Search

Search

সংঘর্ষে নিহত

শেরপুরে জামায়াত নেতার জানাজায় মানুষের ঢল

শ্রীবরদী উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা রেজাউল করিমের জানাজা | ছবি: স্টার নিউজ
শেরপুর-৩ আসনে নির্বাচনী ইশতেহার পাঠের মঞ্চে চেয়ারে বসাকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে নিহত শ্রীবরদী উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা রেজাউল করিমের (৪২) জানাযা সম্পন্ন হয়েছে। জানাজায় হাজার হাজার মানুষ অংশগ্রহণ করেন।

বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) দুপুরে তার মরদেহের ময়নাতদন্ত হয় ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। এরপর বিকেল ৪টা ৪০মিনিটে তার মরদেহ আনা হয় শ্রীবরদী সরকারি কলেজ মাঠে। সেখানে তার প্রথম জানাযা শেষে দ্বিতীয় জানাযার জন্য তার মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় গ্রামের বাড়ি গোপালখিলা উচ্চ বিদ্যালয় খেলার মাঠে। সেখানে রাত সাড়ে ৮টায় তার জানাযা অনুষ্ঠিত হয়। পরে পারিবারিক কবরস্থানে তার মরদেহ দাফন করা হয়েছে।

রেজাউল করিমের জানাজা উপলক্ষে শ্রীবরদী প্রশাসন কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করে। জানাযার স্থান ও আশপাশে চার প্লাটুন বিজিবি ও সেনাসদস্যরা টহল দেন।

নিহতের বাড়িতে দেখা যায়, মাতৃহীন রেজাউলের বয়োবৃদ্ধ বাবা মাওলানা আব্দুল আজিজ নির্বাক দৃষ্টিতে ছেলের কবরের দিকে তাকিয়ে ছিলেন, যেন চোখের জল শুকিয়ে গেছে। বাড়ির ভেতর থেকে নারীদের উচ্চস্বরে কান্নার আওয়াজ ভেসে আসছিল। আত্মীয় স্বজন ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা বাড়িতে এসে খোঁজ-খবর নিচ্ছিলেন।

রেজাউলের বাড়িতে সান্ত্বনা দিতে আসেন জেলা জামায়াতের আমির হাফিজুর রহমান। এসময় তিনি বলেন, এই হত্যার আমরা তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। যেহেতু এই হত্যাকাণ্ডের ভিডিও ফুটেজ আছে। তাই আমরা ভিডিও দেখে হত্যা মামলা দায়ের করব। প্রাথমিকভাবে থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে এবং পরবর্তীতে কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের পরামর্শ নিয়ে কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে।

নিহত রেজাউল করিমের শ্বশুর হাফেজ মো. আবুবকর বলেন, আমি হত্যাকারীদের দ্রুত ফাঁসি চাই। উনার স্ত্রী ও দুই সন্তানকে এখন দেখবে কে? রেজাউলের ছোট ভাইয়ের স্ত্রী বলেন, সুষ্ঠু বিচার চাই। জড়িতদের ২৪ ঘণ্টা মধ্যে গ্রেপ্তার চাই।

জানা গেছে, শেরপুরের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি যেন না ঘটে, সেজন্য অতিরিক্ত সেনাসদস্যদের রাস্তায় টহল জোরদার করতে দেখা গেছে।

এদিকে, মূল সংঘর্ষস্থল ঝিনাইগাতী ও তার আশপাশের অবস্থা বর্তমানে শান্ত রয়েছে। তবে, ঝিনাইগাতী বাজার এলাকা শুনশান নীরবতা নেমে এসেছে। ঝিনাইগাতী বাজারে বিজিবি সদস্যরা টহল জোরদার করেছে। এ ঘটনায় ঝিনাইগাতী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশরাফুল আলম রাসেল ও ঝিনাইগাতী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নাজমুল হাসানকে প্রত্যাহার করেছে নির্বাচন কমিশন।

জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান ভূঁইয়া বলেন, এ ঘটনায় এখনও কোনো মামলা রুজু করা হয়নি। তবে, পুলিশ তদন্ত অগ্রগতি করে রেখেছে এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

জেলা পুলিশ সুপার মো. কামরুল ইসলাম বলেন, আমাদের গোয়েন্দা সংস্থা এ বিষয়ে কাজ করছে। আমরা দ্রুত সময়ের মধ্যেই প্রকৃত আসামিকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হব।

সম্পর্কিত খবর :