Search

Search

এক্সক্লুসিভ ও ব্রেকিং খবর পেতে আপনার মোবাইল নম্বরটি দিন

স্টার পরিবারে আপনাকে স্বাগতম। নিশ্চিন্ত থাকুন, আমরা স্প্যাম করি না।

যুবককে খুঁটিতে বেঁধে কুপিয়ে জখম, হাত-পা প্রায় বিচ্ছিন্ন

ছবি: স্টার নিউজ
চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলায় আবু সুফিয়ান সিজু (২৫) নামে এক যুবককে বৈদ্যুতিক খুঁটির সঙ্গে বেঁধে কুপিয়ে জখম করা হয়েছে। এতে তার দুই হাত ও এক পা প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। গুরুতর অবস্থায় আবু সুফিয়ানকে রাজধানীর জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানে (পঙ্গু হাসপাতাল) ভর্তি করা হয়েছে।

বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) রাতে উপজেলার শ্যামপুর ইউনিয়নের উমরপুরঘাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আহত সিজু শ্যামপুর-বাজিতপুর গ্রামের রবিউল ইসলামের ছেলে।

তবে এই ঘটনায় মামলা করা হলে শুক্রবার রাতে শ্যামপুর খোচপাড়া গ্রামের দুই যুবককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তারা হলেন- শাহ আলম (২২) ও তার ভাই আবদুর রাজ্জাক (২৩)। উমরপুর ঘাটে তার ওষুধের দোকান আছে। সেই দোকানের সামনেই ঘটনাটি ঘটে।

সুফিয়ানের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার সন্ধ্যায় উমরপুরঘাট এলাকায় এক কিশোরীকে কয়েক দিন আগে এক যুবক অপহরণ করে। এ ঘটনায় মামলা করলে পুলিশ মেয়েটিকে উদ্ধার করে এবং যুবককেও গ্রেপ্তার করে। কিন্তু জামিনে বের হয়ে সেই যুবক আবার মেয়েটিকে উত্ত্যক্ত করে। গত বুধবার বিকেলে সুফিয়ান উমরপুর ঘাটে মেয়েটিকে বিরক্ত না করতে ওই যুবককে শাসাচ্ছিলেন। তখন একদল দুর্বৃত্ত সিজুকে পথরোধ করে ধরে নিয়ে যায়। পরে তাকে একটি বৈদ্যুতিক খুঁটির সঙ্গে বেঁধে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কোপানো হয়। হামলাকারীরা সিজুর দুই হাতের কব্জি এবং পায়ের পাতায় গুরুতর জখম করে রক্তাক্ত অবস্থায় ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। চিৎকার শুনে স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে উদ্ধার করে প্রথমে তাকে শিবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে তাৎক্ষণিকভাবে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পরে ঢাকা পঙ্গু হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

সুফিয়ানের মামা আজিজুল বলেন, ‘এ ঘটনায় শাহ আলম ও আবদুর রাজ্জাককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তারা দুজন আমার ভাগ্নেকে বৈদ্যুতিক খুঁটিতে বেঁধে রেখেছিল। আর যারা কুপিয়েছে তারা এখনও ধরা পড়েনি। তারা জামায়াতের কর্মী।’

অভিযোগের বিষয়ে শিবগঞ্জ উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি বাবুল ইসলাম বলেন, ‘এটি কারা করেছে আমরা জানি না। এটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ঘটানো হয়েছে। জামায়াতের জড়িত থাকার প্রশ্নই আসে না। এ সন্ত্রাসী ঘটনার প্রতিবাদে এলাকার মানুষ গতকাল শুক্রবার মানববন্ধন করেছে।’

এ বিষয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এএনএম ওয়াসিম ফিরোজ বলেন, ‘এ ঘটনায় গত বৃহস্পতিবার রাতে সুফিয়ানের বাবা রবিউল ইসলাম বাদী হয়ে তিনজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা ১০ থেকে ১৫ জনকে আসামি করে শিবগঞ্জ থানায় একটি মামলা করেছেন। এরপর আমরা দুজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছি। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদেরও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। তবে তারা রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত আছে কি-না আমাদের জানা নেই। এ বিষয়ে আরও তদন্ত চলছে। আশা করছি, বাকি জড়িতরাও গ্রেপ্তার হবে।’

সম্পর্কিত খবর :