২০২৫ সালে কত বাড়লো ধনকুবেরদের সম্পদ?
বিদায়ী বছরে বিশ্বের ৫০০ ধনকুবেরের সম্পদ ২ লাখ কোটি ডলারের ওপরে বেড়েছে। ব্লুমবার্গ বিলিওনিয়ার ইনডেক্স বলছে, এরমধ্যে প্রায় অর্ধেক সম্পদ গেছে মাত্র ৮ জন বিলিওনিয়ারের ঝুলিতে। ফলে তাদের মোট সম্পদ বেড়ে গেছে ১১ লাখ কোটি ডলারের ওপরে। এরমধ্যে বিশ্বের প্রথম ট্রিলিওনারের দৌড়ে অনেকটাই এগিয়ে গেছেন ইলন মাস্ক। বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান অক্সফাম বলছে, বিশ্বকে দারিদ্র্যমুক্ত করতে এই অর্থই যথেষ্ট।
ভূরাজনীতির টানাপড়েন, যুদ্ধ – সংঘাত, মূল্যস্ফীতি এমনকি প্রাকৃতিক দুর্যোগ, সবকিছুতেই যেন ধরাছোঁয়ার বাইরে পৃথিবীর ধনকুবেররা। তাদের বাস যেন পৃথিবীর বাইরের এক জগতে। তাইতো, সারাবিশ্বে ৮০ কোটির বেশি মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে বাস করলেও বিদায়ী বছরে বিলিওনিয়ারদের মোট সম্পদ বেড়েছে ২ লাখ কোটি ডলারের ওপরে।
ফোর্বসের বিলিওনিয়ার ইনডেক্স অনুযায়ী, গেল বছর বিশ্বের ৫০০ জন ধনকুবেরের সম্পদের ঝুলিতে যুক্ত হয়েছে রেকর্ড ২.২ ট্রিলিয়ন ডলার। এরমধ্যে প্রায় অর্ধেক সম্পদই ৮ জন ধনকুবেরের হাতে গেছে। সব মিলিয়ে তাদের অর্থের পরিমাণ বেড়েছে প্রায় ১২ ট্রিলিয়ন ডলার। দৌড়ে এগিয়ে আছেন ইলন মাস্ক, জেফ বেজস, ল্যারি ইলিসন ও ল্যারি পেজ।
২০২৫ সাল যেন ধনকুবেরদের জন্য ছিলো আশীর্বাদের বছর। এই বছরই ওরাকলের চেয়ারম্যান ল্যারি ইলিসন, অ্যালফাবেট সহ-প্রতিষ্ঠাতা ল্যারি পেজ, টেসলার প্রতিষ্ঠাতা ইলন মাস্কের সম্পদ উল্লেখযোগ্যহারে বেড়েছে। এরমধ্যে ৩১ শে ডিসেম্বর পর্যন্ত ইলন মাস্কের মোট সম্প হয়েছে ৭২৬ বিলিয়ন ডলার। তার পরের অবস্থানে থাকলেও এখনও তার আশপাশে নেই অ্যামাজনের প্রতিষ্ঠাতা জেফ বেজস, কিংবা ফেসবুক প্রতিষ্ঠাতা মার্ক জাকারবার্গ।
ইলন মাস্কের মোট সম্পদ ৭২৬ বিলিয়ন ডলার, যা বিশ্বের ২৩ তম অর্থনীতির দেশ বেলজিয়ামের জিডিপির চেয়েও বেশি। এছাড়া আয়ারল্যান্ড, আর্জেন্টিনা, সুইডেনের জিডিপির চেয়েও এগিয়ে মাস্ক। অথচ ২০২৪ সালের নভেম্বরেও ইলন মাস্কের মোট সম্পদ ছিল ৪০০ বিলিয়ন ডলার। বৈশ্বিক অসমতা ও দারিদ্র্য দূরীকরণ সংস্থা অক্সফাম বলছে, ২০২৫ সালে ৫০০ বিলিওনিয়ারের বর্ধিত এই ২.২ ট্রিলিয়ন ডলার, বিশ্বের ৩৮০ কোটি মানুষকে দারিদ্র্য থেকে মুক্তি দেয়ার জন্য যথেষ্ট।