সাফ অনূর্ধ্ব-১৯ নারী চ্যাম্পিয়নশিপ
ভারতকে হারিয়ে এগিয়ে গেলো বাংলাদেশ
সাফ অনূর্ধ্ব-১৯ নারী চ্যাম্পিয়নশিপে শক্তিশালী ভারতকে হারিয়েছে বাংলাদেশ। অর্পিতা বিশ্বাস ও আলপি আক্তারের নৈপুণ্যে বাংলাদেশ ২-০ গোলে জিতে এগিয়ে গেছে।
আগের ম্যাচে ভুটানকে ১২ গোলে উড়িয়ে দিয়েছিল পিটার বাটলারের দল।
সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) নেপালের পোখারায় শুরু থেকে বাংলাদেশের রক্ষণে আতঙ্ক ছড়িয়ে খেলেছে ভারত। পঞ্চম মিনিটে গোলের ভালো সুযোগও পেয়েছিল। শেষ মুহূর্তে ভারতীয় ফরোয়ার্ড শট নিলেও তা লক্ষ্যে রাখতে পারেননি। পরের মিনিটে বাংলাদেশের বক্সে উড়ন্ত বলে মাথা ছোঁয়াতে পারলে গোল পেতে পারতেন পার্ল ফার্নান্দেজ।
সময় গড়াতেই ধীরে ধীরে ছন্দে ফেরে বাংলাদেশ। লেফট উইং দিয়ে আক্রমণে ওঠার চেষ্টা করেন মামনি চাকমা। ২৯ মিনিটে এই উইঙ্গারের দারুণ এক ফ্রি কিক থেকে লিড নেয় লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। ডান পাসের কর্নারের কাছ থেকে সরাসরি গোলে শট নেন মামনি চাকমা। বল ঠিকানা খুঁজে নিচ্ছিলো জালের। কিন্তু লাফিয়ে ফিস্ট করে বল বের করার চেষ্টা করেন ভারত গোলকিপার মুন্নি। তার হাতে লেগে বল মাটিতে পরার মুহূর্তে ফাইনাল টাচে জালে ঠেলে দেন অর্পিতা।
৩৭ মিনিটে ম্যাচে জোড়া পরিবর্তন আনেন বাংলাদেশ কোচ। মাঠে নামেন বন্যা খাতুন ও শান্তি মার্ডি। দারুণ খেলতে থাকা মামনির সঙ্গে ক্রানুচিং মারমাকে তুলে দেন পিটার বাটলার। তিন মিনিট পর আলপির গোলে ব্যবধান দ্বিগুণ করে বাংলাদেশ। ডান প্রান্ত দিয়ে আক্রমণে উঠে বক্সে ক্রস দেন তৃষ্ণা রানী। প্রতিপক্ষের দুই ডিফেন্ডারকে টপকে বলের লাইনে পা ছুঁইয়ে ম্যাচে দ্বিতীয়বারের মতো উদযাপনের সুযোগ এনে দেন নারীদের লিগে এবারের মৌসুমে সর্বোচ্চ ৩০ গোল করা আলপি।
৪২ মিনিটে নিজের দ্বিতীয় গোলের সুযোগ হারান আলপি। পূজার লং বল হেড মাটিতে নামান আলপি, কিন্তু গোলমুখের সামনে থেকেও গোল করতে পারেননি এই ফরোয়ার্ড। এগিয়ে আসা গোলকিপারের মাথার ওপর দিয়ে নেওয়া আলপির চিপ শট যায় গোলবারের ওপর দিয়ে।
প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ের প্রথম মিনিটে প্রীতিকার শট লাফিয়ে গ্লাভসবন্দি করেন বাংলাদেশ গোলকিপার ইয়ারজান বেগম। শেষ পর্যন্ত ২-০ গোলে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় বাংলাদেশ। বিরতির পর ভারত ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করে। তবে সফল হতে পারেনি। ৪৯ মিনিটে বক্সে ভারত অধিনায়ক জুলান নংমাইথেমের ভলি একটুর জন্য জাল খুঁজে পায়নি। সুযোগ পেয়ে বাংলাদেশও আক্রমণে উঠে। ৫৬ মিনিটে বক্সের সামনে ভারতের ডিফেন্ডার থান্ডা মনির কাছ থেকে বল কেড়ে নেন মুনকি। সামনে ছিল ভারতের চার-পাঁচজন খেলোয়াড়। তাদের উপর দিয়েই পোস্টে জোরালো শট নিয়েছিলেন বাংলাদেশ মিডফিল্ডার। কিন্তু লাফিয়ে কর্নারের বিনিময়ে মুনকিকে গোলবঞ্চিত রাখেন ভারতের গোলকিপার মুন্নি।
৭০ মিনিটে ভারতের একটি প্রচেষ্টা জয়নব বিবি ক্লিয়ার করে দলকে গোল হজম করা থেকে রক্ষা করেছেন। শেষ পর্যন্ত দুই গোলে জয় নিশ্চিত করে মাঠ ছাড়ে বাংলাদেশ।