Search

Search

এক্সক্লুসিভ ও ব্রেকিং খবর পেতে আপনার মোবাইল নম্বরটি দিন

স্টার পরিবারে আপনাকে স্বাগতম। নিশ্চিন্ত থাকুন, আমরা স্প্যাম করি না।

যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক রপ্তানিতে বাংলাদেশের ১৫.১৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধি

কারখানায় কাজ করছেন গার্মেন্টস কর্মীরা | প্রতীকী ছবি

ট্রাম্পের উচ্চ শুল্ক আরোপ করার পরও যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি কমেনি। বরং ২০২৫ সালের জানুয়ারি-অক্টোবর এই ১০ মাসে রপ্তানি হয়েছে ৭.০৮ বিলিয়ন ডলার যা ২০২৪ সালের একই সময়ের তুলনায় ১৫.১৪ শতাংশ বেশি।

মার্কিন আন্তর্জাতিক বাণিজ্য দপ্তর (ওটেক্সা) সম্প্রতি দেশটির আমদানি তথ্য প্রকাশ করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের আমদানি, বাংলাদেশের রপ্তানি হিসেবে বিবেচিত।

ওটেক্সার তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে অক্টোবর পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের মোট পোশাক আমদানি ছিল ৬৬ দশমিক ৬৩ বিলিয়ন ডলার। ২০২৪ সালের একই সময়ের তুলনায় যা শূন্য দশমিক ৬১ শতাংশ কম। অন্যদিকে আমদানির পরিমাণ (ভলিউম) ২ দশমিক ২৪ শতাংশ কমলেও পোশাকের গড় ইউনিট মূল্য এক দশমিক ৬৭ শতাংশ বেড়েছে। এটি ইঙ্গিত দেয়, মার্কিন ক্রেতারা এখন পণ্যের গুণমান ও মূল্যের সমন্বয়ে আগের চেয়ে অনেক বেশি সতর্ক।

যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলোর মধ্যে ভিয়েতনামের রপ্তানি বেড়েছে ১১ দশমিক ৫০ শতাংশ। অন্যান্য দেশের মধ্যে ভারতের ৮ দশমিক ৫৭ শতাংশ, পাকিস্তানের ১২ দশমিক ২৯ শতাংশ, ইন্দোনেশিয়ার ১০ দশমিক ০৬ শতাংশ এবং কম্বোডিয়ার ২৫ দশমিক ৫০ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে। তবে সবচেয়ে বড় ধস নেমেছে চীনের রপ্তানিতে। গত বছরে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে দেশটির পোশাক রপ্তানি কমেছে ৩২ দশমিক ৩৮ শতাংশ।

রপ্তানি করা পোশাকের সংখ্যার (ভলিউম) দিক থেকেও বাংলাদেশ ১৫ দশমিক ৮৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নিয়ে অধিকাংশ প্রতিদ্বন্দ্বী দেশের তুলনায় এগিয়ে রয়েছে। তবে এ ক্ষেত্রে কম্বোডিয়া ৩৫.৩৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নিয়ে সবাইকে ছাড়িয়ে গেছে।

রপ্তানি বাড়লেও পণ্যের মূল্যের ক্ষেত্রে চাপের মুখে রয়েছেন বাংলাদেশের রপ্তানিকারকরা। পরিসংখ্যান বলছে, যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের পোশাকের গড় ইউনিট মূল্য শূন্য দশমিক ৬৩ শতাংশ কমেছে। এর অর্থ, বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে বাংলাদেশি উদ্যোক্তাদের তুলনামূলক কম দামে পণ্য সরবরাহ করতে হচ্ছে। একমাত্র ভারত বাদে (এক দশমিক ৫৭ শতাংশ বৃদ্ধি) প্রায় সব প্রতিযোগী দেশেরই ইউনিট মূল্য হ্রাস পেয়েছে।

এই প্রবৃদ্ধি এসেছে এমন এক সময়ে, যখন যুক্তরাষ্ট্রের সামগ্রিক পোশাক বাজার প্রায় স্থবির ছিল। মার্কিন বাণিজ্য দপ্তরের অধীন সংস্থা অফিস অব টেক্সটাইলস অ্যান্ড অ্যাপারেলের (ওটেক্সা) তথ্য অনুযায়ী, জানুয়ারি-অক্টোবর সময়ে বিশ্ব থেকে যুক্তরাষ্ট্রের মোট পোশাক আমদানি বছরওয়ারি ভিত্তিতে শূন্য দশমিক ৬১ শতাংশ কমে ৬৬ দশমিক ৬৩ বিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছে।

তবে বাংলাদেশের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বেশ কয়েকটি প্রধান পোশাক রপ্তানিকারক দেশ ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি দেখিয়েছে।

ওটেক্সার তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের পোশাকের একক দাম (ইউনিট প্রাইস) সামান্য কমেছে। তীব্র প্রতিযোগিতা এবং মার্কিন খুচরা বিক্রেতাদের সতর্ক ক্রয়নীতির প্রতিফলন হিসেবেই এটিকে দেখা হচ্ছে।

শিল্প পর্যবেক্ষকরা সতর্ক করে বলেছেন, প্রবৃদ্ধির এই ধারা ধরে রাখতে হলে কেবল কম দামের ওপর নির্ভর করলে চলবে না। সামনের দিনগুলোতে মার্কিন বাজারে টিকে থাকতে হলে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, পণ্যের বৈচিত্র্যকরণ এবং ক্রেতাদের পরিবর্তিত চাহিদার সঙ্গে দ্রুত খাপ খাইয়ে নেওয়ার কোনো বিকল্প নেই।

সম্পর্কিত খবর :