মাথায় গুলি চালিয়ে আত্মহত্যা, ব্রাউন বিশ্ববিদ্যালয়ে হামলাকারীর মৃতদেহ উদ্ধার
ব্রাউন বিশ্ববিদ্যালয়ে সংঘটিত গুলিবর্ষণের ঘটনায় সন্দেহভাজনকে যুক্তরাষ্ট্রের নিউ হ্যাম্পশায়ারের সালেম-এর একটি স্টোরেজ স্থাপনা থেকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ছয় দিন ধরে একাধিক অঙ্গরাজ্যে চলা অভিযানের (ম্যানহান্ট) পর তার মরদেহ পাওয়া যায়।
গত সপ্তাহে ব্রাউন বিশ্ববিদ্যালয়ে গুলির ঘটনায় ২ জন নিহত হন এবং আহত হন ৯ জন।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, সন্দেহভাজনের নাম ক্লাউদিও নেভেস ভালেন্তে (৪৮)। তিনি পর্তুগালের নাগরিক এবং প্রায় ২৫ বছর আগে রোড আইল্যান্ডের প্রভিডেন্স-এ অবস্থিত ব্রাউন ইউনিভার্সিটিতে পড়াশোনা করেছিলেন।
প্রভিডেন্স পুলিশের প্রধান অস্কার পেরেজ জানান, ভিডিও ফুটেজ ও সাধারণ মানুষের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তদন্তকারীরা একটি গাড়ি ভাড়া দেওয়ার প্রতিষ্ঠানে পৌঁছান। সেখানেই সন্দেহভাজনের নাম পাওয়া যায় এবং তাকে তদন্তে চিহ্নিত ব্যক্তির সঙ্গে মিলিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়।
কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছে, তাদের ধারণা অনুযায়ী ১৩ ডিসেম্বর ব্রাউন ইউনিভার্সিটিতে গুলিবর্ষণের ঘটনার দুই দিন পর ভালেন্তে ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি-এর এক অধ্যাপককেও হত্যা করেছেন।
পিটার নেরোনহা জানান, ভালেন্তেকে একটি স্যাটচেল ও দুটি আগ্নেয়াস্ত্রসহ মৃত অবস্থায় পাওয়া গেছে। কাছাকাছি থাকা একটি গাড়িতে উদ্ধার হওয়া আলামত প্রভিডেন্সে অবস্থিত ব্রাউন ইউনিভার্সিটি-তে সংঘটিত গুলিবর্ষণের ঘটনার সঙ্গে মিলেছে।
প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, ভালেন্তে নিজেই গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা গেছেন। তবে তিনি কতদিন ধরে ওই স্টোরেজ ইউনিটে ছিলেন, সে বিষয়ে পুলিশ কোনো মন্তব্য করতে পারেনি।
এফবিআইয়ের স্পেশাল এজেন্ট-ইন-চার্জ টেড ডক্স বলেন, ‘আজ রাতে সন্দেহভাজনকে মৃত অবস্থায় পাওয়া গেলেও আমাদের কাজ শেষ হয়ে যায়নি। এখনও বহু প্রশ্নের উত্তর খুঁজে বের করতে হবে।’
তিনি আরও জানান, তদন্তে স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে সহায়তা করতে প্রায় ৫০০ এফবিআই এজেন্ট মোতায়েন করা হয়েছে।