Search

Search

এক্সক্লুসিভ ও ব্রেকিং খবর পেতে আপনার মোবাইল নম্বরটি দিন

স্টার পরিবারে আপনাকে স্বাগতম। নিশ্চিন্ত থাকুন, আমরা স্প্যাম করি না।

আশা-নিরাশায় বেঁচে থাকা গাজাবাসী নতুন বছরে কী চায়?

রয়টার্স। দুই সন্তানকে নিয়ে ইসরায়েলি হামলায় বিধ্বস্ত এলাকা ছেড়ে যাচ্ছেন একজন ফিলিস্তিনি মা।
বর্ণিল আয়োজনে ২০২৬ খ্রিষ্টীয় নববর্ষ বরণ করেছে বিশ্ব। কিন্তু নতুন বছরের আনন্দ স্পর্শ করতে পারেনি ইসরায়েলি হামলায় বিধ্বস্ত জনপদ গাজার বাসিন্দাদের। আশা-নিরাশায় বেঁচে থাকা উপত্যকার ২২ লাখ ফিলিস্তিনির প্রত্যাশা, নতুন বছরে যাতে যুদ্ধবিরতির দ্বিতীয় ধাপ কার্যকর হয়। যাতে তারা নিজেদের বসতভিটায় ফিরে যেতে পারেন।

খৃষ্টীয় নববর্ষ উদযাপনে সারা বিশ্বের মানুষের এমন আনন্দ ছুঁতে পারেনি গাজার ফিলিস্তিনিদের। নেই কোনো উৎসবের আমেজ, যা আছে তার সবই ইসরায়েলি ধ্বংসযজ্ঞ আর বাস্তুচ্যুতির ক্ষত। আর এর মাঝেই ২০২৬ সাল এলো তাদের কাছে। জীবন নিয়ে সন্দিহান আর আশা-নিরাশার দোলাচলে ২ বছরের বেশি সময় যুদ্ধে পার করা এসব মানুষ এখনো জীবন গড়ার ক্ষীণ আশায় বেঁচে থাকার লড়াই করছে।

তাদেরই একজন তরুণ রাঁধুনি সামাহ হাবুব। একসময় গাজায় নিজের রেস্তোরাঁ ছিল তার। যুদ্ধ কেড়ে নিয়েছে তার ব্যবসা, ধ্বংস করেছে বসত ভিটাও। নতুন বছর তাদের কাছে খুব বেশি কিছু না হলেও ভালো কিছু হোক, এ আশায় বুক বেঁধেছেন তিনি।

সামাহ হাবুব বলেন, ‘আমি আশা করি, যুদ্ধের বছরগুলোতে যেসব ক্ষতি আমি সহ্য করেছি, ২০২৬ সাল তার কিছুটা হলেও পূরণ করবে। আমি চাই আবার আমার ভেঙে পড়া ঘরটি গড়ে তুলতে, বন্ধ হয়ে যাওয়া রেস্তোরাঁটি নতুন করে খুলতে। আর সবচেয়ে বড় আশা—আমার সন্তানরা যেন আবার স্কুলে ফিরতে পারে, শিক্ষা পাওয়ার মৌলিক অধিকার থেকে আর বঞ্চিত না হয়। আমি স্বপ্ন দেখি, আমাদের জীবন একদিন আবার আগের মতো স্বাভাবিক হয়ে উঠবে।’

সামাহর গল্প একক কোনো ঘটনা নয়। গাজাজুড়ে হাজার হাজার পরিবার অস্থায়ী শিবির আর ভাঙা অবকাঠামোর মধ্যে মানবেতর জীবন যাপন করছে। তাদের একটাই চাওয়া—যেন ফিরতে পারেন নিজের ভিটেমাটিতে।

জামিল কাদ্দওম নামে আরেক ফিলিস্তিনি বলেন, ‘আমাদের কামনা হলো যুদ্ধ ও ভোগান্তি থেকে মুক্ত হওয়া। এই তাঁবুগুলোতে না থেকে নিজেদের ঘরে ফিরে যাওয়া। শীতকাল সকলেই জন্যই খুব কঠিন।’

শীত, বৃষ্টি আর ইসরায়েলি হামলায় ধ্বংস হওয়া অবকাঠামোর কারণে প্রতিদিনই জীবন কঠিন হয়ে উঠছে। তবু হতাশার মাঝেও গাজাবাসীরা তাকিয়ে আছে যুদ্ধবিরতির পরবর্তী ধাপের দিকে।

ফিলিস্তিনি এনজিও নেটওয়ার্কের প্রধান আমজাদ আল বলেন, ‘নতুন বছরের শুরুতে আমরা যুদ্ধবিরতির দ্বিতীয় ধাপ দ্রুত কার্যকর হওয়ার প্রত্যাশা করছি, যা এই ধ্বংসযজ্ঞ পুনরুদ্ধারের পথ সুগম করবে। এছাড়া, সেটি হলে ইসরায়েলি দখলদার বাহিনী গাজা থেকে তুলে নেওয়া হবে। সেইসঙ্গে সব ধরনের সহায়তা প্রবেশের জন্য সীমান্ত খুলবে।’

গাজার মানুষের কাছে ২০২৬ তাই কেবল একটি বছর নয়। এটি বেঁচে থাকার লড়াইয়ের আরেকটি অধ্যায় যেখানে ধ্বংসস্তূপের মাঝেও টিকে আছে ঘরে ফেরার স্বপ্ন, আর শান্তিতে বাঁচার আকাঙ্ক্ষা।

সম্পর্কিত খবর :