নিয়ন্ত্রণের বাইরে ইরানের সরকারবিরোধী বিক্ষোভ!
মাত্র দুই সপ্তাহের মধ্যেই বদলে গেল ইরানের ছবি। যে দেশের সাধারণ মানুষ পথে নামে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে। এখন সেখানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভের আগুন জ্বলছে। দেশটির সাম্প্রতিক সহিংস আন্দোলনের কারণে প্রাণ গেছে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস বা আইআরজিসির আট সেনার।
শত্রুর হামলা থেকে দেশকে রক্ষা, কিংবা মধ্যপ্রাচ্যে আঞ্চলিক প্রভাব তৈরি, সবখানেই ইরানিদের গর্বের জায়গা ছিল আইআরজিসি। এবার বিক্ষোভাকারীদের সহিংসতার শিকার হলো তারাই।
যুক্তরাষ্ট্র ও অনেক পশ্চিমা দেশের কাছে আইআরজিসি ‘সন্ত্রাসী বাহিনী’। আর ইসরাইলের জন্য এই অভিজাত বাহিনী হলো ‘যমদূত’। এমন সুরক্ষিত বাহিনীর সদস্যরা নিজ দেশেই হামলার লক্ষ্যবস্তু হচ্ছেন। এতে দুশ্চিন্তা বাড়াচ্ছে দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ সরকারের নীতি নির্ধারকদের।
সক্রিয় ও রিজার্ভ মিলিয়ে ইরানের সেনাসংখ্যা প্রায় ১০ লাখ। শুধু আইআরজিসির অধীনেই অন্তত এক লাখ ৫০ হাজার সেনা রয়েছে। যাদের অনেকেরই মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন যুদ্ধের বাস্তব অভিজ্ঞতা রয়েছে।
এদিকে ইরানের আন্দোলন নিয়ে নতুন তথ্য দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের টাইম ম্যাগাজিন। তেহরানের এক চিকিৎসকের বরাত দিয়ে শনিবার সংবাদমাধ্যমটি দাবি করছে, বৃহস্পতিবার রাতে মাত্র ছয়টি হাসপাতালে কমপক্ষে ২১৭ জন বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন, যার অধিকাংশই সরাসরি গুলিতে। বিক্ষোভ ঠেকাতে ওই রাতেই দেশের প্রায় সব জায়গায় ইন্টারনেট ও ফোন সংযোগ বন্ধ করে দেওয়া হয়।
প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়, ইরানের বিক্ষোভ এখন দেশটির ৩১টি প্রদেশে ছড়িয়ে গেছে।
এ পরিস্থিতিতে ইরানকে সতর্ক করেছে জাতিসংঘ। বিক্ষোভকারীদের অধিকার নিশ্চিতের তাগিদ দিয়েছে সংস্থাটি।
এ বিষয়ে জাতিসংঘ মহাসচিবের মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিক বলেছেন, ‘আমরা ইরানের পরিস্থিতি অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছি। যে প্রাণহানি ঘটেছে তা গভীর উদ্বেগজনক। বিশ্বের যেকোনো স্থানে মানুষ শান্তিপূর্ণভাবে বিক্ষোভ করার অধিকার রাখে। সরকারের দায়িত্ব হলো সেই অধিকার সুরক্ষিত রাখা এবং সম্মান করা।’
ইরানের বিভিন্ন সময়ের আন্দোলনে নানান অর্থনৈতিক দাবির পাশাপাশি সামাজিক স্বাধীনতার প্রশ্নও বারবার উঠে এসেছে। তীব্র অর্থনৈতিক মন্দা ও মূল্যস্ফীতি, পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আন্তর্জাতিক বিরোধ, এগুলো ইরানের সংকট বৃদ্ধির কারণ।
দমনমূলক পদক্ষেপ সত্ত্বেও মাসুদ পেজেশকিয়ানের সরকার বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকারও করেনি। সরকার বলছে, বাস্তব সংকটগুলোর সমাধান খোঁজা হচ্ছে।