শিশু নির্যাতন: স্কুলের ব্যবস্থাপক পবিত্র কুমার বড়ুয়া কারাগারে
রাজধানীর নয়াপল্টন এলাকায় স্কুলে শিশু নির্যাতনের ঘটনায় স্কুলের ব্যবস্থাপক পবিত্র কুমার বড়ুয়াকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। একইসঙ্গে রিমান্ড শুনানির জন্য আগামী মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) দিন ধার্য করেছেন আদালত।
শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাইদের আদালত এ আদেশ দেন।
এ দিন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আসামিকে আদালতে হাজির করে পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। তবে তদন্ত কর্মকর্তা পল্টন মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. নূর ইসলাম আদালতে উপস্থিত না থাকায় আসামিকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত। রিমান্ড শুনানির জন্য আগামী ২৭ জানুয়ারি (মঙ্গলবার) ধার্য করেন।
প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই রোকনুজ্জামান স্টার নিউজকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে, গত ২৩ জানুয়ারি ভোরে রাজধানীর মিরপুর থেকে পবিত্র কুমার বড়ুয়াকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, গত বছরের ১৯ নভেম্বর ঢাকার নয়াপল্টন মসজিদ রোডে অবস্থিত শারমিন অ্যাকাডেমিতে প্লে শ্রেণিতে চার বছরের সন্তানকে ভর্তি করান বাদী। গত ১১ জানুয়ারি থেকে ওই শিশু নিয়মিত স্কুলে আসা-যাওয়া শুরু করে। ১৮ জানুয়ারি বাদী নিজে তার ছেলেকে সকালে স্কুলে দিয়ে আসেন। দুপুর আনুমানিক ১টার দিকে ছেলেকে আনতে স্কুলে গিয়ে দেখেন প্রিন্সিপাল শারমিন জাহান তার অফিসকক্ষে শিশুটির হাত চেপে ধরে আছেন। এ সময় তার স্বামী পবিত্র কুমার বড়ুয়া চেয়ারে বসে ছিলেন। এ সময় বাদী তার ছেলেকে বিবর্ণ, ভীতসন্ত্রস্ত ও কান্নারত অবস্থায় দেখেন। এরপর তিনি তার বাচ্চাকে নিয়ে বাসায় চলে আসেন। বাসায় আসার পর ছেলে বারবার কান্না করে বলে, ‘মা মিস আমাকে মেরেছে, আংকেল মারছে, আমি কিছু করি নাই, আমি তোমাদের বলে দিলে গলায় পাড়া দিবে এবং মুখ সেলাই করে দিবে। আমি স্কুলে যাবো না।’ এরপর বাদী তার স্বামী এবং বাবাকে নিয়ে স্কুলে যান। তিনি জানতে চান কী হয়েছিল তার সন্তানের সঙ্গে। তখন, স্কুল কর্তৃপক্ষ কিছু জানায়নি। তারপর বাদী ক্লাসরুম ও অফিস কক্ষের ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ চান। কিন্তু তারা সিসিটিভি ফুটেজ দেখাতে অস্বীকৃতি জানায়। তখন বাদী কয়েকজনের সহযোগিতায় অফিসকক্ষের ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করেন।
আরও বলা হয়, সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, প্রিন্সিপাল শারমিন জাহান বাচ্চাকে হাত ধরে অফিসকক্ষে প্রবেশ করেন এবং শারীরিকভাবে আঘাত করেন। তখন শিশুটি ছাড়া পাওয়ার জন্য চিৎকার দেয় ও তাদের নির্যাতন থেকে মুক্তি পাওয়ার চেষ্টা করতে থাকে। তখন প্রিন্সিপাল শারমিন জাহান শিশুটির মুখে ও গালে অনবরত আঘাত করতে থাকে। একপর্যায়ে প্রিন্সিপালের স্বামী পবিত্র কুমার বড়ুয়া টেবিলের ড্রয়ার থেকে স্ট্যাপলার মেশিন নিয়ে বাচ্চার মুখে ঢুকিয়ে দেয় ও সোফার সঙ্গে চেপে ধরে উপর্যুপরি আঘাত করতে থাকে।
এতে আরও বলা হয়, এ সময় শিশুটি চিৎকার করে কান্না করতে থাকে। প্রিন্সিপ্যাল এবং তার স্বামী মিলে দীর্ঘক্ষণ পাশবিকভাবে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করে। বাদী এ বিষয়ে জানতে চাইলে, স্কুল কর্তৃপক্ষ উল্টো মামলা দেওয়ার হুমকি দেয় এবং এলাকায় স্থানীয় সোসাইটিতে কল্পিত বানোয়াট গল্প তৈরি করে আমাকে ও আমার পরিবারকে সামাজিকভাবে হেনস্থা করার হুমকি দেয়। ওই দিন রাতে বাচ্চার মাথা ব্যথা, গাড় ব্যথা, কানে ব্যথা ও কানে কম শুনতে পাওয়ার কথা উল্লেখ করে প্রচণ্ড কান্নাকাটি করলে তাৎক্ষণিক ইসলামী ব্যাংক হাসপাতাল গিয়ে চিকিৎসা দেন।
এ ঘটনায় রাজধানীর পল্টন থানায় মামলা করেন শিশুটির মা। দুজনকে আসামি করে শিশু আইনের ৭০ ধারায় মামলাটি করা হয়েছে।