তাপমাত্রার চরম ওঠানামায় ভারসাম্য হারাচ্ছে চুয়াডাঙ্গার প্রকৃতি
শীতকালে হাড়কাঁপানো ঠান্ডা আর গ্রীষ্মে প্রচণ্ড দাবদাহ— আবহাওয়ার এই দুই চরম বৈপরীত্যের কারণে চুয়াডাঙ্গা জেলা এখন জনস্বাস্থ্য ও কৃষির জন্য এক ঝুঁকিপূর্ণ জনপদে পরিণত হয়েছে। আবহাওয়া অফিসের গত ১২ বছরের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০১৩ সালের ৯ জানুয়ারি এখানে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছিল ৩ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
অন্যদিকে, ২০২৪ সালের ৩০ এপ্রিল তাপমাত্রা পৌঁছেছিল রেকর্ড ৪৩ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। আবহাওয়ার এই অস্বাভাবিক আচরণ আগামীতে আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে বলে সতর্ক করেছেন জলবায়ু বিশেষজ্ঞরা।
চুয়াডাঙ্গার সিভিল সার্জন ডা. হাদী জিয়া উদ্দিন আহমেদ জানান, তাপমাত্রার এমন তীব্র ওঠানামার কারণে এলাকায় রোগব্যাধির প্রকোপ বৃদ্ধি পাচ্ছে। পাশাপাশি কৃষিখাতেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক (শস্য) কৃষ্ণ রায় জানান, প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের ফলে ব্যাহত হচ্ছে কৃষিজ উৎপাদন এবং কমে যাচ্ছে ফলন।
উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ফারুক হোসেন ও বাপা চুয়াডাঙ্গার সভাপতি অধ্যাপক সিদ্দিকুর রহমান এই পরিস্থিতির জন্য ভৌগোলিক ও প্রাকৃতিক কারণকে দায়ী করেছেন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এখনই প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে এই জনপদ ভবিষ্যতে মহাবিপদে পড়তে পারে।