ইরানের বিপ্লবী গার্ডকে ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’ ঘোষণা করল ইইউ
ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীকে (আইআরজিসি) সন্ত্রাসী সংগঠনের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা।
বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পোস্ট করা এক বার্তায় এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন ইইউর পররাষ্ট্র বিভাগের প্রধান কাজা কালাস।
চলতি বছরের শুরুর দিকে ইরানে বিদেশি মদদপুষ্ট বিক্ষোভকারীদের দমনে দেশটির দমন-পীড়নের প্রতিক্রিয়ায় এ পদক্ষেপ নিয়েছে ইইউ। এই সিদ্ধান্তের ফলে আইআরজিসির সব সদস্যের সম্পদ জব্দ, অর্থায়ন নিষিদ্ধকরণ এবং ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে। তবে তাদের অনেকেই ইতোমধ্যে ইইউর নিয়মিত নিষেধাজ্ঞার আওতায় এসব বিধিনিষেধের মধ্যে ছিলেন।
বৃহস্পতিবার এ ইস্যুতে বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলসে ইইউ’র সদস্যরাষ্ট্রগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠক ছিল। সেই বৈঠকে সর্বসম্মতিক্রমে আইআরজিসিকে সন্ত্রাসী গোষ্ঠী হিসেবে আখ্যায়িত করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে- উল্লেখ করে কাজা কালাস বলেন, ‘কোনো প্রকার দমন-পীড়নকে ছাড় দেওয়া ইইউর নীতিবিরুদ্ধ। যে সরকার নিজের ক্ষমতা ধরে রাখতে নিজেদের হাজার হাজার মানুষকে হত্যা করে, সেই সরকার আসলে নিজের অজান্তে নিজের কবর খোঁড়ে।’
নেদারল্যান্ডসের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডেভিড ভ্যান উইল ইইউর বৃহস্পতিবারের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।
এ প্রসঙ্গে এএফপিকে তিনি বলেন, ‘সম্প্রতি ইরানে আমরা যে রক্তপাত আমরা দেখলাম, তার প্রতিবাদ হিসেবে আমরা এ পদক্ষেপ নিয়েছি। আন্দোলন দমনের নামে যে নিষ্ঠুরতা তেহরান দেখিয়েছে, তা সহ্যের অতীত।’
ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিডিওন সা’র এই সিদ্ধান্তকে ‘ঐতিহাসিক’ বলে অভিহিত করেছেন। ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের মতে, এই ঘোষণার ফলে এখন থেকে ইউরোপে আইআরজিসি সদস্যদের বিরুদ্ধে আইনিব্যবস্থা নেওয়া অনেক সহজ হবে।
তবে এ সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছে তেহরান। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি একে একটি ‘কৌশলগত ভুল’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘ইউরোপ যখন আমাদের জাতীয় সামরিক বাহিনীকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে চিহ্নিত করছে, তখন তারা আসলে এই অঞ্চলে উত্তেজনার আগুনে ঘি ঢালছে।’