মুছাব্বির হত্যা
আরেক আসামি ‘শুটার’ রহিম গ্রেপ্তার
ঢাকা উত্তরের স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মুছাব্বির হত্যা মামলার আরেক আসামি ‘শুটার’ রহিমকে নরসিংদী থেকে গ্রেপ্তারের খবর জানিয়েছে ডিবি।
শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) সকালে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) অতিরিক্ত কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, মুছাব্বির হত্যায় ব্যবহৃত অস্ত্রও উদ্ধার করা হয়েছে। এ পর্যন্ত ৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
এদিকে, মুছাব্বির হত্যা মামলার আসামি মো. বিল্লালকে দ্বিতীয় দফায় তিন দিনের রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
বৃহস্পতিবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট হাসিব উল্লাহ পিয়াস এ আদেশ দেন।
এদিন তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের ইন্সপেক্টর মুহাম্মদ আমিনুল ইসলাম তার ‘স্বীকারোক্তিমূলক’ জবানবন্দি রেকর্ডের আবেদন করেন।
আবেদনে বলা হয়, আসামি বিল্লাল হত্যার অপারেশনে মূল শুটারদের ঘটনাস্থলে আনা-নেওয়াসহ ‘পরিকল্পনাকারী ও সমন্বয়কারীর’ দায়িত্ব পালন করেন। হত্যাকাণ্ডে আর্থিক যোগানদাতা ও নির্দেশদাতার সঙ্গে সে নিজে যোগাযোগ করে লেনদেনের কথা স্বীকার করেছেন। আরও কারা জড়িত সে ব্যাপারে তিনি বিল্লাল অবগত। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি নিজের ‘দায় স্বীকার করে’ ‘স্বীকারোক্তিমূলক বিবৃতি’ দিয়েছেন। এ ঘটনার জন্য তিনি ‘অনুতপ্ত’। ‘অনুশোচনা থেকে’ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে চান তিনি।
এরপর বিল্লালকে বিচারকের খাসকামরায় নেওয়া হয়। তখন তিনি ‘স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি’ দিতে অস্বীকৃতি জানান। এরপর আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেয় বলে প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই আরিফ রেজা জানিয়েছেন।
গত ৭ জানুয়ারি রাত সাড়ে ৮টার দিকে রাজধানীর পশ্চিম তেজতুরী পাড়ায় হোটেল সুপার স্টারের পাশের গলিতে মুছাব্বিরকে গুলি করে মোটরসাইকেলে আসা আততায়ীরা। এ সময় তার সঙ্গে থাকা আবু সুফিয়ান ব্যাপারি মাসুদও গুলিবিদ্ধ হন।
মুছাব্বির একসময় ঢাকা মহানগর উত্তর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এবং কেন্দ্রীয় সংসদের যুগ্ম-সম্পাদকও ছিলেন। আর মাসুদ তেজগাঁও থানার ভ্যানশ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক।
স্থানীয়রা দুজনকে উদ্ধার করে বিআরবি হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে মুছাব্বিরকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে মাসুদকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
এ ঘটনায় মুছাব্বিরের স্ত্রী সুরাইয়া বেগম ৮ জানুয়ারি অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে তেজগাঁও থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
এরপর ১০ জানুয়ারি ঢাকা, গাজীপুর, মানিকগঞ্জ, ময়মনসিংহ ও নেত্রকোণা জেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে দুই ‘শুটারের’ একজন জিন্নাত, ‘মূল সমন্বয়কারী’ মো. বিল্লাল, ঘটনার পর আসামিদের আত্মগোপনে সহায়তাকারী আব্দুল কাদির এবং ঘটনার আগেরদিন ঘটনাস্থল ‘রেকি’ করা মো. রিয়াজকে গ্রেপ্তার করার কথা জানায় আইন শৃঙ্খলা বাহিনী।
সেসময় তাদের কাছ থেকে হত্যাকাণ্ডের সময় ব্যবহৃত নম্বর প্লেটবিহীন একটি মোটরসাইকেল এবং নগদ ৬ হাজার টাকা জব্দ করা হয়।
গত ১২ জানুয়ারি জিন্নাত আদালতে ‘স্বীকারোক্তিমূলক’ জবানবন্দি দেন। ওইদিন দুই ভাই বিল্লাল ও আব্দুল কাদিরের সঙ্গে রিয়াজকে সাত দিনের রিমান্ডে পাঠায় আদালত।
সেই রিমান্ড শেষে ১৯ জানুয়ারি আসামিদের আদালতে হাজির করেন তদন্ত কর্মকর্তা। বিল্লালকে আবারও রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করেন তিনি। পরে তার তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন বিচারক।