বিএনপির সমাবেশে ট্রেনের সুবিধা দিলো চবি প্রশাসন, শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি
চট্টগ্রামে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সমাবেশে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) শিক্ষার্থীদের নির্ধারিত শাটল ট্রেনের বিশেষ সুবিধা দিয়েছে চবি প্রশাসন। এতে শাটলের সিডিউল বিড়ম্বনায় ভোগান্তিতে পড়ার অভিযোগ করেছেন শিক্ষার্থীরা।
রোববার (২৫ জানুয়ারি) সকাল ৮টা ৪০ মিনিটের দিকে ষোলশহরগামী শাটল ট্রেনে সমাবেশে যোগ দিতে উঠেন শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের জাতীয়তাবাদী শিক্ষক-কর্মকর্তারা। তবে শাটলটি চবি স্টেশন থেকে ১৫ মিনিট দেরি করে ৮টা ৫৫ মিনিটে ছাড়া হয়।
রোববারের সিডিউল অনুযায়ী, শাটলের সর্বশেষ গন্তব্য ছিল ষোলশহর। তবে জাতীয়তাবাদী পরিবারের পূর্ব আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে শাটলটি ষোলশহর থেকে চট্টগ্রাম বটতলী স্টেশনে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে ষোলশহর থেকে ক্যাম্পাসগামী পরবর্তী সাড়ে ৯টার ট্রেনটি ষোলশহরে আসে ঘণ্টাখানেক পর। এতে সাড়ে ৯টার ট্রেনসহ পরবর্তী অন্যান্য শিডিউল বিড়ম্বনায় ভোগান্তিতে পড়ার অভিযোগ করেন শিক্ষার্থীরা।
হঠাৎ শাটলের সিডিউল পরিবর্তনে অনেক শিক্ষার্থী নির্ধারিত সময়ে ক্লাস ও অন্যান্য অ্যাকাডেমিক কার্যক্রমে অংশ নিতে পারেননি বলেও অভিযোগ করেছেন। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলছে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা।
এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে ঘটনাস্থলে ফেসবুক ভিডিও পোস্টে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ সাকিব বলেন, ‘সকাল সাড়ে ৯টায় শাটল ট্রেন ষোলশহর থেকে ক্যাম্পাসে যাওয়ার কথা ছিল। আমরা সকল শিক্ষার্থী শাটল ট্রেনের জন্য অপেক্ষা করছি। আমাদের অনেকের ক্লাস বা অন্যান্য কাজ আছে বিশ্ববিদ্যালয়ে। কিন্তু একটি নির্দিষ্ট দলের প্রোগ্রামের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের শাটল ট্রেন বটতলী নিয়ে যাওয়া হয়েছে। অথচ আমরা এখানে শাটলের জন্য অপেক্ষা করে ভোগান্তির শিকার হচ্ছি।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মাহির মুনতাসির ফেসবুক পোস্টে বলেন, ‘আজ শহরমুখী ৮টা ৪০ মিনিটের ট্রেন ছেড়েছে ৮টা ৫৫মিনিটে। আর সেটা করা হয়েছে চবি ছাত্রদল ও চাকসুর এজিএস তৌফিকের নির্দেশে। এখানেই শেষ নয়, ষোলশহর থেকে ব্যাক না করে সোজা বটতলীতে শাটল নিয়ে গেলো সমাবেশে যাওয়ার জন্য।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেক শিক্ষার্থী মাহমুদুল হাসান ফেসবুকে লেখেন, ‘আজকে শাটল নিয়ে গেলো জোর করে সমাবেশে যাওয়ার জন্য। শিক্ষার্থীদের সময় যে নষ্ট হলো সেদিকে নজর নাই। সামনে সুযোগ পেলে সমাবেশে যাওয়ার সময় শাটল না নিয়ে, শিক্ষার্থীদের হল থেকে আর বাসা থেকে সমাবেশে নিয়ে যাবে না এমন কোনো নিশ্চয়তা তো নাই।’
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. হোসেন শহীদ সরওয়ার্দী স্টার নিউজকে বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের জাতীয়তাবাদী পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে প্রক্টর অফিস থেকে চট্টগ্রাম রেলওয়ে কর্তৃপক্ষকে একটি চিঠি পাঠানো হয়। সে অনুযায়ী, আজ ৮টা ৪০ মিনিটের শাটলটি সর্বশেষ গন্তব্য ষোলশহর থেকে বটতলী-নিউমার্কেট গেছে। তাদের পৌঁছে দিয়ে শাটল যথারীতি সিডিউলে চলছে। তবে সাড়ে ৯টার শাটলে সিডিউল বিড়ম্বনায় পড়ার কথা জানিয়েছে অনেক শিক্ষার্থী। এজন্য আমি আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছি।’
তিনি বলেন, ‘সিডিউলের বিষয়টা গতকালই আমার প্রকাশ করা উচিত ছিল। তাহলে শিক্ষার্থীরা এমন চরম ভোগান্তিতে পড়তো না। সামনে থেকে এমন আর হবে না।’
অভিযোগের বিষয়ে শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ও চাকসুর এজিএস আইয়ুবুর রহমান তৌফিক স্টার নিউজকে বলেন, ‘আমার নেতৃত্বে শাটল ছাড়তে ১৫ মিনিট দেরি হয়েছে বলে যে অভিযোগ উঠেছে তা পুরোপুরি মিথ্যা। আমি সাধারণ যাত্রী হিসেবে ট্রেনে ছিলাম। জাতীয়তাবাদী পরিবার ট্রেনের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে যে আবেদন করেছে, সে বিষয়ে আমি কিছুই জানতাম না; যেটা এখন জেনেছি। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে শাটল ব্যবহার একেবারেই অনুচিত হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘জাতীয়বাদী পরিবার আবেদন করলেই প্রশাসন কেন অনুমতি দিবে? এখানে প্রশাসনেরও দায়ভার আছে। শিক্ষার্থীদের ক্লাস-পরীক্ষার ব্যাঘাত ঘটিয়ে শাটল ব্যবহারের তীব্র বিরোধিতা করছি।’
এদিকে শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল নোমান ফেসবুক পোস্টে লেখেন, ‘আজ শাটল বটতলী পর্যন্ত নিয়ে যাওয়ার সাথে চবি ছাত্রদলের কেউ কোনোভাবেই অবগত ও সম্পৃক্ত ছিল না। দায়িত্ব নিয়ে বলছি কারও কাছে কোনো আবেদন ও তদবিরও করেনি। আশা করি, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ছাত্র-ছাত্রীদের সামনে বিষয়টি ক্লিয়ার করবেন। চবি ছাত্রদল শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি হয় এই রকম কোন কর্মকাণ্ড অতীতে করেনি ও ভবিষ্যৎ করবে না।’