Search

Search

হাতিয়ায় থানা ঘেরাও করে হান্নান মাসউদের বিক্ষোভ

বিএনপি-এনসিপি সংঘর্ষে হাতিয়া রণক্ষেত্র | সংগৃহীত
নোয়াখালীর হাতিয়ায় ফেরিঘাট উদ্বোধনকে কেন্দ্র করে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এবং বিএনপি নেতা-কর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনার প্রতিবাদে এবং জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবিতে কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে নিয়ে হাতিয়া থানা ঘেরাও করেন এনসিপি প্রার্থী আব্দুল হান্নান মাসউদ।

শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) রাত ৮টা থেকে ১০টা পর্যন্ত দুই ঘণ্টা হাতিয়া থানার সামনে অবস্থান নেন তারা। এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক হান্নান মাসউদ এ সময় ‘সন্ত্রাসীদের’ গ্রেপ্তারে প্রশাসনকে ৪৮ সময় বেঁধে দিয়ে প্রয়োজনে পুলিশ সুপারের কার্যালও ঘেরাও করা হুমকি দেন।

তিনি অভিযোগ করেন, শুক্রবার বিকেলে হাতিয়ার নলচিরা ঘাটে ফেরি উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তার ৮-১০ জন সমর্থককে পিটিয়ে আহত করে নদীতে ফেলে দিয়েছে ‘অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীরা’। বার বার বলার পরও প্রশাসন এসব ‘সন্ত্রাসীদের’ বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না।

পরে উপজেলা নির্বাহী অফিসার এবং ওসির অনুরোধে ‘সন্ত্রাসীদের’ গ্রেপ্তারে ৪৮ ঘণ্টা সময় বেঁধে দিয়ে থানার সামনে থেকে কর্মী সমর্থকদের নিয়ে ফিরে যান এনসিপি নেতা।

এর আগে, গতকাল শুক্রবার বিকেলে হাতিয়ার নলচিরা-চেয়ারম্যান ঘাট ফেরিঘাট উদ্বোধনকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও এনসিপিকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে আহত হন ১১ দলীয় জোটের ২১ জন কর্মী।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নলচিরা-চেয়ারম্যান ঘাট নৌ-পথে ফেরি সার্ভিসের উদ্বোধন করেন নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. নুরুন্নাহার চৌধুরী। উদ্বোধন শেষে ফেরি চালুর কৃতিত্ব নিয়ে এনসিপি ও বিএনপি উভয়পক্ষের নেতা-কর্মীরা পাল্টাপাল্টি স্লোগান দিতে থাকলে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এক পর্যায়ে তা ব্যাপক সংঘর্ষে রূপ নেয়।

এছাড়া শুক্রবার সন্ধ্যায় বিএনপি প্রার্থী মাহবুবের রহমান শামীমের বাসভবনে ইটপাটকেল নিক্ষেপের অভিযোগও পাওয়া যায়। এ ব্যাপারে তার পক্ষ থেকে সরাসরি মন্তব্য পাওয়া না গেলেও মিডিয়া সেলের সদস্য জহির উদ্দিন তুহিন দাবি করেন, এনসিপি কর্মীরাই বিএনপি প্রার্থী মাহবুবের রহমান শামীমের বাসায় হামলা চালিয়েছে।

এদিকে, সন্ধ্যায় আব্দুল হান্নান মাসউদের কয়েকশ নেতাকর্মী নিয়ে হাতিয়া থানা ঘেরাও করে বিক্ষোভ করায় প্রায় দুই ঘণ্টা সড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকে। পরে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে দোষীদের গ্রেপ্তারের আশ্বাস দেওয়া হলে তিনি বিক্ষোভ কর্মসূচি প্রত্যাহার করে নেন।

হান্নান মাসউদ অভিযোগ করে বলেন, ‘আওয়ামী লীগের চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের আশ্রয় দিয়ে বিএনপির লোকজন আমাদের ওপর হামলা করিয়েছে।’ সাধারণ মানুষকে সঙ্গে নিয়ে এসব লাঠিয়াল বাহিনীর বিরুদ্ধে পাড়ায় পাড়ায় প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।

হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল আলম জানান, বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। কোনো পক্ষই এখনো লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পুলিশ, নৌ-পুলিশ, বাংলাদেশ নৌবাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

সম্পর্কিত খবর :