খালিয়াজুরীতে বিএনপি নেতাদের বিরুদ্ধে কোটি টাকা চাঁদাবাজি ও জলমহাল দখলের অভিযোগ
নেত্রকোণার খালিয়াজুরী উপজেলায় বিএনপির সভাপতিসহ পাঁচ নেতার বিরুদ্ধে বাজার ও জলমহাল দখল করে কোটি টাকা চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দলীয় প্রভাব খাটিয়ে অবৈধভাবে মাছের ফিসারি, জলমহাল, বাজার ইজারা ও বিভিন্ন প্রশাসনিক কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
গত ৭ জানুয়ারি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বরাবর লিখিত অভিযোগ দেন খালিয়াজুরী উপজেলার বল্লী গ্রামের মো. আক্তারুজ্জামান চৌধুরী এবং মোহনগঞ্জ উপজেলার কলুংকা গ্রামের জাহাঙ্গীর আলম খান। অভিযোগকারীরা নিজেদের বিএনপির সক্রিয় কর্মী বলে দাবি করেছেন।
লিখিত অভিযোগে বলা হয়, খালিয়াজুড়ী উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. আব্দুর রউফ স্বাধীন, সহসভাপতি ইদ্রিছ আলী মোল্লা, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তরিকুজ্জামান তরু, সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা জিয়া উদ্দিন এবং চাকুয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আলকাছ মিয়া-এই পাঁচ নেতা মিলে একটি প্রভাবশালী গ্রুপ পরিচালনা করছেন। স্থানীয়ভাবে গ্রুপটি ‘ফাইভ স্টার গ্রুপ’ বা ‘সুপার ফাইভ বাহিনী’ নামে পরিচিত।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, ওই গ্রুপটি দলীয় পরিচয় ও প্রভাব ব্যবহার করে জলমহাল, ফিসারি, বাজার ইজারা, পিআইসি টেন্ডারসহ বিভিন্ন প্রশাসনিক দপ্তরকেন্দ্রিক কর্মকাণ্ডে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে। বিশেষ করে উপজেলার লেপসিয়া বাজারের নিরীহ ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে প্রায় এক কোটি টাকা চাঁদা আদায় করা হয়েছে। একইসঙ্গে উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তর ঘিরেও চাঁদাবাজির অভিযোগ তোলা হয়েছে।
ভুক্তভোগীদের ভাষ্যমতে, রানীচাপুর গ্রুপ ফিসারি, মরানদী (মরাগাঙ), চুনাই গ্রুপ ফিসারি, ধনুনদী (গাগলাজুর থেকে ধনপুর অংশ), রৌয়াদিঘা ফিসারি এবং নাজিরপুর–মুরাদপুর গ্রুপ ফিসারিসহ একাধিক জলমহাল বর্তমানে ওই গ্রুপের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
সোমবার(১২ জানুয়ারি) এই বিষয়ে অভিযোগকারী মো: জাহাঙ্গীর আলম স্টারনিউজকে জানান রানীচাপুর গ্রুপ ফিসারিতে বাঁশ ও কাঠা দিয়ে মাছের আশ্রয়স্থল তৈরি, নৌকা ক্রয় এবং পাহারাদার খরচসহ প্রায় ২৫ লাখ টাকা বিনিয়োগ করা হয়। মাছ আহরণের প্রস্তুতির সময় অভিযুক্ত গ্রুপের লোকজন হামলা ও ভয়ভীতি দেখিয়ে তাদের ফিসারি থেকে উচ্ছেদ করে। প্রশাসনসহ বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ করেও কোনো প্রতিকার না পাওয়ায় বাধ্য হয়ে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের কাছে অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে খালিয়াজুরী উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. আব্দুর রউফ স্বাধীন বলেন, অভিযোগের বিষয়টি তিনি শুনেছেন। তিনি দাবি করেন, অভিযোগটির সুষ্ঠু তদন্ত করা হোক। তদন্তে তিনি দোষী প্রমাণিত হলে স্বেচ্ছায় দলের পদ থেকে সরে দাঁড়াবেন। আর অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণিত হলে অভিযোগকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
এ বিষয়ে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম হিলালী স্টার নিউজকে বলেন, 'অভিযোগের বিষয়টি আমার জানা নেই এবং কেন্দ্র থেকেও এখনও কোনো নির্দেশনা পাওয়া যায়নি। যেহেতু দলের চেয়ারম্যান মহোদয় বরাবর অভিযোগ করা হয়েছে, অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আশা করি উনি সেই অনুযায়ী ব্যাবস্থা গ্রহন করবেন।'