গাজী টায়ার কারখানা ট্র্যাজেডি
দুই নেতার লুটের বলি ১৮২ প্রাণ
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের রূপসী এলাকায় অবস্থিত গাজী টায়ার কারখানা। ২৬ একর ৭২ শতাংশ জমির ওপর এটি প্রতিষ্ঠা করেন গাজী গ্রুপের চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য গোলাম দস্তগীর গাজী। ২০২৪ সালের ২৫ আগস্ট রাতে কারখানাটিতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। এ সময় নিখোঁজ হন ১৮২ জন মানুষ। যাদের খোঁজ আজও মেলেনি।
গোলাম দস্তগীর গাজী বর্তমানে হত্যা মামলায় কারাগারে আছেন। অগ্নিকাণ্ডের পর থেকে ভবনটি পড়ে আছে পরিত্যক্ত অবস্থায়। স্থানীয়রা বিশ্বাস করেন, এই পোড়া ইট কাঠামোর ভেতরেই চাপা পড়ে আছে সেই মানুষগুলোর শেষ অস্তিত্বটুকু।
ভবনের বাইরে থেকে যা দেখা যায়, তা কেবল ধ্বংস। ভেতরে ঠিক কতটা বীভৎসতা অপেক্ষা করছে বা মানুষগুলোর শেষ পরিণতিই বা কী হয়েছিল, সেটাই জানার চেষ্টা করে স্টার নিউজের অনুসন্ধানী দল। তবে তার আগে জেনে নেওয়া যাক ঘটনার পূর্বাপর।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর সারা দেশে একযোগে ছড়িয়ে পড়ে ভয়াবহ সহিংসতা ও অস্থিরতা। রাজনৈতিক উত্তেজনার জেরে দেশের বিভিন্ন জেলা ও মহানগরে সংঘর্ষ, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ এবং প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। আগুন দেওয়া হয় আওয়ামী লীগের মন্ত্রী-এমপির ঘরবাড়িসহ বিভিন্ন স্থাপনায়।
সেই একই ক্ষোভে জ্বলে গাজী গোলাম দস্তগীরের কারখানা। দীর্ঘদিন এই কারখানায় কাজ করেন মো. সেলিম। আগুন, লুটপাট বা মানুষ নিখোঁজ-সবই ঘটেছে চোখের সামনে। জানলে চাইলে তিনি স্টার নিউজকে বলেন, ‘বহু মানুষ মারা গেছেন। কিছু মানুষের তালিকা দিয়েছে, কিছু মানুষের দেয়নি। ৫ তারিখ বিকেল ৪টার পরেই তো ডিক্লার হলো সরকার পড়ে গেছে। তখনই মানুষ এদিক-সেদিক দিয়ে ঢোকা শুরু করে। যে যেদিক দিয়ে পেড়েছে ঢুকে মালামাল নিয়ে গেছে।’
ঘটনার শুরু ৫ আগস্ট বিকেলে। সরকার পতনের খবরে নারায়ণগঞ্জের গাজী টায়ার্স কারখানা ঘেরাও করেন স্থানীয় কয়েক’শ বাসিন্দা। মালামাল লুটের পর আগুন দেওয়া হয় কারখানার বিভিন্ন স্থাপনায়। একদিকে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক আর অন্যদিকে খাদুন গ্রাম। কারখানায় কাজ করতেন ২,৩০০ জন শ্রমিক। সেদিনের আগুনে পোড়ে ৫০০টি শেড, ভাগ্যক্রমে বেঁচে যায় ছয়তলা বিশিষ্ট একটি মিক্সিং ভবন।
রূপগঞ্জ থানায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের এক শিক্ষার্থী হত্যা মামলায় ঢাকা থেকে গ্রেপ্তার হন সাবেক মন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী। এই খবরে আবারও উত্তাল হয় রূপগঞ্জ। গোলাম দস্তগীরের বিচার দাবিতে সোচ্চার ছিল একটি পক্ষ। দ্বিতীয় দফায় কারখানাটি ঘেরাও করে বিক্ষুব্ধ জনতা। এবার মালামাল লুটের পর আগুন দেওয়া হয় বেঁচে যাওয়া সেই ছয়তলা মিক্সিং ভবনে। মুহূর্তেই আগুনের লেলিহান শিখা ছড়িয়ে পড়ে পুরো ভবনে।
প্রায় ৩২ ঘণ্টা পর নিয়ন্ত্রণে আসে আগুন। সেইসঙ্গে স্বজনদের কান্নায় ভারী চারপাশ। একে একে বাড়তে থাকে স্বজনহারাদের ভিড়। এ ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করে সরকার। প্রতিবেদনে উঠে আসে ভবনটিতে ১৮২ জন নিখোঁজের তথ্য। সেই থেকে স্বজনদের কাছে পরিত্যক্ত এই ভবনটি ইটপাথরের জীবন্ত এক কবর।
তবে কারখানার ফটকে যেতেই নিরাপত্তাকর্মীর বিপত্তির মুখে পড়তে হলো স্টার নিউজকে। চার দফা চেষ্টা করেও মেলেনি ভেতরে ঢোকার অনুমতি। এই লুকোচুরিই সন্দেহকে আরও উসকে দেয়। তবে কি ভেতরে কোনো বীভৎস সত্য আড়াল করতে চাইছে কারখানা কর্তৃপক্ষ? বাধার দেয়াল যত চওড়া হলো, কৌতূহল বাড়ল ততখানি। আর তাই প্রথাগত পথ ছেড়ে স্টার নিউজের মাঠ পর্যায়ের অনুসন্ধানী দলকে অবলম্বন করতে হয় ভিন্ন এক কৌশল।
এক পর্যায়ে কারখানার ভেতরে প্রবেশের পর দেখা গেলো অন্য এক জগত। চারদিকে শুধু হাহাকার। স্টার নিউজ যতোই ভবনের ভেতরে প্রবেশ করে, রহস্যের জাল যেন ততোই জটিল হয়। এর মধ্যেই হঠাৎ ছাইয়ের স্তূপে চোখ পরে। সেখানে পড়ে আছে একটি হাড়! কোনো এক অভাগা প্রাণের শেষ অস্তিত্ব।
শুধু এখানে নয়, পুরো ভবনজুড়ে ছড়িয়ে আছে মানুষের উপস্থিতির এমন আরও নিদারুণ চিহ্ন। কিন্তু এই হাড়গুলো কি আসলেই মানুষের? নাকি ১৮২টি প্রাণের নিখোঁজ হওয়ার এই রহস্য কেবলই ধোঁয়াশা?
সত্যের মুখোমুখি হতে স্টার নিউজ সরাসরি দ্বারস্থ হয় ঢাকা মেডিকেল কলেজের অর্থপেডিক বিভাগের প্রধান সৈয়দ জাকির হোসেনের। তিনি বলেন, ‘এটা অ্যাবসুলুয়েটলি মানুষের হাড়। ডাক্তারি পরিভাষায় এটাকে আমরা বলি প্যালভিস ও হিপজয়েন্ট। এ দুটো মিলেই এখানে আমরা হাড়গুলো দেখতে পাচ্ছি।’
চিকিৎসকের এই বক্তব্যই আজ অকাট্য প্রমাণ—গাজী টায়ার্সের ওই ভবনটি স্রেফ পরিত্যক্ত কারখানা নয়, এটি এক জীবন্ত গোরস্তান। কিন্তু প্রশ্ন হলো, ভবনটিতে কারা আগুন দিয়েছিল? কেন আগুন দিয়েছিল? আর কীভাবে হারিয়ে গেল ১৮২টি প্রাণ?
এবার স্টার নিউজের লক্ষ্য সেই নেপথ্য কারিগরদের সন্ধান। গোলাম দস্তগীরের গ্রেপ্তারের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর ২৫ আগস্ট কারখানায় যান স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা রায়হান মীর ও তার লোকজন। ফের হামলা ও লুটপাটের ভয় দেখিয়ে কারখানার নিরাপত্তায় জনপ্রতি পাঁচ হাজার টাকায় এলাকাবাসীকে নিয়োগের দাবি জানান তিনি। কিন্তু কারখানা কর্তৃপক্ষ এই প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায়, হুমকি দিয়ে কারখানা ত্যাগ করে রায়হান বাহিনী।
সেদিনের প্রসঙ্গে কারখানা শ্রমিক সেলিম স্টার নিউজকে বলেন, ‘রায়হান বলছে আমরা ব্যবস্থা করবোনে (কারখানার নিরাপত্তা), আমাদের এই এই লাগবে। হয়তো টাকা-পয়সা হবে, কিন্তু কারখানার লোক রাজি হয়নি। পরে রায়হান জিদে আইয়্যা পড়ছে। বলছে আপনেগোরটা আপনেরাই দেহেন।’
কারখানার পাশেই খাদুন গ্রাম। গ্রামের উত্তর দিকে কারখানার দেয়াল ঘেঁষে খাদুন উত্তরপাড়া জামে মসজিদ। রায়হানরা বেরিয়ে যাওয়ার কিছুক্ষণ পরেই সেই মসজিদের মাইক থেকে গোলাম দস্তগীর গাজীর গ্রেপ্তারের খবর ঘোষণা দেওয়া হয়। ঘোষণার পর দস্তগীরের সঙ্গে জমি নিয়ে বিরোধ আছে এমন ব্যক্তিদের ডাকা হয় কারখানা থেকে প্রায় ১০০ মিটার দূরের রূপসী মোড়ে।
ঘটনার সত্যতা জানতে স্টার নিউজ কথা বলে সেই মসজিদের দায়িত্বে থাকা ইমামের সঙ্গে। ইমাম বলেন, ‘ঘোষণাটা আমি দেই নাই। আর ওই ঘোষণার সময় আমি উপস্থিত ছিলাম না। এখানে মূলত কে ঘোষণা করছে, সেটা জানা যায় নাই। চাবি নিয়ে আসছে একজন থেকে। তবে চাবি নিয়া আইসা কে ঘোষণা করল সেটা জানা যায় নাই। তবে ঘোষণা হইছে।’
সেদিন কে ঘোষণা দিয়েছিলেন? সেই উত্তর খুঁজতে স্টার নিউজের কথা বলে স্থানীয় অনেকের সঙ্গে। কিন্তু তারা প্রকাশ্যে মুখ খুলতে রাজি হয়নি। তবে মসজিদসংলগ্ন এক ব্যক্তি মুঠোফোনে জানালেন সেই তথ্য। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সেই ব্যক্তি স্টার নিউজকে বলেন, ‘রায়হান ঘোষণা দিয়েছে। বলেছে, জায়গা জমির কাগজ নিয়ে রূপসী মোড়ে যেতে।’
কারখানা থেকে আনুমানিক ১০০ মিটার দূরে রূপসী মোড়। মসজিদের মাইকে গোলাম দস্তগীর গাজীর গ্রেপ্তারের ঘোষণার পরপরই রূপসী মোড়ে মানুষের ঢল নামে। একইসঙ্গে আনন্দ মিছিল করে স্থানীয় বিএনপির একটি পক্ষ। বিল্লাল মোল্লা নামে মিছিলে থাকা একজন স্টার নিউজকে বলেন, ‘আমরা যখন স্ট্যান্ডে আইসা আমরা একটা দলীয় মিছিল দিমু বা একটা আনন্দ করমু, আমরা দেহি সাধারণ জনগণ, এলাকাবাসী অনেকে আইসা, কারও খুশিতে চোখ দিয়া কান্না আসছে, কেউ খুশিতে মিষ্টি খাওয়াইতেছে, আমাদের সৌভাগ্য হইসে তাদের মিছিলের সঙ্গে আমরা শরিক হইয়্যা বড়সড় করা। এটা আমাদের সৌভাগ্য।’
সাধারণ মানুষের সেই ভিড়ে কৌশলে মিশে যায় রায়হান ও তার অনুসারীরা। পরে সেই মিছিলের আড়াল থেকেই কারখানায় চড়াও হয় উন্মত্ত জনতা; শুরু হয় নির্বিচার লুটপাট।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কারখানার এক কর্মকর্তা মোবাইল ফোনে স্টার নিউজকে বলেন, ‘সকাল বেলার ওইগুলোই। মানে ওই যে লোকজন যারা আসছে বিএনপির লোকজন, আমাদের লোকজন নিতে হবে। এত টাকা দিতে হবে। কিন্তু ওদের লোক নেয় নাই কোম্পানি। এরপর ওরা রাগ করে চলে গেছে। যাওয়ার পর ওরা বাইরে দল পাকাইছে। দুপুরের পর দিয়া গাজী গ্রেপ্তারের খবর শুইনা এই বিজয় মিছিল বের হইছে। পরে এরা যারা বাইরে চলে গেছিল তারা ওই মিছিলে যোগ দিছে। এদেরকে কী বলছে না বলছে, সবগুলো একসঙ্গে আবার হামলা চালায়।’
আর সেই লুটপাটের একাংশের নেতৃত্ব দেয় রায়হানের ছোট ভাই বাবু ও তার লোকজন। খবর পেয়ে বরপার যুবলীগ নেতা শহিদুল ও তার লোকজন লুটপাটে যোগ দেয়। কিছুক্ষণের মাঝেই লুটপাটের উন্মাদনা রূপ নেয় রক্তক্ষয়ী সংঘাতে। মালামাল ভাগাভাগি নিয়ে শুরু হয় বাবু ও শহিদুল গ্রুপের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া।
প্রত্যক্ষদর্শী কারখানা শ্রমিক সেলিম বলেন, ‘আসরের পর থেকেই শুরু হইছে এদিকের গ্রুপ ও আর ওদিকের গ্রুপের মাঝে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া। আমি এইখানে খাড়ায়া খাড়ায়া দেহি। আমার ভাতিজা বাবু বাধা দিছে, আর হেরাও আমাগোর এইখানে বাধা দিছে। বাবু ও শহিদুলের সংঘর্ষ।’
জানা যায়, সংঘর্ষের খবর ছড়িয়ে পড়লে লুটপাটে যোগ দেয় আরও শত শত স্থানীয় লোক। মুহূর্তেই লুটপাটকারীরা ছড়িয়ে পড়ে কারখানা ভবনের প্রতিটি তলায়। মালামাল দখল নিয়ে ভবনের ভেতরও চলতে থাকে বাবু ও শহিদুল গ্রুপের সংঘর্ষ সংঘাত। আর এই লুটপাটের চরম উত্তেজনার মধ্যেই ঘটে বীভৎস ঘটনা। কলাপসিবল গেটে তালা দিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয় একটি পক্ষ। আর মুহূর্তেই সেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে পুরো ভবনে।
ঘটনার সময় সেখানে উপস্থিত এক অটোরিকশাচালক স্টার নিউজকে বলেন, ‘ভেতরে গ্যাঞ্জাম আছিল। এদের মধ্যে দুই গ্রুপের মাঝে গণ্ডগোল আছিল।’
সংঘর্ষের সেই আগুনে কারখানার ভেতরে আটকা পড়ে নিখোঁজ হয় অসংখ্য মানুষ। যাদের মধ্য থেকে পরবর্তীতে ১৮২ জনের এক দীর্ঘ তালিকা প্রকাশ করে প্রশাসন। এ ব্যাপারে কারাখানা শ্রমিক সেলিম বলেন, ‘বহুত মানুষ মারা গেছে। কিন্তু এর মাঝে কিছু মানুষের লিস্ট দিসে, কিছু মানুষের লিস্ট দেয় নাই।’
আর সেই প্রত্যক্ষদর্শী অটোরিকশাচালক বলেন, ‘শুধু মোবাইলের লাইট। যার কাছে মোবাইল আছে, তার কাছে শুধু লাইট আছে। অন্ধকারের মধ্যে কেউ হারায়া গেছে, কেউ পইড়া গেছে, ওপর থেইকা রড পইড়া মারা গেছে।’
ঠিক কোন পক্ষ ভবনটিতে আগুন দিয়েছে তা স্টার নিউজের অনুসন্ধানী দল নিশ্চিত হতে পারিনি। তবে বাবু ও শহিদুল গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ এবং সেখান থেকেই অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাতের কথা নিশ্চিত করেছেন একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী। তাদের একজন বলেন বাবু গ্রুপ আগুন লাগিয়েছে আবার আরেকজন বলেছেন শহিদুল গ্রুপ আগুন লাগিয়েছে। কিন্তু কোন গ্রুপ আগুন দিয়েছে এটা বলা কঠিন। দুই গ্রুপের মধ্যেই একটি পক্ষ গেটে তালা দিয়ে ভিতরে আগুন দিয়েছে।
ঘটনার নেপথ্যে বাবু ও শহিদুল গ্রুপের সংশ্লিষ্টতা যাচাই করতে স্টার নিউজ খুঁজে বের করে আরও একজন প্রত্যক্ষদর্শীকে, যিনি কারখানায় কাজ করেছেন প্রায় ২৬ বছর। তিনি বলেন, ‘প্রথমে বাবুর লোক মালামাল লুট শুরু করে। পরে সেখানে যোগ দেয় শহিদুলের লোক। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে মারামারি শুরু হয়।’
অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে বাবু ও শহিদুলের নানা অপরাধের তথ্য। বাবু একসময় ছাত্রলীগের রাজনীতিতে সক্রিয় থাকলেও, ভোল পাল্টে এখন বড় ভাই রায়হানের হাত ধরে হয়েছেন বিএনপির কর্মী। অন্যদিকে শহিদুল ডাকাত হিসেবে পরিচিত। যার বিরুদ্ধে হত্যা, অস্ত্র ও ডাকাতিসহ রয়েছে অন্তত ১৮টি মামলা। যুবলীগের একসময়কার এই দাপুটে নেতাও এখন ক্ষমতার পালাবদলে বিএনপির ছায়াতলে থাকার অভিযোগ রয়েছে।
এই ভয়াবহ ঘটনায় যাদের নাম বারবার উঠে এসেছে, স্টার নিউজ যোগাযোগের চেষ্টা করে সেই বাবু, শহিদুল ও রায়হানের সঙ্গে। সে দিন কী ঘটেছিল এই কারখানার ভেতর? আর তাদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগই বা কতটুকো সত্য। তাদের কথা অনুযায়ী স্টার নিউজের দিল পৌঁছায় তাড়াবো পৌর অডিটোরিয়ামের সামনে। প্রায় ঘণ্টাখানেক অপেক্ষার পর রায়হান মীর এলেও অনুপস্থিত থাকেন তার ভাই বাবু। এই অগ্নিকাণ্ডে তার নাম জড়ানোর বিষয়ে জিজ্ঞেস করলে রায়হান মীর স্টার নিউজকে বলেন, ‘এ বিষয়ে আমি জানি না কিছু। একটা সময় দুইটা গ্রুপ ছিল তারা হয়তো করেছে।’
এক পর্যায়ে রায়হান মীর কোনো প্রশ্নের উত্তর না দিয়েই ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।
এরপর শহিদুলের বাসায় গেলে তার মা একটি মোবাইল নম্বর দেন। তবে সেই নম্বরে একধিকবার ফোন করলেও নাম্বারটি বন্ধ পাওয়া যায়।
এ ব্যাপারে একটি তদন্ত প্রতিবেদন দেয় সরকার। যেখানে ১৮২ জন নিখোঁজের তথ্য উল্লেখ থাকলেও কোনো ব্যবস্থা নেয়নি রাষ্ট্র। আরও আশ্চর্যের বিষয় হলো, নিখোঁজদের বিষয়ে এখনও থানায় কোনো মামলা হয়নি।