স্মরণে চিরসবুজ নায়ক জাফর ইকবাল
ঢাকাই চলচ্চিত্রের উজ্জ্বল নক্ষত্র জাফর ইকবাল। ৭০ ও ৮০’র দশকের এ অভিনেতা দর্শকদের কাছে ছিলেন দারুণ জনপ্রিয়। অভিনয়ের পাশাপাশি গান দিয়ে তিনি দর্শকদের হৃদয়ে আলাদা জায়গা করে নিয়েছিলেন।
মাত্র ৪১ বছর বয়সে ১৯৯২ সালের ৮ জানুয়ারি অকালপ্রয়াণ ঘটে এই চিরসবুজ নায়কের।
চলচ্চিত্রে জাফর ইকবালের অভিষেক হয় ১৯৬৯ সালে খান আতাউর রহমান পরিচালিত ‘আপন পর’ সিনেমার মাধ্যমে। এতে তার বিপরীতে নায়িকা ছিলেন কবরী। সত্তরের দশকের মাঝামাঝি সময়ে ‘সূর্য সংগ্রাম’ সিনেমায় ববিতার বিপরীতে প্রথম অভিনয় করেন তিনি। ১৯৭৫ সালে মুক্তি পাওয়া ‘মাস্তান’ সিনেমার মাধ্যমে জাফর ইকবাল ‘ড্যাশিং’ নায়কের তকমা পান। আর রোমান্টিক নায়ক হিসেবে পরিচিতি পান ‘নয়নের আলো’ সিনেমার মাধ্যমে।
জাফর ইকবাল-ববিতা ছিলেন ঢাকাই ইন্ডাস্ট্রির ঈর্ষণীয় জুটি। একসঙ্গে তারা ৩০টির মতো সিনেমা করেন। বাংলা চলচ্চিত্রের প্রথম স্টাইলিশ নায়ক জাফর ইকবাল। শহুরে রোমান্টিক ও রাগী তরুণের ভূমিকায় দারুণ মানালেও সব ধরনের চরিত্রে ছিল তার স্বাচ্ছদ্য বিচরণ।
ক্যারিয়ারে অল্প সময়ে জাফর ইকবাল অভিনয় করেছেন প্রায় দেড় শ চলচ্চিত্রে। তার অভিনীত উল্লেখযোগ্য সিনেমাগুলোর মধ্যে রয়েছে- ‘অবুঝ হৃদয়’, ‘ভাই বন্ধু’, ‘অবদান’, ‘প্রেমিক’, ‘সাধারণ মেয়ে’, ‘ফকির মজনু শাহ’, ‘দিনের পর দিন’, ‘বেদ্বীন’, ‘অংশীদার’, ‘মেঘ বিজলী বাদল’, ‘নয়নের আলো’, ‘সাত রাজার ধন’, ‘আশীর্বাদ’, ‘অপমান’, ‘এক মুঠো ভাত’, ‘গৃহলক্ষ্মী’, ‘ওগো বিদেশিনী’, ‘নবাব’, ‘প্রতিরোধ’, ‘ফুলের মালা’, ‘সিআইডি’, ‘মর্যাদা’, ‘সন্ধি’, ‘বন্ধু আমার’, ‘উসিলা’ ইত্যাদি।
বড় ভাই ও সংগীত পরিচালক আনোয়ার পারভেজের সুরে ‘বদনাম’ সিনেমায় ‘হয় যদি বদনাম হোক আরও’ গানটি গেয়ে প্লেব্যাকে তার অভিষেক হয়।
আলাউদ্দিন আলীর সুরে এবং মনিরুজ্জামান মনিরের কথায় জাফর ইকবালের গাওয়া ‘সুখে থেকো ও আমার নন্দিনী’ এখনো শ্রোতাদের মনে অম্লান।
প্রখ্যাত কণ্ঠশিল্পী শাহনাজ রহমতুল্লাহ তার বোন এবং সংগীত পরিচালক আনোয়ার পারভেজ তার বড় ভাই।