Search

Search

জেলে বসেই প্রতীক নিলেন স্বতন্ত্র প্রার্থী আশরাফুল আলম শিমুল

গোপালগঞ্জ-১ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী আশরাফুল আলম শিমুল | সংগৃহীত
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কারাগারে থেকেও নির্বাচনী দৌড়ে থাকছেন গোপালগঞ্জ-১ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী আশরাফুল আলম শিমুল। একটি মামলায় কারাবন্দি থাকায় নিজে উপস্থিত থাকতে না পারলেও তার পক্ষে প্রতিনিধি এসে নির্বাচনী প্রতীক গ্রহণ করেছেন।

বুধবার (২১ জানুয়ারি) সকালে গোপালগঞ্জ জেলার তিনটি সংসদীয় আসনের প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয়। জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মো. আরিফ-উজ-জামানের কাছ থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী আশরাফুল আলম শিমুলের প্রতীক গ্রহণ করেন তার প্রস্তাবকারী। এ সময় উপস্থিত ছিলেন তার ভাই নাজমুল আলম।

পুলিশ জানায়, গত বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) তাকে ঢাকার শাহবাগ এলাকা থেকে গ্রেপ্তার হন আশরাফুল আলম শিমুল। পরে জুলাই আন্দোলনের সময় সংঘটিত যাত্রাবাড়ীর রিয়াজ মোর্শেদ অপু হত্যা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা যাত্রাবাড়ী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) হুমায়ুন কবীর জানান, জুলাই আন্দোলনের শেষ দিন ৫ আগস্ট ঢাকার যাত্রাবাড়ীতে মেয়র মোহাম্মদ হানিফ ফ্লাইওভারের কাছে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান রিয়াজ মোর্শেদ অপু। এ ঘটনায় নিহতের খালা রুমা বেগম গত বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ মোট ২৮৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। পরে তদন্ত শেষে গত ২২ অক্টোবর তদন্ত কর্মকর্তা ওই মামলায় ১৬ জনকে অব্যাহতির সুপারিশ করেন।

রাজনৈতিক ও জনপ্রতিনিধিত্বের ক্ষেত্রে আশরাফুল আলম শিমুলের রয়েছে দীর্ঘ অভিজ্ঞতা। তার বাবা খায়রুল বাকী মিয়া ১৯৮৫ সালে মুকসুদপুর উপজেলা চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বাবার সুনাম ও নিজস্ব রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতাকে কাজে লাগিয়ে আশরাফুল আলম শিমুল ২০০৯ সালে উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে ২০১৪ সালে উপজেলা চেয়ারম্যান এবং সর্বশেষ মুকসুদপুর পৌরসভার মেয়র নির্বাচিত হন তিনি।

এ পর্যন্ত তিনি যতগুলো নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন, কোনোটিতেই পরাজিত হননি। তিনি কখনোই কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত ছিলেন না; বরাবরই স্বতন্ত্র পরিচয়েই নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন।

এ বিষয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী আশরাফুল আলম শিমুলের ভাই নাজমুল আলম বলেন, 'একজন প্রার্থীর জন্য সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি হচ্ছে জনগণের ভালোবাসা ও ভোট। আমরা বিশ্বাস করি, জনগণের সমর্থন ও ভোটে কোনো ঘাটতি হবে না। নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় বাধাগ্রস্ত হওয়া স্বাভাবিক একটি বিষয়। আচরণবিধি ও নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা যা দেখছি, তাতে মনে হচ্ছে এই আসনে নিরপেক্ষভাবে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করা হবে—আমরা সেটাই প্রত্যাশা করছি।'

সম্পর্কিত খবর :