স্মরণে সুমিতা দেবী
স্বাধীনতার সুর থেকে চলচ্চিত্রের আলো
বাংলাদেশের চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন ইতিহাসে যে ক’জন নারী শিল্পী নিজের অভিনয়গুণে সময়কে অতিক্রম করে স্মরণীয় হয়ে আছেন, সুমিতা দেবী তাঁদের মধ্যে অন্যতম। ২০০৪ সালের ৬ জানুয়ারি, তিনি চলে যান না ফেরার দেশে, তবে রেখে যান অভিনয়ের এক সমৃদ্ধ উত্তরাধিকার।
তাঁর মূল নাম হেনা ভট্টাচার্য। তবে চলচ্চিত্রকার ফতেহ লোহানী ‘আসিয়া’ সিনেমাতে হেনা নাম পাল্টিয়ে সুমিতা দেবী রাখেন। ধর্মান্তরিত হয়ে তার নতুন নামকরণ হয় নিলুফার বেগম। খ্যাতিমান চলচ্চিত্র পরিচালক জহির রায়হান ছিলেন তার স্বামী।
মঞ্চ, বেতার, টেলিভিশন ও চলচ্চিত্র, সব মাধ্যমেই ছিল তাঁর সাবলীল বিচরণ। ষাটের দশক থেকে শুরু করে অভিনয় করেছেন প্রায় ২০০টিরও বেশি চলচ্চিত্রে। নায়িকার প্রধান চরিত্রে অভিনীত চলচ্চিত্রের সংখ্যা প্রায় পঞ্চাশটি। পর্দায় তিনি কখনো স্নিগ্ধ জননী, কখনো দৃঢ়চেতা নারী, আবার কখনো সমাজের নীরব কণ্ঠস্বর, প্রতিটি চরিত্রেই ছিল বাস্তবতার গভীর ছাপ।
মুক্তিযুদ্ধের সময় স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রে শিল্পী হিসেবে তাঁর অবদান ইতিহাসের অংশ। চকচকে নায়ক-নায়িকার ভিড়ের আড়ালে থেকেও সুমিতা দেবী প্রমাণ করেছিলেন, অভিনয়ের আসল শক্তি নীরবতা ও গভীরতায়।
সুমিতা দেবী তার চলচ্চিত্র জীবনে প্রায় চার দশক কাল সময় অতিবাহিত করেছিলেন। বাংলা সিনেমার পাশাপাশি বেশ কয়েকটি উর্দু সিনেমাতেও অভিনয় করেছেন তিনি। এছাড়াও, শতাধিক চলচ্চিত্রে সহ-নায়িকা কিংবা পার্শ্ব চরিত্রে অভিনয় করেন।