ক্যারিয়ারের নতুন উচ্চতায় সিডনি সুইনি
এইচবিওর আলোচিত সিরিজ ‘ইউফোরিয়া’ দিয়ে বিশ্বব্যাপী পরিচিতি পাওয়া অভিনেত্রী সিডনি সুইনির জন্য ২০২৫ সাল একদিকে চ্যালেঞ্জিং, অন্যদিকে স্মরণীয়। বছরের শুরুতে একটি সিনেমা প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হলেও, আরেকটি সিনেমা তাকে এনে দিয়েছে ক্যারিয়ারের সর্ববৃহৎ বাণিজ্যিক সাফল্য।
নারীকেন্দ্রিক মনস্তাত্ত্বিক থ্রিলার ‘দ্য হাউজমেইড’ এখন আন্তর্জাতিক বক্স অফিসে আলোচনার শীর্ষে। ফ্রেইডা ম্যাকফ্যাডেনের জনপ্রিয় উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত এই সিনেমাতে সুইনির সঙ্গে অভিনয় করেছেন আমান্ডা সেফ্রিড ও ব্র্যান্ডন স্কলেনার।
পরিচালক পল ফিগ মাত্র ৪৫ মিলিয়ন ডলারের বাজেটে নির্মাণ করেন সিনেমাটি। কিন্তু মুক্তির প্রথম দিকেই চমক দেখিয়েছে এটি। ২৩-২৫ জানুয়ারির সপ্তাহান্তে বিশ্বব্যাপী টিকিট বিক্রি থেকে সিনেমাটির আয় দাঁড়িয়েছে প্রায় ২৯৫ মিলিয়ন ডলার-বাংলাদেশি মুদ্রায় যা প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকার কাছাকাছি।
এই সাফল্যের মাধ্যমে পল ফিগ নিজেরই আগের রেকর্ডধারী সিনেমা ‘ব্রাইডসমেইডস’-এর বক্স অফিস আয় ছাড়িয়ে গেছেন। একই সঙ্গে এটি হয়ে উঠেছে সিডনি সুইনির প্রধান চরিত্রে অভিনীত সর্বোচ্চ আয় করা সিনেমা। তার আগের রেকর্ডধারী রোমান্টিক কমেডি ‘এনিওয়ান বাট ইউ’ (২০৮ মিলিয়ন ডলার)–কেও অনেক ব্যবধানে পেছনে ফেলেছে ‘দ্য হাউজমেইড’।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, ২০২৫ সালে মুক্তি পাওয়া বেশ কয়েকটি আলোচিত ও সম্ভাব্য অস্কারপ্রার্থী সিনেমার চেয়েও বেশি আয় করেছে এই থ্রিলার।
মহামারির পর যখন বিশ্ব চলচ্চিত্র বাজার এখনো পুরোপুরি স্থিতিশীল হয়নি, তখন ‘দ্য হাউজমেইড’-এর সাফল্য নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে—মাঝারি বাজেটের নারীকেন্দ্রিক সিনেমা কি সত্যিই শুধু স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মের জন্য?
পরিচালক পল ফিগ স্পষ্টভাবেই এই ধারণার বিরোধী। তার মতে, শক্তিশালী গল্প ও মানসম্মত নির্মাণ থাকলে নারী দর্শকরাই হতে পারেন বড় পর্দার সবচেয়ে বড় চালিকাশক্তি। আর সেই যুক্তির সবচেয়ে জোরালো উদাহরণ হিসেবেই উঠে এসেছে ‘দ্য হাউজমেইড’।