ফ্যাশনের ভাষা বদলে দেওয়া নারী কোকো শ্যানেল
ফ্যাশন যখন কেবল সৌন্দর্যের অনুষঙ্গ ছিল, তখনই তা হয়ে উঠেছিল আরাম, স্বাধীনতা আর আত্মপ্রকাশের ভাষা- এই বদলের নেপথ্যে ছিলেন কোকো শ্যানেল। পুরো নাম গ্যাব্রিয়েল বোনুর শ্যানেল। ১৮৮৩ সালে ফ্রান্সে জন্ম নেওয়া এই নারী নিজের সংগ্রাম, সাহস আর দৃষ্টিভঙ্গি দিয়ে নারী ফ্যাশনে এনে দেন বিপ্লব।
শ্যানেল করসেটের কঠোরতা ভেঙে নারীদের জন্য পরিচয় করিয়ে দেন ঢিলেঢালা পোশাক, জার্সি কাপড় আর সাদামাটা নকশা। নারীদের বনেতের বদলে হ্যাটের ব্যবহার শুরু করাও অনেকটা তারই কীর্তি।
শ্যানেলের হাত ধরেই জনপ্রিয় হয় ‘লিটল ব্ল্যাক ড্রেস’, যা আজও অভিজাত ও চিরকালীন ফ্যাশনের প্রতীক। পুরুষদের পোশাক থেকে অনুপ্রেরণা নিয়ে নারীদের জন্য প্যান্ট, ব্লেজার ও স্যুটকে গ্রহণযোগ্য করে তোলেন তিনি। ১৯২১ সালে চালু হওয়া‘শ্যানেল নং৫’নারীর সুগন্ধির স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিয়েছিল, যা হয়ে ওঠে নারীর আত্মবিশ্বাসের প্রতীক।
কোকো শ্যানেল বিশ্বাস করতেন, ফ্যাশন বদলায়, কিন্তু স্টাইল চিরকালীন। তার এই দর্শন আজও বিশ্ব ফ্যাশনে প্রাসঙ্গিক। ১৯৫৭ সালে তিনি ফ্যাশনে অস্কার পুরস্কার পান।
একজন অনাথ আশ্রমে বেড়ে ওঠা মেয়ের বিশ্ববিখ্যাত ফ্যাশন আইকনে পরিণত হওয়ার গল্প প্রমাণ করে শ্যানেল শুধু পোশাক নয়, বদলে দিয়েছিলেন নারীর চলার পথ।
১৯৭১ সালের ১০ জানুয়ারি প্যারিসের হোটেল রিটজ এ নিজস্ব অ্যাপার্টমেন্টে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন বিশ্বখ্যাত এই ফ্যাশন ডিজাইনার। শত শত ভক্ত চার্চ অফ ম্যাডেলিনে শ্যানেল স্যুট পরেই এই কিংবদন্তী ডিজাইনারকে শেষ বিদায় জানাতে এসেছিলেন।
আজ এই ফ্যাশন আইকনের প্রয়াণ দিবস। এই একবিংশ শতাব্দীতেও আত্মবিশ্বাসী ও প্রগতিশীল নারীদের জন্য কোকো শ্যানেল এক অপ্রতিদ্বন্দ্বী আদর্শ।