কুমির দেখতে পদ্মাপাড়ে উৎসুক জনতার ভিড়
গত দুই থেকে তিন দিন ধরে রাজবাড়ীর পদ্মা নদীতে দেখা মিলছে কুমিরের। এতে নদীপাড়ের বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়ালেও কুমির দেখতে নদীতীরে ভিড় করছেন উৎসুক জনতা। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, কখনও সকাল, কখনও দুপুরে কুমির ভেসে উঠছে নদীতে।
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) বিকেলে সরেজমিনে দেখা যায়, সদর উপজেলার বরাট ইউনিয়নে ২৮ নম্বর উড়াকান্দা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে নদীপাড়ে ভিড় করে আছেন উৎসুক জনতা। অধীর আগ্রহে তারা তাকিয়ে আছেন নদীর দিকে। যদি দেখা মেলে কুমিরের।
শফিক নামের স্থানীয় একজন স্টার নিউজকে বলেন, ‘আমি নিজেও শুনেছি গত দুই থেকে তিন দিন এখানে কুমির ভেসে উঠেছে। আজও দুইবার দেখা গেছে সকালে। এটা শুনে দেখতে এসেছি। তবে দেখতে পাইনি এখনো।’
পাশেই দাঁড়িয়ে ছিলেন আবুল খা। তিনি বলেন, ‘এখানে সকাল-বিকেল মানুষ গোসল করে। কুমির দেখার পর থেকে নদীতে নামতে ভয় পাচ্ছে সবাই। প্রশাসন এসে কুমির ধরে নিয়ে যাক।’
মাসুদ মোল্লা বলেন, ‘কুমির ধরার ব্যবস্থা করা লাগবে। তা-না হলে মানুষের সমস্যা হচ্ছে। নদীতে গোসল করি, গরু-ছাগলকে গোসল করাই। কুমিরের কারণে আজ দুই দিন কেউ নদীতে নামছে না ভয়ে।’
রবিউল রবি নামে এক যুবক তার ফেসবুকে লিখেছেন, ‘রাজবাড়ী উড়াকান্দা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে পদ্মা নদীতে আজ এই কুমিরটি দেখা গেছে। সকাল থেকে বেশ কয়েকবার কুমিরটি নদীতে ভেসে উঠেছে। যে স্থানে কুমিরটি দেখা গেছে সেখানে প্রতিদিন শত শত মানুষ গোসল করে। এ নিয়ে এলাকায় কৌতূহল তৈরি হয়েছে। সবার সাবধানতা অবলম্বন করা উচিৎ।’
রাজবাড়ী বন বিভাগের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মীর সায়েদুর রহমান স্টার নিউজকে বলেন, ‘আমিও বিষয়টি জানতে পেরেছি মাগরিবের নামাজের পর। যেহেতু সন্ধ্যা হয়ে গেছে, সে কারণে আমরা নদীতে যাইনি। আগামীকাল সকালে ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই এলাকায় লাল নিশানা দিয়ে আসবো। পাশাপাশি চেয়ারম্যান-মেম্বারদের জানাবো। এছাড়াও মাইকিং করবো এলাকাবাসীকে সচেতন করতে।’
মীর সায়েদুর রহমান আরও বলেন, ‘যেহেতু মূল নদীতে ভেসে উঠেছে সে ক্ষেত্রে কুমির ধরা সম্ভব না। যদি শাখা নদীতে ভেসে উঠতো আমরা চেষ্টা করতাম। আপাতত এলাকাবাসীকে সচেতন করা ছাড়া কিছু করার নাই।’