Search

Search

এক্সক্লুসিভ ও ব্রেকিং খবর পেতে আপনার মোবাইল নম্বরটি দিন

স্টার পরিবারে আপনাকে স্বাগতম। নিশ্চিন্ত থাকুন, আমরা স্প্যাম করি না।

সুন্দরবনে পর্যটকবাহী নৌযান ধর্মঘট, বিপাকে দর্শনার্থীরা

ধর্মঘটে বন্ধ নৌযান চলাচল | স্টার নিউজ
সুন্দরবনে পর্যটকবাহী নৌযান (জালি বোট) নিবন্ধনের আওতায় আনার জন্য নৌ-পরিবহন অধিদপ্তর ও কোস্টগার্ডের যৌথ অভিযানের প্রতিবাদে ধর্মঘট পালন করছে মালিকপক্ষ। সোমবার (৫ জানুয়ারি) সকাল থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য ধর্মঘট শুরু করে জালি বোট মালিকদের মোংলা বন্দর যন্ত্রচালিত মাঝি-মাল্লা সংঘ।

এর আগে, রোববার মোংলা ঘাট থেকে সুন্দরবনের করমজল ও বনের অন্যান্য এলাকায় চলাচলকারী পযটকবাহী ট্রলার ও জালি বোটকে নৌ-পরিহবন মন্ত্রণালয়ের নিবন্ধনের আওতায় আনতে অভিযান পরিচালনা করা হয়।

দিনব্যাপি ট্রলার চলাচল বন্ধ থাকায় সুন্দরবনে ঘুরতে আসা দর্শনার্থীরা বিপাকে পড়েছেন। যশোর থেকে ঘুরতে আসা আবু তালেব বলেন, 'আজ যে ধর্মঘট তা জানতাম না। অনেক কষ্ট করে এসেছি। কিন্তু সুন্দরবন যেতে পারলাম না'।
আবু তালেবের মত অনেকেই ফিরে গেছেন, নৌযান পেয়ে।

সুন্দরবনের করমজল পর্যটনকেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আজাদ কবির বলেন, 'সকাল থেকে তেমন কোনো নৌযান বা পর্যটক আসেনি। শুনেছি ট্রলার মালিকরা ধর্মঘট ডেকেছে'।

মোংলা বন্দর যন্ত্রচালিত মাঝি-মাল্লা সংঘের দাবি, মোংলায় পর্যটকবাহী ৪০০ জালি বোট রয়েছে। প্রতিটি বোটের ট্রেডলাইসেন্সসহ অন্যান্য কাগজপত্র রয়েছে। কিন্তু তারপরও হঠাৎ গতকাল অভিযান চালিয়ে তাদের অন্তত ৩০টি জালিবোটের ওপরের অংশের অবকাঠামো কেটে ও ভেঙে সেসব মালামাল নিয়ে যায় নৌপরিবহন অধিদপ্তর (খুলনা)। এতে বোটের সৌন্দর্যের পাশাপাশি পর্যটকদের স্বাচ্ছন্দ্যে বসার পরিবেশ নষ্ট হয়েছে। এর প্রতিবাদে ধর্মঘটের ডাক দিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত বোট মালিকেরা।

মোংলা বন্দর যন্ত্রচালিত মাঝি-মাল্লা সংঘের সাধারণ সম্পাদক সোহাগ হাওলাদার বলেন, 'আমরা মূলত ফরেন শিপের জালিবোট সংস্কার করে পর্যটকদের যাতায়েতের জন্য ব্যবহার করি। কোস্টগার্ডের নির্দেশনা অনুযায়ী আমাদের বোটে মাত্র ১০জন পযটক যাতায়েত করে। আমাদের সকল প্রকার বৈধ কাগজপত্র রয়েছে। আমরা ট্রেডলাইসেন্স করেছি, মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের অনুমতিও নিয়েছি আমরা। কিন্তু এখন হঠাৎ করে নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ আমাদের লাইসেন্স করতে বলছে। যেখানে প্রতিবছর ২৫ হাজার টাকা দিতে হবে। এটা আমাদের জন্য খুবই কষ্টকর'।

তিনি আরও বলেন, 'আমরা মাত্র তিন মাস ট্রলার চালাতে পারি, প্রতিবছর ২৫ হাজার টাকা দেওয়া অসম্ভব। এসব বলার পরেও, তারা আমাদের বোটের ওপরের অংশের অবকাঠামো কেটে ও ভেঙে সেসব মালামাল নিয়ে যায়। এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে আমরা সকাল থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য ধর্মঘট ডেকেছি'। এসব সমাধান না হওয়া পর্যন্ত ধর্মঘট চলবে বলে জানান এই শ্রমিক নেতা।

তিনি বলেন, '২৫ হাজার টাকা না হয়ে, লাইসেন্স ফি যদি ১০ হাজার টাকা হয় তাহলে হয়ত ট্রলার মালিকরা লাইসেন্স করতে পারে'।

নৌপরিবহন অধিদপ্তর, খুলনার পরিদর্শক মো. রাশেদুল আলম বলেন, 'অভ্যন্তরীন নৌ চলাচল অধ্যাদেশ-১৯৭৬ অনুযায়ী ১৬ হর্স পাওয়ার বা এর বেশি পাওয়ারের ইঞ্জিন ব্যবহারকারী সকল নৌযানকে নৌ-পরিবহন অধিদপ্তরের লাইসেন্সের আওতায় আসতে হবে। বিষয়টি বাস্তবায়নের জন্য কোস্টগার্ড ও নৌ-পরিবহন অধিদপ্তর যৌথ অভিযান পরিচালনা করেছে। আমরা ট্রলার ও জালি বোট মালিকদের বিষয়টি বুঝিয়েছি। যে আেইন আছে, তা মানতে হবে। কিন্তু কেউ আইন না মানার জন্য ধর্মঘট করলে আমাদের কী করার আছে'।

সম্পর্কিত খবর :