ইরান আহত হলেও এখনও বিপজ্জনক: সিএনএন
প্রায় অর্ধশতাব্দী ধরে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য সর্বাত্মক যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে ইরান। সামরিক শক্তিতে ওয়াশিংটনের সমকক্ষ না হলেও, তেহরানের রয়েছে এমন কৌশল যা মধ্যপ্রাচ্য তো বটেই, বিশ্ব অর্থনীতিকেও কাঁপিয়ে দিতে পারে। দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক মন্দা ও অভ্যন্তরীণ অস্থিরতায় ইরান আহত হলেও এখনও বিপদজনক। এমনই শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মার্কিন স্বার্থ এবং ইসরায়েলের উপর আক্রমণসহ, মিত্র গোষ্ঠীগুলোকে একত্রিত করা এবং অর্থনৈতিক প্রতিশোধ নেওয়ার মতো সক্ষমতা আছে তেহরানের।
গণবিক্ষোভ, অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা ও অর্থনৈতিক চাপ সব মিলিয়ে ইরান এই মুহূর্তে টালমাটাল সময় পার করছে। তবে ‘দুর্বলতা’ থাকলেও দেশটি ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের জন্য মধ্যপ্রাচ্যে এখনও মাথা ব্যথার বড় কারণ। আর সেই শঙ্কা উঠে এসেছে খোদ মার্কিন গণমাধ্যম সিএনএনের এক প্রতিবেদনে। এতে বলা হয়, গেল বছরের জুন মাসে ইসরায়েলের সঙ্গে ১২ দিনের যুদ্ধ ও মার্কিন বাংকার বাস্টার বোমার হামলায় ইরানের ভিত্তি নড়বড়ে হলেও দেশটি এখন একটি আহত সিংহের মতোই বিপজ্জনক।
মার্কিন হামলার জবাব দেওয়ার মতো সক্ষমতা এখনও তেহরানের আছে বলেই বিশ্বাস বিশেষজ্ঞদের। এ নিয়ে ওয়াশিংটন ইনস্টিটিউটের ইরানের নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা বিষয়ে বিশেষজ্ঞ ফারজিন নাদিমি বলেন, ট্রাম্প হামলা চালালে তেহরান এটিকে অস্তিত্বের যুদ্ধ হিসেবে দেখতে পারে। আর তা হলে তেহরান তাদের সর্বোচ্চ সক্ষমতা দিয়ে পাল্টা জবাব দেবে।
ট্রাম্পের হামলার পাল্টা জবাবে ইরানের সক্ষমতা কতটুকু তার একটি পর্যালোচনা করেছে সংবাদমাধ্যমটি। বলছে, ইরানের কাছে রয়েছে কয়েক হাজার শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন। যা মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন সেনাঘাঁটিগুলোতে আঘাত হানতে সক্ষম। তেহরানের হাতে আছে ২০ ধরনের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র। এরমধ্যে রয়েছে স্বল্প, মাঝারি এবং দীর্ঘ পাল্লার সিস্টেম, যা সর্বোচ্চ ৩ হাজার কিলোমিটার বা দক্ষিণ ইউরোপ পর্যন্ত লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম।
মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র অত্যাধুনিক হলেও ইরানের ব্যালিস্টিক সক্ষমতাও কোনো অংশে পিছিয়ে নেই। মাত্র ১২ দিনের সংঘাতে ইসরায়েলের বহুস্তরবিশিষ্ট, বিশ্বখ্যাত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেদ করে যে বিধ্বংসী আঘাত হানা হয়েছে, সেটাই ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র শক্তির প্রমাণ।
যুক্তরাষ্ট্রের আরেক বড় আতঙ্ক ইরানের মিত্রশক্তির সক্রিয় ভূমিকা। তেহরান স্পষ্ট জানিয়েছে, ট্রাম্প হামলা চালালে কঠোর জবাব আসবেই। মার্কিন বিশ্লেষকদের শঙ্কা, ইরানে হামলা হলে একযোগে জ্বলে উঠবে তার আঞ্চলিক মিত্ররাও। যেমন ইরাকের কাতায়েব হিজবুল্লাহ ও হারাকাত আল-নুজাবা, লেবাননের হিজবুল্লাহ এবং ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা। এরই মধ্যে লেবাননের হিজবুল্লাহ গোষ্ঠী ঘোষণা দিয়েছে, ইরানের ওপর মার্কিন হামলা হলে তারা সরাসরি যুদ্ধে নামবে যা পুরো মধ্যপ্রাচ্যতে অস্থিরতা তৈরি করতে পারে।
মার্কিনিদের পরাস্ত করতে তেহরানের আরেক হাতিয়ার হলো অর্থনৈতিক যুদ্ধ, যা পুরো বিশ্বকে নাড়িয়ে দিতে পারে। বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ জ্বালানি উৎপাদনকারী দেশ ইরান। এছাড়া দেশটির হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বের এক-পঞ্চমাংশেরও বেশি তেল এবং তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবহন হয়। তেহরানের ওপর হামলা হলে ইরানের শাসকগোষ্ঠী এই প্রণালী বন্ধ করে দেওয়ার হুমকিও দিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইরান এটি করলে বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক মন্দার সূত্রপাত হতে পারে।