চট্টগ্রাম বন্দর এলাকায় মিছিল-সমাবেশ নিষিদ্ধ করল সিএমপি
চট্টগ্রাম বন্দর এলাকায় এক মাসের জন্য মিছিল, সভা-সমাবেশ, মানববন্ধন ও পথসভা নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। শনিবার (৩১ জানুয়ারি) রাতে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার হাসিব আজিজের সই করা এক গণবিজ্ঞপ্তিতে এ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়।
বন্দরের এনসিটি টার্মিনাল বিদেশি প্রতিষ্ঠানকে দেওয়ার সরকারি সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে গত কয়েকদিন ধরে বিক্ষোভ করে আসছিলেন শ্রমিক-কর্মচারীরা সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলগুলি। এতে বন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হয়। তারই পরিপেক্ষিতে এ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হলো।
গণবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সর্বসাধারণকে জানানো যাচ্ছে যে, চট্টগ্রাম বন্দর বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র এবং একটি ‘১ক’ শ্রেণির কেপিআইভুক্ত। দেশের মোট আমদানি ও রফতানির সিংহভাগ কার্যক্রম এই বন্দর দিয়ে সম্পন্ন হয়। দৈনন্দিন নিত্যপ্রয়োজনীয় ভোগ্যপণ্য, শিল্প কারখানার কাঁচামালসহ আমদানি ও রফতানিযোগ্য পণ্য পরিবহনে প্রতিদিন প্রায় ৫ থেকে ৬ হাজার ট্রাক, কাভার্ডভ্যান, ভেহিকেল ও প্রাইম মুভার বন্দরে চলাচল করে।
এই বিপুল সংখ্যাক যানবাহনের কারণে বন্দরের আশপাশে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু বন্দর এলাকায় যেকোনো ধরনের মিছিল, সভা-সমাবেশ, মানববন্ধন, পথসভার কারণে যানজট সৃষ্টি হয়। ফলে আমদানি-রফতানি কার্যক্রম ব্যাহত হয়। যা জাতীয় অর্থনীতির জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর এবং জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি সৃষ্টি করতে পারে।
কাজেই বন্দরের আমদানি-রফতানি কার্যক্রম নির্বিঘ্ন ও স্বাভাবিক রাখাসহ জনশৃঙ্খলা, শান্তি নিরাপত্তা রক্ষার স্বার্থে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ অধ্যাদেশ-১৯৭৮-এর ২৯ ও ৩০ ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে চট্টগ্রাম বন্দর সংলগ্ন বারেক বিল্ডিং মোড়, নিমতলা মোড়, ৩ নম্বর জেটি গেট, কাস্টমস মোড়, সল্টগোলা ক্রসিংসহ অন্যান্য এলাকায় অস্ত্রশস্ত্র, তলোয়ার, বর্শা, বন্দুক, ছোরা, লাঠি, বিস্ফোরক দ্রব্য, ইট-পাথর প্রভৃতি বহন ও ব্যবহার এবং যেকোনো ধরনের মিছিল, সভা-সমাবেশ, মানববন্ধন ও পথসভা রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) রাত ১২টা ১ মিনিট থেকে ২ মার্চ পর্যন্ত এক মাসের জন্য নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হলো।
তবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য পদপ্রার্থীরা নির্বাচনি প্রচার-প্রচারণা, মিছিল ও সমাবেশ এই নিষেধাজ্ঞার আওতার বাইরে থাকবে।
চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ইজারা দেওয়ার প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে আন্দোলন জোরদারের পর গত বছরের ১১ অক্টোবর থেকে ১১ ডিসেম্বর পর্যন্ত একইভাবে মিছিল-সমাবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল সিএমপি।
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ অধ্যাদেশ, ১৯৭৮ এর ৩০ ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে সিএমপি কমিশনার এ পর্যন্ত তিন দফায় এমন নিষেধাজ্ঞা জারি করলেন।
উল্লেখ্য এনসিটি ইজারা ইস্যুতে শ্রমিক দলের ডাকা আট ঘন্টার ধর্মঘটে চট্টগ্রাম বন্দরের অপারেশনাল কার্যক্রম শনিবার (৩১ জানুয়ারি) সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত কার্যত অচল ছিল।
একই ইস্যুতে চট্টগ্রাম বন্দর জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল ও চট্টগ্রাম বন্দর জাতীয়তাবাদী সাবেক সিবিএ রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত চট্টগ্রাম বন্দরে সব ধরনের প্রশাসনিক কার্যক্রম বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে।
এছাড়া শ্রমিক-কর্মচারি ঐক্য পরিষদ (স্কপ) রোববার বেলা ১১টায় চট্টগ্রাম বন্দর ভবন অভিমুখে কালো পতাকা মিছিলের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে।