Search

Search

বালুচিস্তানে ৪০ ঘণ্টার অভিযানে ১৪৫ বিচ্ছিন্নতাবাদী নিহত

বালুচিস্তানে চ্ছিন্নতাবাদীদের হামলায় পুড়ে যাওয়া যানবাহনের পাশে কিছু মানুষকে জড়ো হতে দেখা যায় | ছবি: এএফপি
পাকিস্তানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশ বালুচিস্তানে গত কয়েক বছরের মধ্যে ভয়াবহতম সংঘাতের ঘটনা ঘটেছে। প্রদেশের বিভিন্ন স্থানে উগ্রবাদীদের সমন্বিত হামলার জবাবে নিরাপত্তা বাহিনীর পাল্টা অভিযানে ৪০ ঘণ্টায় ১৪৫ জন সশস্ত্র উগ্রবাদী নিহত হয়েছে। রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন বালুচিস্তানের মুখ্যমন্ত্রী সরফরাজ বুগতি।

মুখ্যমন্ত্রী জানান, শুক্রবার ও শনিবার চালানো অভিযানে এবং পরবর্তী ‘ক্লিয়ারেন্স অপারেশনে’ এসব উগ্রবাদী নিহত হয়। তবে এই ভয়াবহ সংঘাতে নিরাপত্তা বাহিনীর ১৭ জন সদস্য এবং ৩১ জন সাধারণ বেসামরিক নাগরিকও প্রাণ হারিয়েছেন। পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর দাবি অনুযায়ী, শনিবার একদিনেই ৯২ জন উগ্রবাদীকে নির্মূল করা হয়েছে।

নিষিদ্ধ বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী বালুচ লিবারেশন আর্মি এই হামলার দায় স্বীকার করেছে। তারা এই অপারেশনকে ‘হেরোফ’ বা ‘কালবৈশাখী’ নামে অভিহিত করেছে। প্রদেশটির প্রাকৃতিক সম্পদের ন্যায্য হিস্যা এবং স্বায়ত্তশাসনের দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে সশস্ত্র লড়াই চালিয়ে আসা বিএলএ এবার একযোগে কোয়েটা, গোয়াদর, মাস্তুং ও নোশকি-সহ বেশ কিছু জেলায় হামলা চালায়।

পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী খাজা আসিফ উদ্বেগজনক তথ্য জানিয়ে বলেন, বিএলএ এখন নারী আত্মঘাতী বোমা হামলাকারীদের ব্যবহার করছে। শনিবার ১২টি শহরে চালানো হামলার মধ্যে অন্তত দুটিতে নারীরা সরাসরি অংশ নিয়েছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন।

এদিকে এই হামলার পেছনে ভারতের মদত রয়েছে বলে দাবি করেছে পাকিস্তান সেনাবাহিনী। তবে ভারত এই অভিযোগকে ‘ভিত্তিহীন’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে। ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল বলেন, ‘নিজেদের অভ্যন্তরীণ ব্যর্থতা ঢাকতেই ইসলামাবাদ এমন অভিযোগ করছে। তাদের উচিত নিজেদের জনগণের দাবি পূরণ করা।’

বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ওই অঞ্চলের হাসপাতালগুলোতে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে এবং সেনাবাহিনী ও কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট বড় ধরনের চিরুনি অভিযান অব্যাহত রেখেছে।

সম্পর্কিত খবর :