কেন্দুয়ায় সরকারি জমি দখল নিয়ে দুই দিন ধরে দফায় দফায় সংঘর্ষ
নেত্রকোণার কেন্দুয়া উপজেলায় সরকারি জমি দখলকে কেন্দ্র করে টানা দুই দিন ধরে একই গ্রামের দুই পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এসব সংঘর্ষে অন্তত ২৬ জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ১২ জনের অবস্থা গুরুতর। তাদের ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
সর্বশেষ আজ বুধবার (৭ জানুয়ারি) সকালে আবারও নতুন করে সংঘর্ষে বেশ কয়েকজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
গতকাল মঙ্গলবার সকাল ১১টা থেকে দুপুর পর্যন্ত কেন্দুয়া উপজেলার চিরাং ইউনিয়নের বাট্টা কাচারি মোড় এলাকায় প্রথম দফার সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্র জানায়, বাট্টা গ্রামের একটি সরকারি জমির মালিকানা ও দখল নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই গ্রামের দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল। মঙ্গলবার সকালে একপক্ষ ওই জমি দখলে নেওয়ার চেষ্টা করলে অপর পক্ষ বাধা দেয়। শুরুতে কথাকাটাকাটি হলেও এক পর্যায়ে উভয়পক্ষ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।
এক পর্যায়ে সংঘর্ষ দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে পুরো বাট্টা কাচারি মোড় এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। এতে উভয়পক্ষের অন্তত ২৬ জন আহত হন। আহতদের প্রথমে কেন্দুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। পরে ১২ জনের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
খবর পেয়ে কেন্দুয়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে সংঘর্ষের জেরে এলাকায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। নিরাপত্তাজনিত কারণে বাট্টা কাচারি মোড়ের বেশ কয়েকটি দোকানপাট সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়, স্থবির হয়ে পড়ে স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্য।
এদিকে, এর রেশ কাটতে না কাটতেই বুধবার সকালের দিকে বাট্টা গ্রামে আবারও উভয়পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে বেশ কয়েকজন আহত হন। আহতদের উদ্ধার করে কেন্দুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার জন্য আনা হচ্ছে বলে জানিয়েছে স্থানীয়রা।
এ বিষয়ে কেন্দুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী মাকসুদ স্টার নিউজকে জানান, বর্তমানে পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং পুনরায় কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
টানা দুই দিনের সংঘর্ষে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক আরও বেড়েছে। সরকারি জমি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ নিরসনে দ্রুত প্রশাসনিক উদ্যোগ ও আইনি সমাধানের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।