক্টর। জাহাজ থামানো, ঘাঁটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়া, বহরকে সুরক্ষা দেওয়া, চেকপয়েন্ট পরিচালনা করা এবং ভিড় নিয়ন্ত্রণেও এসব অস্ত্র ব্যবহার করা হয়।
এসব ডিভাইসের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে দূরবর্তী স্থান উচ্চ শব্দে ভয়েজ কমান্ড দিয়ে আচরণ নিয়ন্ত্রণ করা। এতে এক ধরনের অস্বস্তি তৈরি হয়, তখন মানুষজন হয় সেই আদেশ মানতে বাধ্য হয় বা ওই এলাকা ছেড়ে যায়।
মাগনিয়ের বলেন, জাহাজে জলদূস্যতা ঠেকাতে, বন্দরের নিরাপত্তায় এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এই এলআরএডি মোতায়েন করে থাকে। সর্বোচ্চ আউটপুট সেটিংয়ে এই ডিভাইস যন্ত্রণা, মাথা ঝিমুনি, বমি বমি ভাব বা শ্রবণের ক্ষতি করতে পারে। তাই স্পর্শকাতর এবং নির্দিষ্ট ঘটনার ক্ষেত্রেই এই ডিভাইস ব্যবহার করা হয়। তবে এলআরএডি কোনো ইলেকট্রনিকস বা যোগাযোগ নেটওয়ার্ককে অচল করে দিতে সক্ষম নয়।
মানুষজনকে ছত্রভঙ্গ করতে আরেক ধরনের অস্ত্র ব্যবহার করা হয়। এগুলোকে বলে অ্যাকটিভ ডিনায়েল সিস্টেম (এডিএস)। প্রায়শই এগুলোকে ‘সনিক’ অস্ত্র হিসেবে ভুল ভাবা হয়। তবে এ ধরনের অস্ত্র শব্দকে ব্যবহার করে না। মাগনিয়ের বলেন, বরং এই ধরনের অস্ত্র মিলিমিটার ওয়েব এনার্জি ব্যবহার করে তীব্র গরম তৈরি করে। এতে মানুষজন ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়।
‘এডিএস ২০১০ সালে আফগানিস্তানে পাঠানো হয়েছিল। তবে যুদ্ধক্ষেত্রে সেগুলো ব্যবহারই করা হয়নি। এলআরএডি’র মতো এডিএসও মানুষজনকে সরিয়ে দেওয়ার জন্য ব্যবহার হয়ে থাকে। মেশিনের ওপর এগুলোর কোনো প্রভাব নেই।’
এই ডিভাইসগুলো কীভাবে কাজ করে?
এলআরএডি সিস্টেম শব্দকে একটি সংকীর্ণ তরঙ্গে পরিণত করতে পারে। লো সেটিংয়ে এই যন্ত্র ব্যবহার করে দূরবর্তী স্থানেও স্পষ্টভাবে কমান্ড দেওয়া যায়। আর হাই সেটিংয়ে এগুলো শারীরিক অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এই প্রভাবগুলো শুধু শারীরিক ও মানসিক বলে জানান মাগনিয়ের। তিনি বলেন, এলআরএডি’র ইলেকট্রোম্যাগনেটিক সক্ষমতা নেই। তাই এটি মিসাইল, রাডার, কম্পিউটার বা কমিউনিকেশন সিস্টেম বন্ধ করে দিতে পারে না।
আর এডিএস দ্রুত তাপ উৎপাদন করে ত্বকে অস্বস্তি সৃষ্টি করে। এতে যাদের ওপর এই ডিভাইস প্রয়োগ করা হয়, তারা সেই স্থান থেকে চলে যেতে বাধ্য হন। এটি একটি অপ্রাণঘাতী এরিয়া-ডিনাইয়াল টুল, যা দিয়ে মূলত ভিড় নিয়ন্ত্রণ এবং নির্দিষ্ট স্থানের প্রতিরক্ষা নিশ্চিত করা হয়।
এই দুটি ব্যবস্থার কোনোটিই আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, কমিউনিকেশন নেটওয়ার্ক বা সামরিক যন্ত্রপাতি নিষ্ক্রিয় করতে পারে না, বলছিলেন মাগনিয়ের। তিনি বলেন, যদি কোনো যন্ত্র কাজ করা বন্ধ করে দেয়, সেটা ইলেকট্রোম্যাগনেটিক, সাইবার বা পাওয়ার ডিনাইয়াল মেথডের কারণে হয়ে থাকতে পারে।
কোনো ব্যবস্থা ও যন্ত্রপাতি নিষ্ক্রিয় করতে কী ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্র?
যুদ্ধক্ষেত্রে শত্রুপক্ষের ডিভাইস নিষ্ক্রিয় করতে নন-কিনেটিক ও প্রি-কিনেটিক টুল ব্যবহার করে থাকে মার্কিন সেনাবাহিনী। যেমন-
• ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার (ইডব্লিউ)
রাডার সিস্টেম জ্যাম, কমিউনিকেশন ব্লক, জিপিএস ট্রিক ও সেন্সরকে বোকা বানায় ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার (ইডব্লিউ)। এগুলোর মাধ্যমে ইলেকট্রোম্যাগনেটিক স্পেকট্রাম নিয়ন্ত্রণ করা যায়। ইডব্লিউ প্রতিপক্ষকে এমনভাবে বোকা যায় যে, তারা কিছু বুঝে ওঠার আগেই যুক্তরাষ্ট্র তার কাজ করে ফেলে।
• সাইবার-ফিজিক্যাল অপারেশন্স
নেটওয়ার্ক এবং ইন্ডাস্ট্রিয়াল কন্ট্রোল সিস্টেমে ব্যাঘাত ঘটিয়ে এ ধরনের অপারেশন চালানো হয়। এ ধরনের হামলার সবচেয়ে সুপরিচিত উদাহরণ হচ্ছে স্টাক্সনেট ক্যাম্পেইন। ২০০৯ সালে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়। স্টাক্সনেট ওয়ার্ম দিয়ে চালানো ওই হামলা ইরানের নিউক্লিয়ার সেন্ট্রিফিউজ কন্ট্রোলারে ঢুকে সেগুলোর সফটওয়্যারই বদলে দেয়।
• কাউন্টার ইলেকট্রনিক্স
এটি ইলেকট্রনিক্সের সার্কিটে মাইক্রোওয়েভ পালসের ক্রগামত আক্রমণ চালিয়ে ডিভাইসকে নিষ্ক্রিয় করে। যুক্তরাষ্ট্র কাউন্টার-ইলেকট্রনিক্স হাই পাওয়ার মাইক্রোওয়েভ অ্যাডভান্সড মিসাইল প্রজেক্টের (চ্যাম্প) মাধ্যমে শারীরিক শক্তি প্রয়োগ না করে ইলেকট্রনিক্স ডিভাইস নিষ্ক্রিয় করে।
• গ্রাফাইট বা কার্বন-ফাইবার মিউনিশন
সব যন্ত্রপাতি ধ্বংস না করে বরং ইলেট্রিক্যাল গ্রিডে শর্ট সার্কিটের মাধ্যমে ব্যাপক বিদ্যুৎ বিভ্রাট ঘটিয়ে শত্রুপক্ষকে ঘায়েলের এই প্রক্রিয়ার নাম গ্রাফাইট বা কার্বন-ফাইবার মিউনিশন। তথ্যগত সুবিধা পেতে এবং সংঘাতপূর্ণ বিভিন্ন এলাকার নিয়ন্ত্রণ নিতে মার্কিন সামরিক বাহিনী এটি গুরুত্বপূর্ণ টুল হিসেবে ব্যবহার করে থাকে। ১৯৯১ সালে ইরাকে, ১৯৯৯ সালে সার্বিয়ায় এবং ২০০৩ সালে ফের ইরাকে এই প্রক্রিয়ায় বিদ্যুৎ বিভ্রাট ঘটিয়েছিল মার্কিন বাহিনী।
অন্য দেশে কখনও নতুন অস্ত্র পরীক্ষা করেছে যুক্তরাষ্ট্র?
নতুন নতুন অস্ত্রের পরীক্ষা চালানো যুক্তরাষ্ট্রের জন্য দুধভাত। নতুন প্রযুক্তি প্রস্তুত হওয়ার পর সেগুলো আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে প্রয়োগের ভুরি ভুরি উদাহরণ রয়েছে। ১৯৯১ সালে উপসাগরীয় যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র প্রথমবারের মতো স্টেলথ এয়ারক্রাফট, প্রিসিশন-গাইডেড বম্ব ও ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার ব্যাপক পরিসরে ব্যবহার করে। আর ২০০৯ সালে ইরানে চালানো সাইবার হামলা কৌশলগত পর্যায়ে ব্যবহার হওয়া প্রথম সাইবার-ফিজিক্যাল উইপেন।
আফগানিস্তানে ২০০৭ সালে প্রথমবারের মতো জিবিইউ-43/বি এমওএবি বোমা প্রয়োগ করে যুক্তরাষ্ট্র। এই বোমাকে ‘দ্য মাদার অব অল বম্বস’ও বলা হয়। টানেলের মতো সুরক্ষিত আন্ডারগ্রাউন্ড টার্গেট লক্ষ্য করে এই নন-নিউক্লিয়ার বোমার বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। মাগনিয়েরের ভাষায়, নতুন অস্ত্রের প্রয়োগ মানে এটা নয় যে, গোপন অস্ত্রের পরীক্ষা চালানো হচ্ছে। বরং বাস্তব পরিস্থিতিতে নতুন অস্ত্র প্রয়োগ করে, সেগুলোর উন্নয়ন ঘটানোও এর উদ্দেশ্য থাকে।
অন্য বড় দেশও গোপনে নতুন ব্যবস্থার পরীক্ষা চালায়। বিশেষ করে ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার, সাইবার-অপারেশন্স, স্পেস টার্গেটিং, সিগন্যালস ইন্টেলিজেন্স ও স্পেশাল অপারেশন্সে এমন কিছুর দেখা মেলে। আবার অনেক সময় একাধিক দেশ একজোট হয়েও নতুন অস্ত্রের প্রয়োগ করতে পারে। তেমনই একটি উদাহরণ হলো স্টাক্সনেট হামলা। আবার ইসরায়েলের মাধ্যমে ফিলিস্তিন, লেবানন ও ইরানে হামলা চালিয়ে নিজেদের ভিন্ন ভিন্ন অস্ত্রের সক্ষমতা যাচাই করে দেখে যুক্তরাষ্ট্র।
অবশ্য মাঝে-মধ্যে মুদ্রার ওপর পিঠও দেখা যায়। তাই বেশ কয়েক বছর আগে মার্কিন কর্মকর্তাদের ওপর ‘সনিক উইপেন’ ব্যবহারের অভিযোগ আলোচনার জন্ম দিয়েছিল। ২০১৭ সালে হাভানায় বেশ কয়েকজন মার্কিন কূটনীতিক এ ধরনের অস্ত্রের হামলায় মারাত্মক আহত হন। তারা শেষ পর্যন্ত হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে কিউবা ছাড়েন।
তৎকালীন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসন বলেছিলেন, কিউবার রাজধানীতে মার্কিন মিশন ‘স্বাস্থ্যগত হামলার’ শিকার হয়েছিল। তখন বেশ কয়েকজন কর্মীকে শ্রবণ সমস্যা নিয়ে দেশটি ছাড়তে হয় বলেও জানিয়েছিলেন তিনি। কানাডার সরকারও জানিয়েছিল, তাদের অন্তত একজন কূটনীতিককে একই ধরনের সমস্যায় পড়তে হয়।
ট্রাম্প ‘ডিসকম্বোবুলেটর’ বলতে কী বুঝিয়েছেন?
ডিসকম্বোবুলেটর বলতে ঠিক কী বোঝায়, তার আনুষ্ঠানিক কোনো সংজ্ঞা নেই। মাগনিয়ের বলেন, এগুলো কোনো টেকনিক্যাল টার্ম নয়। বরং বিদ্যমান টুলকে রাজনৈতিক মোড়ক দিতেই ব্যবহার করা হয়ে থাকতে পারে। এক্ষেত্রে সবচেয়ে যৌক্তিক ব্যাখ্যা হচ্ছে, পরিচিত কিছু নন-কিনেটিক টুলকে বোঝাতেই এই টার্ম ব্যবহার করা হয়েছে। এটি নতুন কোনো ডিভাইস নয়।
‘খবরে বলা হয়েছিল, ভেনেজুয়েলায় অভিযানের সময় রাশিয়ার তৈরি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা চালু হতে ব্যর্থ হয়। এর মানে দাঁড়াচ্ছে এগুলো ঠিকঠাক মতো ইন্টিগ্রেট হয়নি বা প্রস্তুত ছিল না। এটা ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার, নড সাপ্রেশন, সাইবার হামলা বা দুর্বল অপারেশনের কারণে হয়ে থাকতে পারে। সিরিয়ায়ও ইসরায়েলের হামলার আগে আগে ঠিক এমনটাই ঘটেছিল।’
সনিক অস্ত্র সৈন্য ও রক্ষীদের ওপর প্রভাব ফেলে থাকতে পারে। কারাকাসে ওই অভিযানের সময় কেউ যদি শারীরিকভাবে আক্রান্ত হয়েও থাকে, এর মানে এই নয় যে, নতুন একটি ‘সনিক উইপেন’ ব্যবহার করা হয়েছে। এগুলো বরং ব্লাস্ট প্রেসার, ফ্লাশ ব্যাং ডিভাইস বা অন্য প্রচলিত বিঘ্ন সৃষ্টিকারী টুলের প্রভাবে হয়ে থাকতে পারে। নতুন কোনো অস্ত্র ব্যবহার হয়েছে, এমন দৃশ্যমান কোনো প্রমাণ খুঁজে পাওয়া যায়নি বলেও জানান মাগনিয়ের।
> আল জাজিরা থেকে ভাষান্তর করেছেন আহাম্মদ উল্লাহ সিকদার